অন্তর্মুখী শিশুদের সমস্যা ও সমাধান।
আমাদের তিন ভাই -বোনের সাত বাচ্চার মাঝে ছয়টাই ছোট থেকে অনেক বেশি মিশুক ও চঞ্চল স্বভাবের ছিল ,ব্যাতিক্রম ছিল শুধু আমার বড়ো ভাইয়ের বড়ো ছেলে। বাসায় সবকিছু ঠিকঠাক ছিল।ওর দুষ্টমিতে আমরা অতিষ্ঠ হয়ে যেতাম।
কিন্তু বাসায় নতুন কোন মানুষ আসলে কিংবা বাইরে বের হলেই তার আচরণ পুরোপুরি পাল্টে যেত। কারো সাথে মিশতে পারতো না ও কথাও বলতো না। আমরা ভেবেছিলাম যে একটু বড়ো হলে সব ঠিক হয়ে যাবে। ঠিক হয়েছে ঠিকই কিন্তু সেটা হতে অনেক সময় লেগেছে।
ওর স্কুল থেকে ছোট বেলা অভিযোগ আসতো যে ,ক্লাসে ওর কোনো বন্ধু নেই আর খেলে না। বাকি সবকিছু ঠিক ছিল। পরবর্তীতে অবশ্য এমন আরো বেশকিছু শিশু চোখে পরেছে।
এই নিয়ে আমরা কেউ মাথা না ঘামালেও ওর বাবা ও বিশেষ করে মাকে দেখতাম কিছুটা মন খারাপ করতে। আমার মা সান্তনা দিতো ,বড়ো হলেই ঠিক হয়ে যাবে সবকিছু। কিন্তু শুধু আমার ভাই -ভাবিই না , নিজের সন্তানকে সপ্রতিভ ,স্মার্ট দেখতে সব মা-বাবাই ভালোবাসেন।
ইঁদুর দৌড়ের এই যুগে ক্লাসে ফার্স্ট না হলে ,সবচাইতে জোরে না দৌড়ালে ,কঠিন কঠিন সব প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারলে তাদের ভবিষ্যৎ যে একবারেই অন্ধকার তা বারবার নিজেদের ও তাদের ছেলেমেয়েদের মনে করিয়ে দিতে ভুল না বেশিরভাগ মা-বাবাই। আর এতে করে এই সব অন্তর্মুখী বাচ্চারা আরো বেশি কুঁকড়ে যায়।
কিন্তু আসলেই কি তাদের কোনো ভবিষ্যৎ নেই ?এই পৃথিবীতে কি তারা লড়াই করে নিজের জায়গা তৈরি করতে পারবে না। এই সব না ভেবে বরং চিন্তা করা উচিত তাদের কি করা উচিত।
আমার মতে ,কোনো শিশুকে বড়ো করার প্রথম ধাপই হলো তার সাথে বন্ধুর মতো মিশে তাকে বুঝতে চেষ্টা করা ।
অনেক বাচ্চাই জন্ম থেকেই লাজুক স্বভাবের হয়ে থাকে। আবার তাদের মাঝে লুকানো নিরাপত্তাহীনতাও তাদেরকে মুখচোরা করে তুলতে পারে। অনেকসময় বাচ্চারা আমাদের খুব কাছের মানুষদের কাছেও বিভিন্নধরনের হয়রানির শিকার হয়ে থাকে। যা তারা ভয়ে প্রকাশ করতে পারে না আর কুঁকড়ে থাকে মানুষ দেখলে।
খেয়াল করে দেখুন ও শারীরিকভাবে দুর্বল ও ভীতু বলেই কি চুপচাপ থাকে। নাকি সমবয়সী বন্ধু ,ভাই-বোনদের সাথে খেলাধুলা ,পড়াশোনা কিংবা কথায় পেরে উঠতে পারবে না বলেই কি চুপচাপ থাকে। আবার অনেক সময় আমরা বাড়ির কিংবা অন্য শিশুদের সাথে তুলনা করে নেতিবাচক মন্তব্য করে থাকি। এতে করেও বাচ্চারা কোনঠাসা হয়ে পরে। এই ভুলগুলি আমরা নিজেদের অজান্তেই বারবার করে ওদের সমস্যাকে আরো বাড়িয়ে তুলি।
শিশুটি চেষ্টা করেও নিজের সমস্যা থেকে বের হয়ে আসতে পারে না। অভিভাবকদের উচিত হবে প্রথমেই বাচ্চার সম্যসার জায়গা খুঁজে বের করা। পড়াশোনায় দুর্বল হলে নিজে সময় বের করে তাকে হোমওয়ার্ক করতে সাহায্য করুন। ও হয়তো স্কুলের কোনো শিক্ষকের কাছে সহজ হতে পারতেছে না।ওর সাথে কথা বলে ওর কষ্ট , ইনসিকিউরিটি খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন। প্রয়োজন মনে করলে একজন মনোচিকিৎসকের সাহায্য নিন।
লেখাটি বড়ো হয়ে যাচ্ছে তাই পরবর্তী পোস্টে বাকি অংশ লিখবো।