"মামা বাড়িতে অন্যান্য আরও কিছু গাছের‌ গল্প"

in Incredible India13 hours ago
IMG_20260704_104012.jpg
"মেঘলা আকাশের ছবি"

Hello,

Everyone,

আশাকরি আপনারা সকলে ভালো আছেন, সুস্থ আছেন এবং আপনাদের সকলের আজকের দিনটি অনেক ভালো কেটেছে।

গতকালকের পোস্টে আপনাদের সাথে শেয়ার করেছিলাম মামা বাড়িতে লাগানো কিছু ফুল গাছের গল্প। আর একেবারে শেষের দিকে জানিয়েছিলাম, সেখানে আরও কিছু সবজি ও ফলের গাছ রয়েছে। আজকে সেই সকল গাছের সম্পর্কে কিছু কথা এই পোস্টের মাধ্যমে উপস্থাপন করতে চলেছি।

"পুঁই শাক গাছ"

IMG_20260704_103946.jpg

প্রথমে যে গাছটির কথা বলবো, সেটা পুঁইশাক গাছ। আশাকরি সবজির মধ্যে অন্যতম এই পুঁইশাক সকলেরই বেশ পরিচিত। এই গাছগুলো মামি লাগায় নি। হয়তো এখানে আগের গাছের বীজ পড়েছিলো, সেখান থেকেই গাছ হয়েছে। সবেমাত্র এক হাতের মতো লম্বা হয়েছে গাছগুলো, তবে সুন্দর সতেজ ভাবে বেড়ে উঠছে।

কিন্তু নিচের দিকে পাতাগুলোতে অল্প অল্প পোঁকা লেগেছে বলে মনে হলো। তবে মামী বলল পুঁইশাকের ডগা গুলো উপরের দিকে বেয়ে গেলে, এই পাতাগুলো ছিড়ে ফেলতে হবে। না হলে নাকি আরও পাতা নষ্ট করবে একই পোঁকা। যেহেতু বাড়ির গাছ তাই মামী আলাদা করে কোনো রাসায়নিক সার বা ঔষধ ব্যবহার করে না। চেষ্টা করে যতটুকু সারবিহীন ভাবে খাওয়া যায়।

"কারিপাতা গাছ"

IMG_20260704_103957.jpg

কারি পাতা গাছ বর্তমানে অনেকেই চেনেন। বিভিন্ন ধরনের সাউথ ইন্ডিয়ান রেসিপিতে কারিপাতা এক অন্যতম উপকরণ। আমাদের এখানে কারিপাতা সকলেই খায় এমনটা নয়, তবে বেশ কিছু মানুষ এই কারি পাতা ফোরণের ক্ষেত্রে খেতে পছন্দ করেন।

আমার শাশুড়ি মা কারি পাতার বড়া তৈরি করেন, গরম গরম ভাতের সাথে যেগুলো খেতে বেশ ভালোই লাগে। মামীরও এই কারি পাতার গন্ধ বেশ পছন্দ। বিশেষত ডালে দিয়ে খেতে ভালোবাসে। তাই কোনো একটা বাড়ি থেকে ছোট্ট একটা ডাল এনে লাগিয়েছিলো। সেখান থেকেই বেশ বড় একটা গাছ হয়েছে। মাঝেমধ্যে এখান থেকে পাতা তুলে বিভিন্ন রেসিপিতে মামী ব্যবহার করে।

"পেয়ারা গাছ"

IMG_20260704_104042.jpg

মামিদের ঘরের একেবারে শেষের দিকে একটা পেয়ারা গাছ রয়েছে। প্রচুর পেয়ারা ধরেছে গাছটায়। তবে পেয়ারাগুলো এখনো পাঁকেনি। গাছটা যে অনেক লম্বা এমনটা নয়, নিচে থেকে দাঁড়িয়েই পেয়ারা গুলো পারা সম্ভব। তবে একেবারে কাঁচা বলে আমি আর পেয়ারা গুলো পারিনি।

তবে কয়েকদিন বাদে গেলে এই গাছের পেয়ারা পেড়ে খেতে পারবো। অবশ্য মামী জানালো পেয়ারাগুলো খুব একটা ভালো কোয়ালিটির নয়। তবে গাছের থেকে পেয়ারা পেঁড়ে খেতে মন্দ লাগে না। আমার বোন পেরে এনে পেয়ারা গুলোকে ধনেপাতা, লবণ, চিনি, কাসুন্দি দিয়ে মাঝেমধ্যে মেখে খায় শুনলাম।

এরপর গেলে যদি গাছে পেয়ারা থাকে তাহলে অবশ্যই আমিও মেখে খাবো। গাছটা যদিও মামীর লাগানো নয়, কিন্তু মামী গাছটাতে গরমের সময় জল দেয় এবং নিজের রান্না করার যা সবজি‌ কাটে, সেগুলোর‌ খোসা এই গাছের গোড়াতেও ফেলে, যাতে গাছটা ভালো পুষ্টি পেতে পারে।

"পেঁপে গাছ"

IMG_20260704_104058.jpg

এটা পেঁপে গাছ। আশাকরি ছবি দেখে সকলেই চিনতে পারছেন। গাছটি বেশ বড় হয়ে উঠেছে। সবে পেঁপে ধরতে শুরু করেছে, আবার গাছে ফুলও ধরেছে। এই গাছটা আমার মামি লাগিয়েছে ঠিকই, তবে আলাদা করে চারা কিনে এনে লাগিয়েছে এমনটা নয়।

মামী যেখানে সবজির খোসা ফেলে, তার মধ্যে পেঁপের বীজও ছিলো। সেখান থেকেই চারাটা হয়েছিলো। আর মামী সেখান থেকে তুলে এনেই গাছটা লাগিয়েছিলো। কয়েকদিন বাদে এই গাছের পেঁপে গুলো বড় হলে, তখন আর বাজার থেকে মামিকে পেঁপে কিনে আনতে হবে না, এ বিষয়ে নিশ্চিত।

"বেগুন গাছ"

IMG_20260704_104132.jpg

এটা মামীর লাগানো বেগুন গাছ। অন্যান্য চারা কিনে না আনলেও বাজার থেকে এই বেগুনের চারা কিনে এনেছিলো। মামীর হাতে বেগুন এবং লঙ্কা এই দুটো গাছের ফলন খুব ভালো হয়। লঙ্কা গাছের ছবি তোলা হয়নি কারণ মামী যেদিকে লঙ্কার গাছ লাগিয়েছে, ওই দিকটাতে আমি আর বৃষ্টির কারণে যাই নি।

তবে বেগুন গাছে ইতিমধ্যে অনেকগুলো বেগুন হয়েছে এবং আমি যে ছবিটি তুলেছি সেখানেও একটা ছোট্ট বেগুন লক্ষ্য করতে পারবেন। অবশ্য পাতাগুলোতে এক রকম পোকা ধরেছে। মামি যেহেতু কাঠে রান্না করে না, তাই এই গাছ গুলোতে ছাই দিতে পারে না।

মামীর কাছেই শুনলাম যারা কাঠে রান্না করে, রান্না করার পর দিন যদি উনন থেকে ওই কাঠের ছাই গুলো এই গাছে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তাহলে নাকি এই পোকাগুলো মারা যায়। সত্যি মিথ্যে জানি না মামীর কাছে শুনলাম, তাই বললাম।

IMG_20260704_104227.jpg

আগের পোস্টে জানিয়েছিলাম একদিকে সুন্দর রৌদ্রজ্জ্বল নীল আকাশ থাকলেও, অন্যদিকে ছিলো মেঘে ঢাকা। তাই মাঝে মধ্যেই সূর্য উঠছিলো, আবার বৃষ্টিও নামছিলো। মেঘাচ্ছন্ন আকাশের ছবি আগের পোস্টে শেয়ার করেছিলাম। আশাকরি দেখে বুঝতেই পারছেন মুহূর্তের মধ্যে নীল আকাশ কেমন কালো মেঘে ঢেকে গিয়েছিলো।

যাইহোক মামা বাড়িতে সারাটা দিন বেশ আনন্দ করে কাটলেও, বিকেলের দিকের সময়টা অন্যরকম ভাবে কেটেছে। কি কারনে কথাটা বললাম সে গল্প না হয় পরবর্তী পোস্টে শেয়ার করবো। সকলে ভালো থাকবেন। ভালো কাটুক আপনাদের সারাদিন।

Sort:  
Loading...

আপনার পুঁইশাক গাছের ছবি দেখে খুব ভালো লাগছে, এগ

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.093
BTC 64352.38
ETH 1813.56
USDT 1.00
SBD 0.39