নিজের বাড়ির মত শান্তি আর কোথাও পাওয়া যায় না
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমতুল্লাহ।
বাবুই পাখিরে ডাকি, বলিছে চড়াই,
“কুঁড়ে ঘরে থেকে কর শিল্পের বড়াই,
আমি থাকি মহাসুখে অট্টালিকা পরে
তুমি কত কষ্ট পাও রোদ, বৃষ্টি, ঝড়ে।”
বাবুই হাসিয়া কহে, “সন্দেহ কি তাই ?
কষ্ট পাই, তবু থাকি নিজের বাসায়।
পাকা হোক, তবু ভাই, পরের ও বাসা,
নিজ হাতে গড়া মোর কাঁচা ঘর, খাসা।”
– রজনীকান্ত সেন
উপরের কবিতাটির নাম স্বাধীনতার সুখ এর নামের সাথে আমাদের মিল না থাকলেও কবিতার লাইনের সাথে অনেকটা মিল রয়েছে। কারন নিজের বাসায় প্রবেশের করার পর একটা প্রশান্তি অনুভব হয়। কাজের জন্য কিংবা কোন জায়গায় বেড়াতে গেলে বাড়ির জন্য একটা শূন্যতা অনুভব হয় বাড়িতে ফিরে আাসার জন্য মন আনচান করে। বাড়িতে আসার পর সকল ক্লান্তি হতাশা শেষ হয়। গত ছয় মাস কত কষ্টের বিনিময়ে আমরা নিজেদের বাসা প্রবেশ করলাম। সেই গল্পটি শেয়ার করবো আপনাদের সাথে।
আলহামদুলিল্লাহ গত ছয় মাস পরে নিজের ঘরে প্রবেশ করলাম। এই ছয় মাসের প্রতিটা মুহূর্ত অনেক কষ্টে কাটাতে হয়েছে। কারন আমাদের ঘর মেরামতের কাজ করতে হয়েছিল। এর কারন আমাদের ঘরে এতদিন যাবত উপরে টিন ছিল পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় এতোদিন ছাদ দেওয়া হয় নাই। তাই গত ০২-০৩-২০২৩ আমাদের বাসার ছাদের কাজ শুরু করা হয়। এই ছয় মাসে আমরা আমাদের চাচার বাসায় থাকতে হয়েছে। আমার চাচার পরিবারে চার জন সদস্য সহ আমরা আমার পরিবারের আট জন মোট বারো জন থাকা হত এই ঘরে। এরপর এত জন সদস্য থাকাতে কষ্ট হচ্ছে বলে আমি অন্য আরেক জায়গায় থাকতাম এবং যাওয়া আসা করতাম।
এরকম যাওয়া আসার কারনে আমার অনেক কষ্ট হতো। তার মধ্যে থেমে থেমে আমাদের ঘরের কাজ চলছিল। কখন কাজের লোক আসতো না আবার কখনো প্রকৃতি কাজে বাধা দিত। এই ভাবে আমাদের ঘরের কাজ শেষ হতে হতে ছয় মাস হয়। ঘরের চিন্তায় আমার মা অসুস্থ হয়ে যায় এবং আমার মাকে হাসপাতালে ভর্তি করা লাগে। ডাক্তার পরিক্ষা নিরীক্ষা করে বলে স্ট্রোক করার ঝুঁকি রয়েছে। খুব চিন্তায় পড়ে যাই। যত দূরে যাই না কেন আর যতই ক্লান্তি থাকুক না কেন বাড়িতে এসে মায়ের মুখ দেখলে সকল ক্লান্তির অবসান ঘটে। আর ওই মা যদি অসুস্থ হয়ে পড়ে তা হলে কি আর কোন কিছু ভালো লাগে। কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ আমার মা ঝুঁকি মুক্ত হয়েছে এবং আমারা সেই কাঙ্খিত সময় অর্থাত আমাদের ঘরে প্রবেশ করতে পারলাম। আলহামদুলিল্লাহ আমার মা অনেকটা সুস্থ আছে।
আপনি যদি বাসা ভাড়া থাকেন কিংবা কাজের জন্য বাড়ির বাহিরে থাকতে হয়। তারাই আসল উপলব্ধি করতে পারেন নিজের ঘর কতটা শান্তির যা আমি এই মাসে বুজতে পেরেছি। নিজের ঘরে ঘুমাতে খাওয়া খেতে বিশ্রাম নিতে মোট সব কিছুই ভালো লাগে। নিজের ঘরের শান্তি আর কোথাও নেই।
আসলে আজকের পোস্ট অন্যরকম হয়ে গেছে। নিজের ঘরে ঢোকার আনন্দে এত কিছু লিখে ফেললাম। ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। ধন্যবাদ
আপনি একদম সঠিক কথা বলেছেন।নিজের বাড়িতে থাকার মজাই আলাদা। অন্যের বড়িতে ভাড়া দিয়ে থাকলে সেখানে কোনো স্বাধীনতা থাকে না।প্রতিনিয়ত বেশিরভাগ বাড়িওয়ালা নিয়মের বাইরে এসে প্রেশার করে।
ধন্যবাদ ভাই এত সুন্দর বিষয়ে লেখার জন্য।
ধন্যবাদ ভাই আমার পোস্ট পড়ার জন্য এবং আপনার মূল্যআান মতামতের জন্য।
দীর্ঘ ছয় মাস পর নিজের ঘরে প্রবেশ করছেন। অনেক দিন নিজের বাসার বাহিরে কাটানো খুব কষ্টের। তাই নিজের ঘরে সবচেয়ে বেশি আনন্দ। যা আর কোথাও পাওয়া যাবে না। আর এটা আমরা আরও ভালো করে বুঝতে পারি যখন ঘর থেকে দূরে থাকি।
ধন্যবাদ আপনাকে আমার পোস্ট পড়ার জন্য এবং আপনার মূল্যবান মতামতের জন্য
আজকে আপনার এই পোস্ট পড়ার পর আমার ছোটবেলার কথা মনে পড়ে গেল! আমি যখন ক্লাস ফাইভে পড়তাম,,, তখন আমাদের ঘর নির্মাণের কাজ চলছিল! আমরা কোন মতে আমাদের দাদার ঘরে থাকতাম! কিন্তু আমার বড় ভাই ও উঠানের মধ্যে,,,, একটা চৌকিতে মশারি টাঙিয়ে ঘুমাতো।
একদিন প্রচন্ড বৃষ্টি শুরু হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছিল! চারপাশে বাতাস শুরু হয়ে গেছে। আমার ভাইকে আমার এক চাচা অনেকবার বলার পরেও,,, সে ঘরে যায়নি! সে বলল বৃষ্টি আসছে সমস্যা নেই আমি এখানেই থাকবো। আপনি ঠিকই বলেছেন,,, নিজের ঘরে থাকার মত আনন্দ আর কোথাও হতে পারে না।
আপনার মা এখন সুস্থ আছে জানতে পেরে বেশ ভালো লাগলো! কেননা মা যদি অসুস্থ হয়ে যায়! তাহলে পুরা পৃথিবী অন্ধকার হয়ে যায়,, যাই হোক অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে,,, আপনার জীবনের এই গল্পটা আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য! আপনার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইল! ভালো থাকবেন।
ধন্যবাদ আপু আমার পোস্ট পড়ার জন্য এবং আপনার মূল্যবান মতামতের জন্য।
ঠিকই বলেছেন ভাই,নিজের বাড়িতে থাকার মতো সুখ পৃথিবীর আর কোথাও পাওয়া যায় না।হোক সেটা পাকা কিংবা কাঁচা বাড়ি৷গত একমাস যাবৎ বাহিরে আছি, বাড়ির কথা মনে পড়লে ভিতরটা খা খা করে ওঠে। এখানে যে খুব খারাপ আছি তা কিন্তু না৷ তবুও....খারাপ লাগে মাঝে মাঝে।
ধন্যবাদ ভাই আপনারা মূল্যবান মতামতের জন্য এবং আমার পোস্ট পড়ার জন্য।
ছোটবেলা একটা কবিতা পড়েছিলাম স্বাধীনতার সুখ রজনীকান্ত সেনের সেখানে লেখা ছিল এমনটা নিজো হাতে গড়া মোর কাঁচা ঘর খাসা। আসলে আমাদের নিজের ঘর যদি মাটির তৈরি হয় সেটা মধ্য এক অন্যরকম অনুভূতি কাজ করে যেটা আপনি অন্যের দালানকোঠার মধ্য কখনো সে অনুভূতি খুঁজে পাবেন না। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এমন সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের মাঝে শেয়ার করার জন্য।