কুমিল্লার নব শালবন বিহারে একদিন।

in Incredible India3 years ago (edited)

ঢাকার বেশ কাছাকাছি হবার কারণেই আমাদের প্রায়ই কুমিল্লা যাওয়া হয়। কাছাকাছির সাথে সাথে রাস্তাও চমৎকার। অবশ্য কয়েক বছর আগেও এমন ছিল না। কুমিল্লা যেতে যেয়ে এমনও হয়েছে যে ,মেঘনা ব্রিজের টোল দেয়ার আগে মুহূর্তে জ্যাম দেখে ঢাকা ফেরত এসেছি।
ইদানিং আমাদের দেশের রাস্তাঘাটগুলি যেভাবে উন্নত করা হচ্ছে তাতে মনে হয় কয়েক বছরের মাঝেই আমরা জ্যাম মুক্ত দেশ দেখতে পাবো। একসময় টাঙ্গাইলের রাস্তায় ভয়াবহ জ্যাম হতো। এখন আমার কাছে মনে হয় এটাই সবচেয়ে সুন্দর রাস্তা।

আমি কুমিল্লা যেতে পছন্দ করি কারণ এখানে দেখার মতো অনেক কিছু আছে আর আমার দুই ছেলে বিশেষ করে আমার বড়ো ছেলে পছন্দ করে খিচুড়ি খাওয়ার লোভে। ওরা দুজনেই মিয়ামির খিচুড়ি পছন্দ করে। যার কারণে খাওয়া হয়ে গেলেই ওরা কুমিল্লার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলে অনেকটাই।
কিছুদিন আগে অনেকটা লাঙ্গলবন্দে লোকনাথ ব্রম্মচারীর বাড়ি দেখতে যাওয়ার কথা থাকলেও অনেকটা হুট্ করেই খিচুড়ি খাওয়ার লোভেই বোধহয় ছেলেরা কুমিল্লা যেতে বলে।

কুমিল্লাতে শালবন বিহার, চন্দ্রমুড়া, রূপবান মুড়া, রানীর বাংলার পাহাড়, ধর্মসাগর, শাহ সুজা মজিদ, নব শালবন বিহার, জগন্নাথ মন্দির, নবাব ফয়জুন্নেসার বাড়ি ,ওয়ার সেমেট্রি প্রভৃতি দেখার মতো অনেক কিছুই আছে।
তবে কুমিল্লার এতসব প্রাচীন সভ্যতায় সমৃদ্ধ জিনিসের মাঝে নব শালবন বিহারকে একদম নতুন সংযোজনই বলা যায়। আজ থেকে প্রায় ত্রিশ বছর আগে এই নব শালবন বিহার ও বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট কালচারাল একাডেমী প্রতিষ্ঠা করা হয়। আমি বেশ কয়েকবার কুমিল্লাতে আসলেও এখানে আগে যাওয়া হয় নাই।

Black and Orange Aesthetic Halloween Photo Collage (1).png

কিন্তু প্রথম যেবার শালবন বিহারে গিয়েছিলাম তখনই দূর থেকে রোদ পরে চকচক করতে থাকা বুদ্ধের সোনালী মূর্তির নজর কেড়েছিল।এটা অনেক দূর থেকেই যে কারো নজরে পড়। শালবন বিহারে ঢোকার আগে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম বের হয়ে এখানে যাবো। কারণ এটা শালবন বিহার থেকে মিনিট দশেকের পায়ে হাটা দূরত্ব। কিন্তু সেদিন কোনো কারণে যাওয়া না হলেও আজকে এখানে যাবোই ভেবে যাওয়া।

ভ্রাতৃপ্রতীম দেশ থাইল্যান্ডের একটি বৌদ্ধ ধর্মীয় ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে ধাতব পদার্থে তৈরি ৩০ ফুট উঁচু আকৃতির ও ৬ টন ওজনের দন্ডায়মান বুদ্ধ মূর্তি দেয়া হয়েছে। এটিকে বিহারের ছাদের উপর স্হাপন করার কারণে অনেক দূর থেকেই চোখে পরে। এই নব শালবন বিহার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বিহার বা শান্তি প্যাগোডা কিংবা উপাসনাল।

এই মূর্তিটির পাশেই রয়েছে রাজকীয় ভাবে অবস্থানরত সোনালী রঙের দুটি সিংহ মূর্তি। এখানে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রার্থনালয়, মেডিটেশন সেন্টার, শালবন বিহার স্কুল ও এতিমখানা, লাইব্রেরি, শালবন বিহার জাদুঘর, সেমিনার হল ও হোস্টেল রয়েছে।
ভেতরে যাওয়ার পরে একপাশে জুতা রাখার জায়গা আছে। সেখানে জুতা রেখে খালি পায়ে হাঁটতে হয়। কিন্তু সমস্যা হলো একটাই এখানকার টাইলসগুলিতে পায়ে ব্যাথা পাওয়া যায়। এই সমস্যা শুদু আমরা যারা বাইরে থেকে এসেছি তাদেরই হচ্ছিলো দেখতে পেলাম। কিন্তু এখানকার মানুষজন দেখলাম অনায়াসে হাঁটাচলা করতেছে।
তবে খুব বেশিসময় আমাদের এখানে থাকা হয় নাই। সামান্য ঘুরেই বের হয়ে এসেছিলাম এখন থেকে।


◦•●◉✿ Thanks Everyone ✿◉●•◦

image.png



Sort:  
Loading...
 3 years ago 

কুমিল্লার নব শালবন বিহার সত্যি খুব সুন্দর। ৩০ ফুট উঁচু বুদ্ধদেবের মূর্তিটিকে বিহারের ছাদের উপরে প্রতিষ্ঠিত করার কারণে অনেক দূর থেকে দেখতে পাওয়া যায়। টাইলসগুলিতে পায়ে ব্যাথা লাগছিল কেন ঠিক বুঝলাম না। ভালো করেছেন ঘুরতে গিয়ে। কুয়াশা দেখার বদলে মাঝেমধ্যে এরকম ঘুরতে যাওয়া ভালো।

 3 years ago 

বাইরের চত্বরের টাইলসগুলো কেমন জানি ডিজাইন করা সেগুলোতে পায়ে ব্যাথা লাগে।আমি বাগানের পাশ দিয়ে নিচু ইটের ওয়ালের ওপর দিয়ে হেঁটে মন্দিরের কাছে গিয়েছি।
আপনি আমার কুয়াশার পেছনে লেগেছেন কেন বলেনতো 😅

Posted using SteemPro Mobile

 3 years ago 

এটা ভালো বলেছেন।🤣

 3 years ago (edited)

আপনি যেভাবে বেচারা কুয়াশার পেছনে লেগেছেন তাতে না বলে উপায় আছে 🤣

Posted using SteemPro Mobile

 3 years ago 

কুমিল্লার নব শালবন বিহারে আপনি ঘুরতে গিয়েছিলেন। আপনার বাসা থেকে কুমিল্লা কাছে হওয়াতে আপনি প্রায় সেখানে ঘুরতে যান। আপনার সম্পূর্ন পোস্ট পরে মনে হলো কুমিল্লাতে দেখার মত অনেক কিছুই আছে। আর হ্যা! আপনি একদম ঠিক কথা বলেছেন বর্তমানে রাস্তাঘাট আগের থেকে অনেক উন্নত হয়েছে।

 3 years ago 

ভুরুঙ্গিমারী নামটা আপনার লেখায় দেখার পর থেকে লোভ লাগছে এখানে যেতো। ভালো লাগলো আপনার চমৎকার মন্তব্য পড়ে।ধন্যবাদ এত সুন্দর করে মন্তব্য করার জন্য। শুভকামনা রইলো আপনার জন্য।

Posted using SteemPro Mobile

 3 years ago 

আপনার ফটোগ্রাফি দেখে মনে হচ্ছে কুমিল্লা নব শালবন বিহার খুবই সুন্দর একটা জায়গা। এখানকার বিভিন্ন জায়গা সম্পর্কে আপনি আমাদের সাথে আলোচনা করেছেন আসলে। আমরা যখন কোন খাবার পছন্দ করি। তখন সেই খাবার বারবার খাওয়ার জন্য মন টানতে থাকে। আপনার ছেলেদের ক্ষেত্রেও ঠিক একই অবস্থা আর শীতের সকালে বা বিকেলে খিচুড়ি খাওয়ার মজাটাই অন্যরকম। ধন্যবাদ আপনাকে শালবন বিহার ঘুরে দেখার আনন্দঘন মুহূর্তটা আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য। ভালো থাকবেন।

 3 years ago 

এটা ঠিকই বলেছেন, পছন্দের খাবার মানুষ বাববারই খেতে চায়। ধন্যবাদ আপনাকে এত চমৎকার করে মন্তব্য করার জন্য। শুভকামনা রইলো আপনার জন্য।

Posted using SteemPro Mobile

কুমিল্লার নব শালবন বিহার জায়গাটি বেশ সুন্দর তাছাড়াও মন্দির টি দেখতে ভিষণ ভালো লাগতেছে ৷ অনেক উচু মন্দির দেখতে আর মন্দিরের ভিতরটাও অনেক সুন্দর ৷ মন ভরে গেলো দেখে ৷

যাই হোক আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এত সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের পরিদর্শন করার সুযোগ দিয়ে ৷ ভালো থাকবেন ৷

 3 years ago 

কুমিল্লার নব শালবন বিহারটি আসলেই অনেক সুন্দর দেখতে।ধন্যবাদ এত চমৎকার করে মন্তব্য করার জন্য। ভালো থাকবেন সবসময় এই শুভকামনা রইলো আপনার জন্য।

Posted using SteemPro Mobile

আপনাকেও অসংখ্য ধন্যবাদ আমার মন্তব্যে রিপ্লে করার জন্য ৷ শুভকামনা রইলো সামনের দিকে এগিয়ে যান ৷

 3 years ago 

কুমিল্লার নব শালবন বিহার ভ্রমণে গিয়েছিলেন এবং আমাদের সাথে শেয়ার করছেন সত্যিই চোখ ধাঁধালো কারুকার্য ে দেখতে অসম্ভব সুন্দর লাগছিলো।
সোনালী কালারের মূর্তিগুলো দেখতেও বেশ সুন্দর ছিল, খুব আনন্দ করেছেন তবে আপনার একটু সমস্যা হচ্ছিল যেহেতু ওই ভিতরে ঢুকতে হয় খালি পায়ে জুতা রাখার জায়গায় জুতা রেখে তাই ওখানে টাইলসের উপর দিয়ে হাঁটতে একটু অসুবিধা হচ্ছিল।
যেহেতু ওখানকার মানুষের সমস্যা হচ্ছে না কারণ ওরা ওই জায়গা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে অভ্যাস হয়ে গিয়েছে আমার মনে হয় সেই কারণে।
ধন্যবাদ খুব সুন্দর একটি জায়গার উপরে রিভিউ করার জন্য।

 3 years ago 

ধন্যবাদ এত সুন্দর করে মন্তব্য করার জন্য।ভালো থাকবেন সবসময় এই শুভকামনা রইলো আপনার জন্য।

Posted using SteemPro Mobile

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.104
BTC 65284.65
ETH 1965.46
USDT 1.00
SBD 0.37