একাকী কিছুক্ষণ!
একটা বিষয় ভাবলে খুব অবাক লাগে, সৃষ্টিকর্তা প্রতিটা মানুষকে ভিন্ন ভিন্ন চেহারা দিয়েছেন। এক জনের সাথে অন্যজনের মিল থাকার সম্ভবনা খুব কম। শুধুমাত্র যমজ ভাই বা বোনদের মধ্যে চেহারার কিছুটা মিল থাকে।
চেহারার সাথে সাথে আমাদের প্রত্যেকের মনের চাওয়াগুলো ভিন্ন। প্রত্যেকের নিজস্ব ভাবনা রয়েছে আর সেটাই তার জগৎ। প্রত্যেকের ভাবনাগুলো একান্তই তার নিজের, সেখানে কেউ ভাগ বসাতে পারে না।
পৃথিবীতে এই একটা বস্তুই হয়ত কেউ অন্যের থেকে জোর করে নিতে পারে না সেটা হলো তার ভাবনা বা কল্পনার জগৎ। প্রত্যেকেই প্রত্যেকের কল্পনার জগতে বসবাস করে।
মাঝে মাঝে ভয় লাগে, এমন দিন আসবে না তো যেদিন সম্পত্তির মতো কল্পনার জগতটাও অন্যের থেকে ছিনিয়ে নেবে! সেদিন হয়ত মানুষ সত্যি অসহায় হয়ে পড়বে কারন কল্পনার জগতেই মানুষ তার না পাওয়া ইচ্ছেগুলোর পূর্নতা দেয়।
যদি এমন দিন আসে তাহলে হয়ত মানুষ কল্পনা করতেই ভুলে যাবে। কি সব পাগলের প্রলাপ করছি! তবে সত্যি ভয় লাগে, মানুষ স্বার্থের জন্য সব করতে পারে তাহলে এটা কেন নয়!
যদি এমন দিন আসে তাহলে অবাক হবো না! কারন প্রস্তুতি নিয়েই রেখেছি আগে থেকে!
তবে আপনি কি বলতে পারেন যে আপনার কল্পনার দুনিয়াটা কেউ কেড়ে নিচ্ছে না??
অবশ্যই নিচ্ছে, শুধু কেঁড়ে নিচ্ছে না বরং সেটাকে ভেঙে চুরে তছনছ করে দিচ্ছে! কিভাবে?
একবার ভাবুন তো, কেউ ছদ্মবেশ ধরে মুখোশের আড়ালে আপনার কাছ থেকে আপনার স্বপ্নগুলো, আপনার কল্পনার জগতে প্রবেশ করতে চাওয়া মানুষগুলোকে কয়েকদিন পর বড্ড অচেনা মনে হবে!
বাস্তবে সেই মানুষগুলো আপনার ভাবনার জগতকে ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। যাই হোক, নিজের অনুভূতিগুলো অন্যের সাথে শেয়ার করার চাইতে নিজের মনে গোপন রাখাটাই ভালো!
আজকের দিনটা বেশ রৌদ্রজ্বল, ধূসর মেঘের আড়ালে নীল আকাশ যেন উঁকি দিচ্ছে, বেশ ভালো লাগছে কিন্তু দেখতে!
সকালে খাওয়ার পর রাস্তায় এসেছিলাম কিছুক্ষণের জন্য। তখন এই ফটোগ্রাফিগুলো করেছিলাম।
ছোটবেলায় আনন্দ পাওয়ার জন্য অনেক ছোট ছোট মুহুর্তই যথেষ্ট ছিলো। আর এখন সময়ের সাথে সাথে আমাদের সুখটাও অনেক দামী হয়ে গেছে। অল্পতে সুখী হওয়া ভুলতে বসেছি প্রায়।
এই পাতাগুলো দেখে ছোটবেলার কথা মনে পড়লো। পাতাগুলো দিয়ে ফুলের মতো তৈরি করতাম।
এখন তৈরি করলে হয়ত ছোটবেলার মতো ওতোটা আনন্দ পাবো না বা অনুভূতিটা আগের মতো হবে না। তবে মন থেকে ইচ্ছে করলো তৈরি করতে। তাই গাছ থেকে পাতা ছিঁড়ে নিলাম।
তারপর ছোট্ট ডাল থেকে পাতাগুলো ছিঁড়ে তৈরি করে ফেললাম ফুল আকৃতির নকশাটা। এগুলোর হয়ত এখন কোনো মূল্য নেই তবে একসময় ছিলো। তখন নিজেরা তৈরি করতে পারতাম না, দাদু ঠাকুমা বা অন্যেরা তৈরি করে দিতো আর আমি হাতে ধরে লাগতাম।
এখন কোনো বাচ্চাকে আর এসব পেলে আনন্দ পেতে দেখি না। এটা কি তাদের দোষ ?
হয়ত না - কারন আমরাই তো ওদের আনন্দ, সুখের ভিতগুলো পাল্টে দিয়েছি নতুন নতুন খেলনা গিফট করে।
দামি দামি খেলনা পেলে এসব নিতে কার মন চায়, বলুন তো। সময় পাল্টে না, পাল্টে যায় অনুভূতিগুলো আর তার জন্য আমরাই দায়ী!
আপনার কথাগুলো অনেকের কাছে পাগলের প্রলাপ মনে হতে পারে, কিন্তু গভীরভাবে ভেবে দেখলে কথাগুলোর কিন্তু অনেক যুক্তি রয়েছে।
আমরা এই পৃথিবীতে কোটি কোটি মানুষ বসবাস করি, সৃষ্টিকর্তা সবাইকেই সৃষ্টি করেছেন কিন্তু মজার বিষয় হল" কারো সাথে কোন মিল নেই"। হয়তোবা জমজ ভাই ও বোন, এক বাবা-মায়ের সন্তান হলে কিছুটা চেহারার মিল হতে পারে ।
কিন্তু মনের কোন মিল থাকে না, তাদের ভাবনা ও পরিকল্পনা সম্পূর্ণ ভিন্ন । বিশেষ করে গ্রামের ভাই বোনেরা সম্পত্তি নিয়ে অনেক ঝামেলা করে থাকে। অনেকে চাই, কাকে ঠকিয়ে কে বেশি সম্পত্তি নিতে পারে।
কিন্তু তারা এইটা মনে করে না ,কোন কিছুই শেষ সময় আমরা নিয়ে যেতে পারবো না। সবকিছুই থেকে যাবে। শুধু আমাদের সম্পর্ক গুলো নষ্ট হয়ে যায়।
আপনার পরবর্তী আকর্ষণীয় পোস্ট পড়ার অপেক্ষায় রইলাম।