সময় নষ্ট করার মেশিন!
Hello Everyone,,,
প্রযুক্তি আমাদের জন্য আশীর্বাদসরূপ। প্রযুক্তির কল্যানে আমরা দুর দুরান্তে যোগাযোগ করতে পারি খুব সহজে। আগে যেখানে যোগাযোগ করতে চিঠির ব্যবহার হতো এখন মোবাইলের মাধ্যমে খুব সহজে তথ্য পাঠানো যায়।
বছর কয়েক আগেও আমি দেখতাম আমার বাবা রেডিও তে খবর শুনতো। প্রতিদিন সন্ধ্যায় BBC বাংলার খবর হতো । আমাদের বাড়ির আশেপাশের কয়েকজন আমাদের এখানে আসতো প্রতিদিন খবর শুনতে তাহলেই বুঝুন বাড়ি বাড়ি টেলিভিশন তো দুরের কথা রেডিও থাকার সম্ভবনাও কম ছিলো।
ক্রিকেট খেলা হোক বা ফুটবল এখন লাইভ দেখা খুব সহজ তবে কয়েকবছর আগে রেডিও তে সম্প্রচার শুনে মনে মনে কল্পনা করতাম। প্রযুক্তির কারনে সব কিছু আমাদের হাতের মুঠোর চলে এসেছে। পৃথিবীর কোথায় কি হচ্ছে সবই আমাদের নাগালের মধ্যে।
তবে এটা শুধু আমাদের আশীর্বাদই নয় বরং অভিশাপও বটে। ইন্টারনেটের পিছনে একটা মানুষ প্রতিদিন অনেক সময় ব্যয় করে। অনেকেই রয়েছে যারা অনলাইনে সঠিক কাজে ব্যয় করে তবে অধিকাংশই অযথা সময় ব্যয় করে। সময় নষ্ট করার মাধ্যমও রয়েছে অনেক।
ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক আর গেমিং তো রয়েছেই।
সকালে উঠে ফোন হাতে নিয়ে এসব দেখতে দেখতে কখনও যে দিন পার হয়ে যায় বোঝাই যায় না।
প্রথমেই আসি ইউটিউবের কথায়। ইউটিউবে পাওয়া যায় না এমন কিছু নেই। আপনার সকল সমস্যার সমাধান ইউটিউব থেকে পাওয়া যায়, হয়ত কখনও কখনও পুরোপুরি না হলেও আংশিক সমাধান পাওয়া যায়।
তাই ইউটিউব ব্যবহার করেন না এমন মানুষ পাওয়া মুশকিল। দুনিয়ার খবর দেখা থেকে শুরু করে ফানি ভিডিও সবই আছে এখানে। আমি বেশির ভাগ ক্ষেত্রে খবরাখবর দেখার জন্য ইউটিউব ব্যবহার করে থাকি। তাছাড়া আমার একটা বদঅভ্যেস হলো - ভাত খাওয়ার সময় গোপাল ভাড় দেখা।
ফেসবুকে সব থেকে জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া। সবার ফোনেই ফেসবুক রয়েছে। অনেকে ফেসবুক এতটাই আসক্ত যে, রিলস ভিডিও একটার পর একটা দেখতে দেখতে সময় পার হয়ে যায় সেটা বুঝতে পারে না।
বন্ধু বান্ধবের সাথে যোগাযোগ করা এবং নিজের স্টাটাস শেয়ার করা যেন দৈনন্দিন রুটিন। আমার ফোনে ফেসবুক আছে বটে আমি ততটাও সক্রিয় নই ফেসবুকে।
এবার আসি টিকটকের কথায়। টিকটক খুব জনপ্রিয় একটা ভিডিও শেয়ারিং প্লাটফর্ম। যেখানে ফানি ভিডিও এর সংখ্যাই বেশি। টিকটকে কি ধরনের ভিডিও বেশি চলে সেটা আমি জানি না কারন আমি ফোন কেনার পর কখনও টিকটক ডাউনলোড করিনি।
তবে আশেপাশের অনেক মানুষকে ব্যবহার করতে দেখেছি যারা ফানি ভিডিও দেখে। টিকটকে ভিডিও দেখার নেশায় সময় নষ্ট করে ফেলছে কতটা সেটা হয়ত এখন নিজেও কল্পনা করতে পারছে না। তাছাড়া আমার মনে হয় এখানে শিক্ষনীয় ভিডিও হয়ত খুব একটা না।
গেমিং -
গেমিং কথাটা মনে পড়লে হয়ত PUBG, Freefire, Call of duty এসব গেমের কথা মনে পড়ে। আমি নিজেও একটা সময় গেমিং করতাম। বিশেষ করে করোনা কালীন সময়ে ঘরে বসে গেমিং করে অনেক সময় নষ্ট করেছি। তবে নিজের ভুল বুঝতে পেরে সেখান থেকে বেরি এসেছি। এটাও সময় নষ্ট করার অন্যতম মাধ্যম।
আমার কাছে মনে হয় মোবাইল ফোন যতটা না আমরা ভালো কাজে ব্যবহার করা তার থেকে বেশি ব্যবহার করি সময় নষ্ট করার মেশিন হিসাবে।
প্রযুক্তি আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে সহজ করার জন্য আবিষ্কার করেছেন। তবে এর ব্যবহারকে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত বলে আমি মনে করি৷ আজকের মতো এখানে বিদায় নিচ্ছি সকলে ভালো থাকবেন।
| পোস্টে ব্যবহৃত প্রতিটা ছবি প্লে স্টোর থেকে স্ক্রিনশট নেওয়া হয়েছে |
|---|