ঐশীর জন্মদিন!
আজ থেকে দুই বছর আগে আমাদের পরিবারকে আলোকিত করে পৃথিবীতে আসে নতুন একটা ফুটফুটে শিশু। কদিন পর আমিও কাকা ডাক শুনতে পাবো এটা ভেবেই যেন মনের মধ্যে একটা অন্যরকম চাপা আনন্দ কাজ করছিলো যেটা সেই মুহুর্তে প্রকাশ করতে পারছিলাম না।
সেদিন সবাই বলছিলো, কাকা হয়েছো, কদিন পর বুঝতে পারবো, কাকা হওয়া কত মজা!
সেদিন হয়তো সেভাবে এই কথার গুরুত্ব দেয়নি তবে এখন বুঝতে পারছি যে কেন সেদিন সবাই এই কথা বলছিলো।
সেই ছোট্ট মেয়েকে সামলাতে আজ বাড়ির সবাই হিমশিম খাচ্ছে। বিশেষ করে আমাকে কাছে পেলে যে আমার অবস্থা খারাপ করে দেয়। সারা দিনে শুধুমাত্র যে সময়টা ঘুমায় সেই টুকু সময় শান্ত থাকে আর বাকি সময়টা বাড়ির এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত ছুটে বেড়ায় আর পিছন পিছন একজনকে থাকতে হয়!
আজ দু বছরে পা দিলো আমাদের ছোট্ট ঐশী। জন্মদিন উপলক্ষে সবাই কেক কেটে আনন্দ করে এবং এই দিনটা স্মরণীয় করে রাখার চেষ্টা করে।
তবে আমাদের বাড়িতে এই দিনটা একটু অন্য ভাবে পালন করার চেষ্টা করি আমরা। বিগত বছরও যখন ঐশী ১ম জন্মদিন ছিলো সেদিনটার মতো আজও বাড়িতে ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দিনটা পালন করি।
আমাদের সকল প্রতিবেশীকে সাথে নিয়ে এই বিশেষ দিনটা পালন করা হয়। শ্রীমদ্ভাগবত গীতা পাঠ ও ধর্মীয় আলোচনা করা হয়। ধর্মীয় আলোচনা শোনার মাধ্যমে আমরা আমাদের মনকে পবিত্র করতে পারি।
আজ সকাল থেকে বাড়িতে অনুষ্ঠানের তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে। আমি সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে স্নান সেরে নিলাম। তারপর নানা কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম। অনুষ্ঠানে সাউন্ড সিস্টেম ঠিক করার জন্য আমি ও অন্য একজন কাজ করছিলাম।
সবাই সবার মতো করে কাজ করছিলো। কেউ রান্নার কাজ, কেউ তরকারি কাটার কাজ আবার কেউ বা সামিয়ানা টাঙানোর কাজ। যেহেতু বেশ কিছু লোকের নিমন্ত্রণ রয়েছে তাই আমি ভ্যান গাড়ি ও জলের ড্রাম নিয়ে আমাদের কলে আসলাম জল নিতে। দুপুরের রোদের প্রখরতা এতো বেশি যে ঘেমে একাকার হয়ে যাচ্ছিলাম।
কাজের ফাঁকে ওদের সাথে একটু ছবি উঠতে চাইছিলাম কিন্তু ঐশী এতটা অশান্ত যে ছবি উঠতেই চাইছিলো না। এদিক ও দিক ছোটাছুটি করছিলো তাই জোর করে একটা ছবি ওঠার চেষ্টা করলাম।
শ্রেষ্ঠা আমার অন্য দাদার মেয়ে। সে একটু বড় হয়েছে তাই বুঝিয়ে বললে শান্ত থাকে । তবে দুজন একজায়গায় হলেই পাল্লা দিয়ে দুষ্টামি।
শ্রেষ্টা আমার মেজ জেটুর ছেলের মেয়ে। সকালে আমাকে ঘুম থেকে ডেকে তোলার দায়িত্ব ওর। প্রতিদিন সকাল কাকা কাকা বলে ডাকতে থাকবে যতক্ষণ না পর্যন্ত আমি ঘুম থেকে উঠবো।
আমার বাবাকে ভাইডি আর মা কে ছুটদি বলে ডাকে। সারা দিন যে এত দুষ্টামি করে যে বলে শেষ করা যাবে না।
তবে শ্রেষ্টা শুধু মাত্র একজনকেই ভয় পায় সে হলো গোপাল দাদা মানে কৃষ্ণ ঠাকুর ।
ও দুষ্টটামি করার সময় যদি ওকে বলা হয় যে, দুষ্টটামি করলে করলে গোপাল দাদা রাগ করবে তাহলে ও সাথে সাথে সেই কাজ করা বন্দ করে দেয়।
আমার মা পূজা দেওয়ার সময় ও পাশে বসে সব কিছু দেখে এবং বাড়িতে গিয়ে নিজে সব কিছু করতে থাকে। প্রতিদিন স্নান করে পূজা দেওয়া, শিব ঠাকুর কে স্নান করানো, গীতা পাঠ করা ( যেহেতু পড়তে পারে না তাই কিছু সময় পাতা উল্টে রেখে দেয়।) মায়ের কাছ থেকে যা যা দেখে যায় সেটা করে বাড়িতে গিয়ে।
যাই হোক, অনেক দিন বাদে আজ স্মরণীয় করে রাখার মতো একটা দিন পার করলাম। আজকের মতো এখানেই বিদায় নিচ্ছি। সকলের জন্য অনেক শুভকামনা রইল। ভালো থাকবেন।
ঐশীর জন্মদিনে অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন রইল সৃষ্টিকর্তা তাকে সবসময় সুস্থতা দান করুক এই কামনা করি এবং তার সামনের দিনগুলো সুন্দরভাবে কাটুক। কাকা হওয়ার আনন্দটা আমি এখন বুঝতে পারছি আমিও অপেক্ষায় আছি কবে আমাকে কাকা বলে ডাকবে ইতিমধ্যে আমাদের একটি ছোট্ট মামনি এসেছে যাইহোক ঐশীর জন্মদিনে অনেক আনন্দ মজা করেছেন আপনার পোস্ট পড়ে বুঝতে পারছি ভালো লাগলো আপনার আজকে পোস্টটি পরিদর্শন করে।