জীবনের শেষ সূর্যোদয়!
আজ আমি খুব বিষন্ন মন নিয়ে পোস্ট লিখতে বসেছি। কিছু কিছু বিষয় আমাদের মনে অনেক বেশি আঘাত করে তবুও সেগুলো মুখে বলে বা লিখে প্রকাশ করাটা কঠিন। মনের ভেতরের সকল খারাপ লাগা, যন্ত্রনাগুলো প্রকাশ করার মাধ্যম হয়ত নেই।
আজকে যে ঘটনাটা আপনাদের মাঝে শেয়ার করবো সেটা শোনা বা দেখার পর সবার চোখে জল আসতে বাধ্য। বিশেষ করে আমরা যারা স্বচক্ষে দেখেছি তাদের মধ্যে কাঁদে নি এমন কেউ নেই।
আমার কথাগুলো হয়ত আপনাদের কাছে খানিকটা অবাক লাগছে তাই না, চলুন তাহলে সম্পূর্ণ বিষয়টা আস্তে আস্তে আপনাদের সাথে শেয়ার করি।
এখন ধান কাটার মৌসুম চলছে, তবে আমাদের এলাকায় আমন ধানের চাষ করা হয়। খুব মানুষই রয়েছে যারা এই সময়ে গরমের ধান চাষ করে। তাই আমাদের এলাকার লোকজন কাজ করতে অন্য এলাকায় যায় প্রতিদিন। কৃষক ও খেটে খাওয়া মানুষদের জীবন যে কতটা কষ্টের সেটা সকলে জানি।
আমাদের খুলনা জেলার ভিতরে রায়েরমল নামে একটা জায়গায় এখন ধানের কাজ করে আর ওখানে অনেকেই কাজ করতে যায়। আমাদের এলাকা থেকে গাড়িতে যেতে প্রায় ২ ঘন্টা ৩০ মিনিটের মতো সময় লাগে।
এখানকার লোকজন রাত ৩.৩০ তিনটার দিকে বাড়ি থেকে রওনা হয় তারপর ওখানে পৌঁছানোর পর জমির মালিকরা তাদের একদিনের জন্য টাকা দিয়ে কাজ করতে নিয়ে যায় আর কাজ শেষ করে প্রতিদিন বাড়ি আসতে রাত প্রায় ৯ টা বেজে যায়। এই রুটিন চলতে থাকে প্রতিদিন।
বিগত রোববার, আমি সকালে তখনও ঘুম থেকে উঠিনি। ঘুমের মধ্যে শুনতে পেলাম আমার ফোন বাজছে। ঘুমের ঘোরে ফোন তুললাম, ফোন ধরে বুঝতে পারলাম আমাদের পাড়ার আমার এক কাকা ফোন করেছে।
তার মাধ্যমে জানতে পারলাম, আমাদের এখান থেকে লোকজন যে গাড়িতে কাজ করে কাজ করতে যায় সেটা নাকি অ্যাক্সিডেন্ট করেছে। কথাটা শুনেই যেন আমার ঘুম ঘুম ভাব কোথাও উধাও হয়ে গেলো, উঠে বসে তার সাথে কিছুক্ষণ কথা বললাম।
সেই গাড়িতে আমার এক দাদা ছিলো। আমাদের বাড়ির পাশে তাদের বাড়ি। আমাদের কমিউনিটিতে আমার ভাই মানে অভিষেক কাজ করে সেটা হয়ত আপনারা জানেন, দাদা ওদের পরিবারের।
সংবাদ শোনা মাত্রই, ঘটনার সত্যতা যাচাই করার জন্য আমি বিছানা ছেড়ে উঠে পড়লাম এবং চলে গেলাম অভিষেকদের বাড়ি। ওখানে যাওয়ার পর মনটা আরও বেশি খারাপ হয়ে গেলো - জানতে পারলাম দাদা ঘটনাস্থলে সাথে সাথে মারা গেছে আর অন্য একজন গুরুতর আহত, বাচার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
খানিক বাদেই আমি পরীক্ষা দিতে যাবো আর এদিকে এমন একটা ঘটনা ।
বড় ট্রাকের সাথে অ্যাক্সিডেন্ট করেছে, ট্রাকের চাকা দাদার মাথার উপর দিয়ে চলে গেছে তাহলে বুঝতেই পারছেন কি অবস্থা হয়েছে। আমি চাইলে ঘটনার ছবিগুলো আপনাদের সাথে শেয়ার করতেই পারতাম তবে এত বিকৃত ও রক্তাক্ত ছবি শেয়ার করা ঠিক হবে না।
আর অন্য যেজন আহত হয়েছে সে আমার ছোটবেলার বন্ধু, পাঠশালা থেকেই একসাথে বড় হয়েছি। ওর মা মারা গিয়েছে একদম ছোটবেলায়, আমাদের এখানে ওর মামা বাড়ি, এখানে দিদিমার কাছেই বড় হয়েছে। অভাবের কারনে লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গিয়েছে দশম শ্রেণি পাস করার পরই। ওর শরীরের ডান পাশের উপর দিয়ে ট্রাকের চাকা চলে গেছে৷ ডান হাত শরীর থেকে আলাদা হয়ে গেছে আর ডান পায়ের অবস্থা ভয়ানক। সেই সাথে মাথা ফেটে গেছে।
পোস্ট লিখছি আর চোখের সামনে ওদের রক্তাক্ত ছবিগুলো ভেসে উঠছে। দাদার ছোট ছোট দুটো সন্তান। এক মেয়ে আর এক ছেলে, দুজনই ছোটো। ওদের কি হবে এটা ভেবেই খারাপ লাগছে। মেয়েটা হয়ত একটু একটু করে সব কিছু বুঝতে পারছে তবে ছেলেটার তো এখনও বাবা হারানোর কষ্টের অনুভূতি পাওয়ার মতো বয়স হয়নি।
একজনের জীবন তো শেষ, জানি না অন্যজনের কি হবে। সব টাই ঈশ্বরের উপর। আমরা তো শুধু ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনাই করতে পারি! ঈশ্বরের পরিকল্পনার বাইরে আমরা কেউ যেতে পারি না। কে জানতো, এটাই হতে যাচ্ছে দাদার জীবনের শেষ সূর্যোদয়!
Thank you for sharing on steem! I'm witness fuli, and I've given you a free upvote. If you'd like to support me, please consider voting at https://steemitwallet.com/~witnesses 🌟
মানুষের জীবন ক্ষণস্থায়ী কে কখনোই পৃথিবী ছেড়ে চলে যাবে কেউ জানে না আমার কাছে মনে হয় প্রতিটা সময় অবশ্যই মৃত্যুকে স্মরণ করা উচিত যেই মানুষটা নিজের পরিবারের খোরাক যোগানোর জন্য সকাল বেলা বেরিয়ে পড়েছিল কাজ করতে যাবে সেই মানুষটাই দিনশেষে এই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেল দোয়া করে তিনি যেন পরকালে ভালো থাকেন আসলে এই মর্মান্তিক ঘটনাগুলো অনেক হৃদয়বিদারক হয়ে থাকে।