খুব মনে পড়ে!
Hello Everyone,,,
প্রতিদিনের মতো কাল রাতেও ঘুমাতে গিয়েছিলাম। ঘুমাতে ঘুমাতে প্রায় রাত ২ টা। ঘরের আলো বন্ধ করে আমি শুয়ে পড়লাম।
অন্যান্য দিন শুয়ে পড়ার কিছুক্ষণের মধ্যে ঘুম চলে আসে। তবে কাল যেন জানি ঘুম আসছিলো না। তার কারন ?
কারন -
কেন জানি দাদুর কথা খুব বেশি মনে পড়ছিলো।
রাতে শুয়ে পড়ার আগে যখন আলো বন্দ করবো ঠিক তখনই ঘরে টানানো দাদু, ঠাকুমার সাথে আমার ছোটবেলার ছবিটা চোখে পড়ে।
তারপর থেকেই দাদুর - ঠাকুমার কথা ভীষণ মনে পড়ছিলো। বিশেষ করে দাদুর কথা!
দাদুকে হারিয়ে এই সাতটা বছর পার হয়ে গেলো। একটা সময় ভাবতাম কিভাবে থাকবো এই মানুষগুলোকে ছাড়া?
তবে দেখুন, এখন তো তাদের ছাড়াই দিন পার করছি!
তবে হ্যা, মাঝে মাঝে তাদের কথা এত বেশি মনে পড়ে যে চোখে জল চলে আসে। মায়ার বন্ধন থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব নয় সেটা এই অল্প দিনের জীবনে বুঝতে পেরেছি।
মাঝে মাঝে দাদু কে নিয়ে স্বপ্ন দেখি। স্বপ্নের মধ্যে দেখি, সেই ছোট্ট আমি দাদুর সাথে আগের মতো খেলা করছি। দাদু ঘুড়ি বানিয়ে দিচ্ছে, ঠিক যেমন আগের দিনগুলো ছিলো!
তখন স্বপ্নটাকে একবারের জন্য সত্যি করে পেতে খুব মন চায়। তবে বাস্তবে সেটা সম্ভব নয়!
আমার দাদু সারা দিন বাড়িতে এটা - ওটা কাজ করতেই থাকতো। দাদু বিশেষ করে গরু পালন করতে ভীষণ ভালোবাসতো। গরুর খড় কেটে দেওয়া, খাবার যোগাড় করা।
দাদু ভীষণ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন মানুষ ছিলো। বাড়ির আশেপাশে যদি কোথায় ময়লা দেখতো সেটা পরিষ্কার করা আসলে গ্রামে কাজের কোনো শেষ নেই। বাবা এত করে কাজ করতে বারন করতো কিন্তু দাদু বলতো, কাজ না করলে আমি অসুস্থ হয়ে পড়বো!
সারাদিন কাজ করতো আর গুন গুন করে ঠাকুরের গান গাইতো-
( হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে,
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে)
সব সময় মুখে ঠাকুরের নাম লেগে থাকে। একটা কথা আছে না, হাতে কাজ মুখে নাম। দাদু সব সময় তেমনই ছিলো।
আমরা সাধারণত দুপুরে খাবার খাওয়ার পর না ঘুমিয়ে পারি না, তবে আমার দাদু ছিলো ভিন্ন স্বভাবের।
প্রতিদিন দুপুরে খাবার খাওয়ার পর ধর্মীয় গ্রন্থ পাঠ করতে বসতো। দুপুরে ঘুমিয়ে সময় নষ্ট করতো না।
দাদু সময় কে খুব মূল্য দিতো। সব কিছু সময় মতো করতো। সময় মতো খাওয়া দাওয়া থেকে শুরু করে সব কিছু।
সব থেকে বেশি মিস করি দাদু ঠাকুমার ঝগড়া। দাদু আমাদের বাড়িতে থাকতো আর ঠাকমা থাকতো আমার সেজ জেটুর বাড়িতে। সকাল হতেই ঠাকুমা আমাদের বাড়িতে চলে আসতো।
দুজন গল্প করতো আর মাঝে মাঝে ঝগড়া যেটা দেখতে আমার ভীষণ ভালো লাগতো। যতই ঝগড়া করুক সকাল হতেই দু'জন আবার একজায়গায় হতো। আর এখনকার সম্পর্ক?? সে কথা না বলাই ভালো।
যাই হোক, ভীষণ মনে পড়ছে আগের কথাগুলো তাই আপনাদের সাথে শেয়ার করা। যাই হোক, আজকের মতো এখানে বিদায় নিচ্ছি, সকলে ভালো থাকবেন।