দৃঢ়তার প্রতীক!
কমবেশি সর্বত্রই এই সভ্য সমাজ আমার বুক চিরে নিজেদের রাস্তা তৈরি করে নিয়েছে! তবুও আমি অনড়!
তার কিছু নমুনা হয়তো আপনাদের অনেকেই ছবিতে দেখতে পাচ্ছেন!
আপনারা ভাবছেন আমি কে? আমি পর্বত!
মানুষের মতো কথায় কথায় অভিযোগ করি না, তবে আমার মধ্যেও সময়ের হাত ধরে মানব সমাজের প্রতি জমা হয়েছে একাধিক অভিযোগ!
আমার এই ক্রোধ আর অভিযোগ খানিক শান্ত করতে তুষার আমায় সাহায্য করে, তবে নিজের শরীরের ক্ষত বিক্ষত হবার যন্ত্রণা সহ্য করতে করতে মাঝে মধ্যে ধ্বসের আকারে ঝরে পরি!
নিজেদের শরীরের সামান্য ক্ষত সহ্য করতে না পারা সেই মানবজাতি যথা সম্ভব প্রযুক্তির প্রয়োগে আজ আমার মাথা নত করবার প্রয়াসে মত্ত, সেটাও নিছক নিজেদের সুবিধার্থে!
আমাকে আহত করে তৈরি রাস্তার পথে একাধিক প্রাণ চলে গেছে, কিন্তু মানুষ বুঝতে নারাজ, তাদের এই পৃথিবীতে আসার আগে থেকেই আমাদের অবস্থান এই ধরায়!
কালের পরিবর্তনের সাথে বৃদ্ধি পেয়েছে মানব সমাজ, অবশ্যই সংখ্যার নিরিখে!
সভ্যতা দেখেছি পোশাকে কিন্তু মানসিকতা দিনে দিনে ভরে গেছে লোভে!
প্রকৃতি থেকে সবটা নিংড়ে নিয়েও এরা ক্ষান্ত হয়নি আজও!
আমার কিনারায় দাড়িয়ে সেলফি তোলার নেশায় বুদ যুব সমাজ বিপদের তোয়াক্কা না করে জীবন দিয়েছে!
যুগ যুগ ধরে একাধিক পরিবর্তনের সাক্ষী থেকেছি, দেখেছি মানুষের উন্মাদনা!
সাবধানতা উপেক্ষা করে জীবনকে সস্তা মনে করে যে খেলায় তারা আজ মত্ত, তার পরিণতি সর্বত্রই ছাপ ফেলেছে!
শিখতে চায়নি কিছুই আমার থেকে, বরঞ্চ নিজেদের বুদ্ধিমত্তাকে শ্রেষ্ঠ প্রমাণ করার দৌড়ে সামিল হতে গিয়ে আমার দক্ষতাকে অবজ্ঞা করেছে!
পরিণতি আজ ভুগতে হচ্ছে তাদেরকেই, আমার দৃঢ়তা ক্ষুণ্ন করতে পারেনি কিঞ্চিৎ মাত্র!
প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে মানবসমাজ নিজেদের পথেই, তবে টিকে থাকার লড়াই তারা শেখেনি আমার থেকে!
তারা নিজেদের যন্ত্রণা ব্যাখ্যা করতে ব্যস্ত কিন্তু কতখানি যন্ত্রণা তারা প্রকৃতিকে দিয়েছে সময়ের সাথে সাথে সেদিকে তাদের ভ্রুক্ষেপ নেই!
এটাকে নিছক স্বার্থপরতা ছাড়া কি বা আখ্যা দিতে পারি!
মূল্যবান খনিজ পদার্থ খুজতে গিয়ে রাসায়নিক পদার্থ প্রয়োগে করেছে এই উন্নত মানব সমাজ!
তারা হয়তো ভুলে গিয়েছে, জলের মুল স্রোত আমি! তারা হয়তো ভুলে গিয়েছে আমার বুকে বসবাস করা দুর্লভ প্রাণীরা আজ সংকটে!
সমূদ্র থেকে আগত আর্দ্র বাতাসকে প্রাচীরের মত অবরোধ করে বৃষ্টিপাত ঘটাই
শুধু কি তাই?
উষ্ণ ও শীতল বায়ুর গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করে কে?
শিক্ষিত মানুষ এসব নিয়ে ভাবতে ভুলে গেছে বলেই, আজ প্রকৃতির হাত ধরে আমরা প্রতিবাদী!
উন্নতির সাথে যদি নব প্রজন্মের কাছে উপরিউক্ত বার্তাগুলো পৌঁছত, তাহলে আজ হয়তো অনেক প্রাণ রক্ষা পেতে পারতো!
সব যন্ত্রণা নিজের মধ্যে ধারণ করে দাড়িয়ে থাকাকেই তো দৃঢ়তা বলে, সেটা কি আধুনিক মানুষ আর সেই চঞ্চল যুব সমাজ বুঝবে কখনো?
এভাবেই হয়তো একদিন ধ্বংস গিয়ে যাবে মানবসমাজ, আর আমরা ফিরে পাবো আমাদের অতীত নির্ভেজাল আমাদেরকে!
আজকের এই দৃঢ়তা হয়তো একদিন ফিরিয়ে দেবে আমাদের হারিয়ে যাওয়া অস্তিত্ব! কে বলতে পারে?