পরিক্ষার হল!
পরীক্ষার হল এক বড়ই অদ্ভুত জায়গা।
এখানে যে কত রকমের, কত প্রকারের মানুষের দেখা হয় সেটা সচক্ষে না দেখলে বিশ্বাস করা অসম্ভব।
আজ রবিবার, আজও আমার পরিক্ষা ছিলো। আজ চতুর্থ দিন পরিক্ষা হলো। যেহেতু বাড়ি থেকে পরিক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে অনেক সময় লাগে তাই খুব সকাল সকাল বাড়ি থেকে রওনা হই।
বিগত বছরগুলোতে এই ভোগান্তি হয় নি কারন সেসময় খুলনাতে থাকতাম আর খুব অল্প সময়ে বাসা থেকে বেরিয়ে পোঁছে যেতাম কেন্দ্রে। তবে এবার বাড়িতে থাকায় অনেকটা ঝামেলায় পড়তে হচ্ছে।
সকাল ৯ টা ৩০ মিনিটে বাড়ি থেকে বেরোচ্ছে আর বাড়িতে ফিরছি রাত হলে। ৫ টার সময় পরিক্ষা শেষ হওয়ার পর বাড়িতে ফিরতে অনেক রাত হচ্ছে, বাড়িতে এসে শরীর এতটা ক্লান্ত হয়ে পড়ছে যেটা বলে বুঝানো যাবে না।
আজও সময়ে অনেক আগেই রুমে প্রবেশ করি এবং বসে বসে শেষ বারের মতো বইয়ের পাতায় একটু চোখ বুলিয়ে নিচ্ছিলাম।
দুপুর ১ টার সময় আমাদের পরিক্ষা শুরু হয় এবং বিকাল ৫ টার সময় শেষ হয়। এই ৪ ঘন্টায় যে কত কিছু চোখে পড়ে!
পরিক্ষার হলে পরিক্ষা চলাকালীন সময়ের নিয়ম আমরা সকলে জানি তবে মানে কয় জন!
যদিও সবার কথা বলছি না, তবে কিছুজন থাকে যারা অসৎ উপায় অবলম্বন করার চেষ্টা করে। হয়ত কখনও কখনও তারা সবার চোখ ফাঁকি দিতে পারে তবে বাস্তবে তাতে লাভ টা কি হয়!
কিছুজন থাকে অন্যের খাতা হুবহু ছাপানোর ব্যাপারে ওস্তাদ। লেখার সময় তাদের নিজের খাতার দিকে তাকানোর প্রয়োজন পড়ে না, অন্যের খাতার দিকে তাকিয়েই লিখতে পারে!
আবার কিছু জন নকল করতে সিদ্ধহস্ত!
সাধারণত মোবাইল বাইরে রেখে আসার কথা, তবে তারা সাহস করে মোবাইল নিজের কাছেই রেখে দেয়। জীবনে নকল করার সাহস কখনও পেলাম না!
পরিক্ষার প্রথম দিনই একজনের পরিক্ষা বাতিল করে দিয়েছিলো কারন সে নকল করতে গিয়ে ধরা পড়েছে।
একপর্যায়ে স্যারদের সাথে তর্ক করার পর তাকে সাসপেন্ড করা হয় যার কারনে সে এবছর আর পরিক্ষা দিতে পারবে না তাকে পরবর্তী বছর পরিক্ষা দিতে হবে!
পরিক্ষার রুমে গিয়ে আমি তো অবাক!
রুমের দেয়াল যেন হোমওয়ার্কের খাতা হয়ে গেছে। পরিক্ষার আগে অনেকে পাশের দেয়ালে অনেক সুত্র ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো লিখে রাখে।
এগুলো দেয়ালে না লিখে যদি বাড়িতে পড়তো তাহলে হয়ত এই কাজ করা লাগতো না।
সত্যি বলতে, পরিক্ষার সময় আমার কাছে কেউ সাহায্য চাইলে আমি তাকে দেখতে বাঁধা দেই না তবে কথা হলো - আমাকে বিরক্ত করা যাবে না!
কিছু জনকে দেখবেন, তারা আপনার খাতা দেখে লিখবে এবং আপনাকে বারবার জিজ্ঞেস করবে - এই উত্তরটা ঠিক আছে তো? অংকটা শিওর নির্ভুল তো?
নিজে লিখবে দেখে দেখে অথচ তাকে নিশ্চয়তা দিতে হবে মার্কস পাওয়ার!
এটা আমার কাছ বেশ বিরক্তিকর!
আমি মনে করি, পরিক্ষা মানে শুধুমাত্র পাস করা নয় এটা নিজের ব্যক্তিত্বেরও পরিক্ষা। সেটা নিজের চেষ্টায়, নিকের যোগ্যতায় উত্তির্ন হওয়া প্রয়োজন!
Hello discord me sir
riya010622
Please join our community Discord,
https://discord.gg/YC77cRVt
আপনি একেবারেই ঠিক কথা বলেছেন পরীক্ষার হল হচ্ছে অদ্ভুত একটা জায়গা যেখানে আমরা আমাদের নিজেদের পড়াশোনার অভিজ্ঞতাটা শেয়ার করার জন্য যাই তবে কিছু কিছু মানুষ নকল করতে সিদ্ধ হস্ত বলবে আগে যখন স্কুল বা কলেজে পড়াশোনা করতাম তখন যারা নকল করত তাদের কাছ থেকে দশ হাত দূরে থাকার চেষ্টা করতাম আর মনে মনে চিন্তা করতাম তাদের এত সাহস হয় কিভাবে।
আপনি আপনার পরীক্ষার হলের দেয়ালের ছবি আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন যেটা দেখে তো মনে হচ্ছে এটা দেয়াল নয় একটা হোমওয়ার্কের খাতা আবার অনেকেই আছে দেখে লিখবে কিন্তু তাদের অবশ্যই আপনি সিউরিটি দিতে হবে যে এই অংক সঠিক হবে এবং এর মধ্যে মাছ পাওয়া যাবে যাই হোক বিষয়টি গুলো আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ ভালো থাকবেন।