মহাকাশ স্টেশন!

in Incredible Indialast year (edited)

IMG_20250406_233756.jpg

Hello Everyone,,,

যত দিন যাচ্ছে আমরা প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে পড়ছি। এমন কিছু নাই যেখানে প্রযুক্তির ছোয়া পায় নি। মোবাইল, টিভি, স্যাটেলাইট থেকে শুরু করে ঘরের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সবে তেই প্রযুক্তির ছোয়া।

শহর ছাড়িয়ে গ্রামের প্রতিটা বাড়িতেও হারিকেনের নিভু নিভু আলোর পরিবর্তে বৈদ্যুতিক বাল্ব আর মসলা বাটার শিল নোড়ার পরিবর্তে ব্লেন্ডার সবই রয়েছে। যুগের সাথে তাল মেলাতে প্রতিযোগিতায় মেনেছে সবাই।

প্রতি নিয়ত বিজ্ঞানীরা নিত্য নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করছেন। চাঁদের মাটি স্পর্শ করেও শান্ত হয় নি এবার লক্ষ্য মঙ্গলের রহস্য উন্মোচন করা অর্থাৎ মঙ্গলের মাটিতে পা দেওয়া। ইলোন মাস্ক তো এ বিষয়ে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছেন।

তবে সব কিছুকে ছাড়িয়ে গিয়েছে বিজ্ঞানীদের তৈরি ISS ( International Space Station) । বর্তমান পৃথিবীর সব থেকে ব্যয় বহুল কৃত্রিম উপগ্রহের মধ্যে একটা এই মহাকাশ স্টেশন।

IMG_20250406_233648.jpg

পৃথিবীর ভূপৃষ্ঠ থেকে ৪০০ কিলোমিটার উপরের কক্ষপথে মহাকাশ স্টেশন অবস্থান করছে এবং পৃথিবীকে প্রতিনিয়ত প্রদক্ষিণ করে চলেছে। প্রতি ৯০ মিনিটে মহাকাশ স্টেশন পৃথিবীকে একবার প্রদক্ষিণ করে। যেটা আকারে একটা ফুটবল মাঠের সমান। এটার নির্মাণ কাজ ১৯৯৮ সালে শুরু করা হয়েছিলো। অনেক দেশ মিলেই এটা তৈরি করেছে তবে প্রধান দায়িত্ব ছিলো আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা NASA এর উপর।

সত্যি বলতে আমার মহাকাশ গবেষণামূলক বিষয়গুলো জানতে ও এই বিষয়ে পড়তে ভালো লাগে। প্রযুক্তি কত এগিয়ে গেছে তাই না, মানুষ এখন পৃথিবীর গ্রাভিটির বাইরেও বসবাস করছে।

যদিও মহাকাশ স্টেশনে যাওয়ার সুযোগ সবার ভাগ্যে নেই। মহাকাশ স্টেশন বানানো হয়েছিলো পৃথিবীর বায়ুমন্ডলের বাইরে গিয়ে নানা জটিল গবেষণার জন্য। তাই পৃথিবী থেকে ৪০০ কিলোমিটার উপরে অবস্থিত মহাকাশ স্টেশনে শুধুমাত্র বিজ্ঞানীরা বসবাস করেন অর্থাৎ গবেষণা করেন।

IMG_20250406_233701.jpg

মহাকাশ স্টেশনে গিয়ে গাছ লাগানো এবং মাছের চাষ করা এসব গবেষণা তো করেছে অনেক আগেই। তবে কয়েক দিন আগে একটা নিউজ দেখছিলাম, এবার মহাকাশ স্টেশনে আলু গাছ লাগিয়েছে বিজ্ঞানীরা।

সব থেকে মজার বিষয় হলো - ওখানে পৃথিবীর মতো গ্রাভিটি নেই তাই সকলে মহাকাশ স্টেশনের ভিতর ভাসমান অবস্থায় থাকে এটা আমার কাছে বেশ মজা লাগে। মাঝে মাঝে ভাবি আমিও যদি একটু যেতে পারতাম!

IMG_20250406_233714.jpg

সাধারণত ইলোন মাস্কের রকেট কোম্পানি SpeachX রকেটের মডিউলে চড়ে জীবনটা হাতের মুঠোয় নিয়ে ওখানে পৌঁছায় বিজ্ঞানীরা।

পৃথিবী থেকেও সকলে চাইলে মহাকাশ স্টেশন দেখতে পারবেন। তবে সেক্ষেত্রে প্রয়োজন পড়বে উন্নতমানের টেলিস্কোপ অথবা ভালো মানের ক্যামরার। মহাকাশ স্টেশন কখন কোন জায়গা দিয়ে যাবে সেটা ওদের নিজস্ব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আগে থেকে জানা যায়। চলুন তাহলে দেখে নেওয়া যাক কিভাবে মহাকাশ স্টেশনের অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারবেন -

IMG_20250406_232619.jpg

প্রথমে আপনাকে এই ওয়েবসাইট প্রবেশ করতে হবে তাহলে এমন দেখাবে। অবশ্যই ফোনের লোকেশন চালু করে নিতে হবে। তারপর নিচের মার্ক করা স্থাকে ক্লিক করলে আপনাকে দেখিয়ে দেবে যে, কখন ও কবে আপনার লোকেশন দিয়ে মহাকাশ স্টেশন যাবে।

IMG_20250406_232513.jpg

IMG_20250406_233033.jpg

আমি সার্চ করার পর আমাকে দেখিয়ে দিচ্ছে কখন কখন আমার লোকেশন দিয়ে ISS অতিক্রম করবে। আমার মার্ক করা ছবিটাতে দেখতে পাচ্ছেন মহাকাশ স্টেশন ঠিক চাঁদের সামনে দিয়ে চলে যাবে আর এটাই সব থেকে ভালো সময় ক্যামেরা দিয়ে সরাসরি মহাকাশ স্টেশন দেখার।

ক্যামেরা জুম করে যদি চাঁদের দিকে রাখি তাহলে যখন মহাকাশ স্টেশন চাঁদকে অতিক্রম করবে তখন দেখা সম্ভব হবে। যাই হোক, মহাকাশ স্টেশনে যাওয়া ইচ্ছে তো কখনও পূরণ হবে না তবে ইচ্ছে আছে ক্যামেরার মাধ্যমে মহাকাশ স্টেশন দেখার।

সত্যি অবাক লাগে এসব আবিষ্কার দেখে। সামনের দিনগুলোতে অবশ্যই আরও অনেক কিছু দেখতে পাবো যেটা হয়ত এখন কল্পনাও করতে পারছি না।

পোস্টে ব্যবহৃত ছবিগুলো Travel Shooters ইউটিউব চ্যানেল থেকে স্ক্রিনশট নেওয়া হয়েছে
Sort:  
Loading...
 last year 

মহাকাশ স্টেশন যেটা সম্পর্কে আজকে আপনার পোস্ট পরিদর্শন করে অনেক কিছুই জানতে পারলাম ওখানে গাছ লাগানো হয়েছে মাছের চাষ করা হয়েছে এই বিষয়গুলো ভাবতেই তো অনেক বেশি অবাক লাগছে আসলে বিজ্ঞানীরা চেষ্টা করলে যে কোন কিছু করতে পারে এই মহাকাশ স্টেশন থেকে সেটা অবশ্যই খুব সহজেই বোঝা যায় যাই হোক অসংখ্য ধন্যবাদ খুবই তথ্যবহুল একটা বিষয় আমাদের সাথে তুলে ধরার জন্য ভালো থাকবেন।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.075
BTC 64523.10
ETH 1681.01
USDT 1.00
SBD 0.42