বন্ধুকে দেখতে যাওয়া!
আমি আমার বিগত পোস্টে আপনাদের সাথে শেয়ার করেছিলাম একটা দুর্ঘটনার কথা। আমি চেষ্টা করেছিলাম আপনাদের সাথে সেই দুর্ঘটনার কিছুটা বর্ননা করতে।
সত্যি বলতে, বাস্তব চিত্রগুলো লিখে কতটুকু স্পষ্টতা দেওয়া সম্ভব সেটা জানি না। দুর্ঘটনার পর দিন থেকে সব সময় যেন মনের ভিতর অন্য রকম একটা দুশ্চিন্তা আর খারাপ লাগা কাজ করছে।
এই তো, দুর্ঘটনার একদিন আগে সন্ধ্যার সময় আমি পড়তে বসেছি হঠাৎ কারেন্ট চলে গেলো তখন বাতাসে রাস্তার পাশে একা বসেছিলাম। তখন দাদা সেখান দিয়ে যাচ্ছিলো আমি একা বসে আছি দেখে কিছু সময় দাঁড়িয়ে আমার সাথে কথা বললো !
দাদা ক্রিকেট খেলতে ভীষণ ভালোবাসতো। আমাদের সাথে প্রায়ই ক্রিকেট খেলতো কত মজা করতো, বয়সের পার্থক্য ভুলে গিয়ে। সেসব স্মৃতিগুলো যেন চোখের সামনে জল জল করছে।
আর বন্ধু? নাম অভিজিৎ!
ছোটবেলার মুহুর্তগুলো কেটেছে যাদের সাথে তার মধ্যে অভিজিৎ একজন। মা হারানোর দুঃখ আদৌও কখনও কি ভোলা যায়?
কখনও ভোলা যায় না।
তবে অভিজিৎ আমাদের সাথে খুব মেলামেশা করে, আনন্দ করে, সময় কাটিয়ে হয়ত নিজের কষ্টগুলো চাপা দেওয়ার চেষ্টা করতো।
তবে পরিক্ষার পর যখন আমরা সবাই মাকে নিয়ে স্কুলে যেতাম পরিক্ষার রেজাল্ট আনার জন্য তখন ওর মন খানিকটা খারাপ থাকতো সেটা ওকে দেখেই বুঝতাম। আমাদের সামনে মাঝে মাঝে কেঁদে ফেলতো। আমরা সবাই চেষ্টা করতাম ওকে নিয়ে খেলাধূলা করে ওর মন ভালো রাখার!
নিয়তির নির্দয়তায় জন্মের পরই যে পরিক্ষা দেওয়া শুরু করেছে সে আরও একবার জীবনের চরম পরিক্ষার মুখোমুখি হয়েছে!
জানি না এই পরিক্ষায় ও উত্তীর্ণ হতে পারবে কিনা!
বুধবার আমার পরিক্ষা ছিলো, আগেই ঠিক করে রেখেছিলাম পরিক্ষা শেষ হওয়ার পর অভিজিৎ কে দেখতে যাবো।
ওর কাছে যাওয়ার আগে মনের ভিতর অনেক ভয় কাজ করছিলো। যখন ওর কাছে পৌঁছালাম ওকে দেখে নিজের চোখের জল ধরে রাখতে পারলাম না।
ওর ভাইয়ের ফোনে দুর্ঘটনার পরবর্তী সময়ের ছবিগুলো দেখে আমার মাথা ঘুরে আসলো। আমি সাথে সাথে ওখানে বসে পড়লাম, এমন দৃশ্য আমি আগে কখনও দেখিনি।
যদিও অপারেশন করে ওর হাত জুড়ে দেওয়া হয়েছে তবে শেষ পর্যন্ত হাত ভালো হবে কিনা তার নিশ্চয়তা নেই।
অভিজিৎকে তিনটা অপারেশন করতে হয়েছে, হাত, পা ও মাথা।
ও কতটুকু সুস্থ জীবনে ফিরতে পারবে সেটা জানা নেই, তবে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি অভিজিৎ যেন আবারও সুস্থ ভাবে আমাদের মাঝে ফিরতে পারে।
পোস্টটা পড়ে ভীষণ খারাপ লাগলো আপনার বন্ধুরা এমন পরিস্থিতি দেখে সত্যি বেশ কষ্ট লাগছে কারণ যার সাথে পথ চলা যার সাথে আনন্দ দুঃখ ভাগাভাগি করা তার এমন পরিস্থিতি সত্যি কষ্টকর। আমার বুধবার পরীক্ষা ছিলো।
আর তাই পরীক্ষা শেষে আপনি আপনার বন্ধুর সাথে দেখা করতে গিয়েছেন, আমি প্রার্থনা করছি তিনি যেন খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে যান। এবং আপনাদের মাঝে ঠিক আগের মত ফিরে আসতে পারেন।
এই পৃথিবীতে যার মা না থাকে তার মত অসহায় আর কোন মানুষ থাকে না। সত্যি জানিনা সৃষ্টিকর্তা আর কত পরীক্ষা নেবে এভাবে মানুষের।
সবাই বলে সৃষ্টিকর্তা নাকি প্রথমে পরীক্ষা নেয় তারপরে ভালো সংবাদ দেয় আমি জানিনা অভিজিৎ দাদার পরবর্তী ভালো সংবাদ টা কি আসবে। সত্যি আপনার আজকের পোস্টটি পড়ে আমারও খুব খারাপ লাগছে। সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন অভিজিৎ দাদাকে সমস্ত কিছু সহ্য করার শক্তি দেন এবং তাকে যেন তাড়াতাড়ি সুস্থ করে দেন।
সত্যি কথা বলতে আমরা শত চেষ্টা করেও বাস্তবতা কখনোই পরিবর্তন করতে পারবো না আপনার বন্ধুর সাথে এমন বাজে একটা ঘটনা ঘটে যাবে এটা হয়তো আপনারা কখনো কল্পনাও করেননি তবে যেটা ঘটে গেছে সেটা পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। বরঞ্চ তাদের সান্ত্বনা দিতে হবে আবার পোস্ট করার পর সত্যি কথা বলতে চোখে পানি ধরে রাখতে পারলাম না আল্লাহ তাআলা তাদেরকে ধৈর্য ধারণ করার তৌফিক দান করুক।