"প্রথমবার ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ দেখার অভিজ্ঞতা"

in Incredible Indiayesterday
IMG_20260721_193052.jpg

Hello,

Everyone,

খেলা দেখার প্রতি আমার আগ্রহ কোনো কালেই তেমন তীব্র নয়। সেটা ক্রিকেটেই হোক বা ফুটবল। একেবারেই যে দেখি না এমনটা বলবো না। কখনো কখনো ভালো লাগলে দেখি। তবে এমন বহু মানুষ আছে খেলা দেখার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে,‌ আমি সেই দলভুক্ত নই এইটুকুই যা পার্থক্য।

গত পরশুদিন ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল ছিলো, একথা বোধহয় প্রত্যেকেই জানেন। স্পেন ও আর্জেন্টিনা এই দুই দল ফাইনালে উঠেছিলো। আমি সেমিফাইনালের খেলা দেখিনি, তবে খবরটা থেকে শুনেছিলাম মাত্র।

IMG_20260721_192956.jpg

ব্যক্তিগতভাবে শুভ ক্রিকেট প্রেমী। ক্রিকেট খেলা দেখতে ভীষণ ভালোবাসে। ফুটবল দেখতে ভালোবাসে না এমন নয়। তবে যদি তুলনা করতে হয়, তাহলে ক্রিকেটা ওর বেশি প্রিয়। আবার আমার শ্বশুর মশাই ছিলেন উল্টো, তিনি ক্রিকেট দেখতেন ঠিকই, তবে তার প্রিয় খেলা ছিলো ফুটবল।

বিয়ের পর থেকে আমি এসে দেখেছি প্রতি বছর বিশ্বকাপের সময় তিনি সারারাত জেগে খেলা দেখেন। আপনারা সকলেই হয়তো জানেন, ফুটবল খেলা গুলো বেশিরভাগ সময় ভারতীয় সময় অনুযায়ী রাতের দিকে কিংবা ভোরের দিকে হয়ে থাকে। তাই শ্বশুরমশাই এই বিশ্বকাপ ফুটবল চলাকালীন একাই ওই রাত জেগে খেলা দেখতেন। তারপরের দিন সকালে আবার গল্প বলতেন।

IMG_20260721_192933.jpg

পরশুদিন রাতে ওনাকে বড্ড মিস করছিলাম। কারণ উনি থাকলে এই খেলা দেখার উত্তেজনা আরও অনেক বেশি বেড়ে যেতো। আমি খেলা দেখি না বা দেখতে পছন্দ করি না, তবে গত‌ পরশু শুভ খেলা দেখছিলো। আমি আমার কমিউনিটির কাজ সেরে ভেবেছিলাম শুয়ে পড়বো।

কিন্তু শাশুড়ি মা আর ও শুভ সম্পূর্ণ খেলা নিয়ে এতো আলোচনা করছিল যে, নিজেকে আর আটকাতে না পেরে রাত প্রায় দুটো নাগাদ আমি গিয়েও ওদের সাথে বসলাম।

IMG_20260721_193211.jpg

স্পেন শুরু থেকেই অদম্য চেষ্টা করেছে গোল দেওয়ার, তবে আর্জেন্টিনার খেলাও ততটাই ভালো যে, তারা রীতিমতো গোল গুলো আটকেছে। সত্যি কথা বলতে ব্যক্তিগতভাবে আমি কোনো দলেরই সাপোর্টার নই। তবে এদিন স্পেন হেরে গেলে আমার একটু খারাপ লাগতো। কারণ শুরু থেকে করা ওদের চেষ্টাটা ব্যর্থ হতো।

IMG_20260720_041634.jpg

IMG_20260720_041605.jpg

IMG_20260720_041557.jpg

IMG_20260720_041539.jpg

আর এতো বছর বাদে ফাইনালে উঠে জেতার জন্য যে অদম্য লড়াই ওরা লড়েছে, শেষ পর্যন্ত তাতে সফলতা পেয়েছে দেখে ভালো লাগলো। আমি অবশ্য ভেবেছিলাম আর্জেন্টিনা একটা গোল দিয়েই দেবে। তারপর আবার ট্রাইবেকার হবে, তবে সেটা শেষ পর্যন্ত হয়নি।

IMG_20260720_040939.jpg

IMG_20260720_040859.jpg

IMG_20260720_040853.jpg

আর্জেন্টিনার দল বললেই যার কথা সবার মনে আসে, সে হলো মেসি। গত পরশু খেলার শেষে মেসিকে দেখে মনটা খুব খারাপ লাগছিলো। খেলার প্রতি কতখানি ভালোবাসা, কতটা আবেগ থাকলে অমন ভাবে কান্না করা যায়, সেটা কাল মেসিকে দেখে বুঝলাম। এটাই ওনার শেষ বিশ্বকাপ ছিলো।

এরপর থেকে দেশের হয়ে হয়তো আর মাঠে নেমে ফুটবল খেলবে না। বিশ্বকাপে হয়তো উনি এবার জিততে পারেননি, তবে বহুবার গোটা বিশ্বের মানুষের মন জিতেছেন ওনার ট্যালেন্ট দিয়ে, একথা অস্বীকার করার জায়গা নেই।

IMG_20260721_193138.jpg

IMG_20260720_040526.jpg

IMG_20260720_040422.jpg

আর্জেন্টিনার টিমকে সাপোর্ট করা প্রতিটি মানুষের মন ভেঙেছে। মেসির মতো করে তাদেরও মন খারাপ হয়েছে। তবে সত্যিই যদি আপনি নিরপেক্ষ বিচার করেন, তাহলে গতপরশু স্পেন অসামান্য খেলেছে এ কথা মানতেই হবে। আর শেষ পর্যন্ত লড়াইটা ওরা জেতার জন্যই লড়েছে। ২০১০ সালের পর ২০২৬ সালে স্পেন বিশ্বকাপ জিতলো। এই দীর্ঘ ১৬ বছরের লড়াইটা ওরা এদিন মাঠে সকলে একসাথে লড়েছে।

যাইহোক শুরু থেকে খেলা না দেখলেও রাত দুটোর পর থেকে খেলা কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখেছিলাম। যতক্ষণ মেসি মাঠের বাইরে না বেরিয়েছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা তিনজনেই বসে খেলা দেখছিলাম। ঘড়িতে তখন ভোর চারটে বেজে‌ সতেরো মিনিট।

খেলা শেষ হয়ে যাওয়ার পর প্রাইজ ডিস্ট্রিবিউশনের শেষে, ট্রফি নিয়ে স্পেনের প্রতিটি খেলোয়াড় যে আবেগে ভেসেছিলো, সেই দৃশ্যগুলো উপভোগ করলাম।

IMG_20260720_041424.jpg

IMG_20260720_040729.jpg

IMG_20260720_035940.jpg

খেলোয়াড়দের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার জন্য প্রধান অতিথি হিসেবে স্টেজে‌ উপস্থিত ছিলেন ফিফার সভাপতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টও। স্পেনের ফুটবল দলে কম বয়সী অনেক ছেলেরা খেলেছে এবার, যাদের দক্ষতা অসামান্য। তাদেরকেও আলাদা করে পুরস্কৃত করা হয়েছে এমনকি গোল কিপারকেও।

স্পেনের যে কোচ ছিলেন, তাকেও আমার বেশ ভালো লাগলো। আমি যদিও তাকে চিনতাম না, শুভই আমাকে চিনিয়েছিলো। তবে শেষ মুহূর্তে মেসির কান্না দেখে মনটা অনেক খারাপ হয়েছিলো। আরও একটা বিষয় জেনে ভালো লাগলো।

IMG_20260721_193138.jpg

IMG_20260720_040410.jpg

IMG_20260720_040400.jpg

স্পেনের টিমে একটা ছেলে ছিলো, যে একদম ছোট বয়সে মেসির সঙ্গে একটা অ্যাড করেছিলো। তখন সে একেবারেই ছোট্ট ছিলো। তবে এইবারের বিশ্বকাপে সেই ছেলেটি ছিলো মেসির প্রতিপক্ষ। খেলার শেষে মেসি যখন মাঠে বসেছিলো, তখন ছেলেটি এসে মেসিকে জড়িয়ে ধরেছিলো।

বিষয়টি গতকাল শুভর কাছ থেকে শুনলাম এবং এটা দেখে বেশ ভালোও লাগলো যে, ছেলেটার কাছে এটা একটা বড় পাওনা যে সে‌ বিশ্বকাপ খেলেছে। তার টিম জিতেছে। অবশ্য মেসির কাছেও তাই। তিনিও হয়তো এই বিষয়টাকে অনেক ভালোভাবে নিয়েছেন‌ যে, জিতে যাওয়ার পরেও ছেলেটা এগিয়ে এসে তাকে সাপোর্ট করেছে।

IMG_20260720_040507.jpg

IMG_20260720_033802.jpg

তবে সেই ভালোলাগা প্রকাশ করার থেকেও, নিজের খারাপ লাগাটাতেই উনি সীমাবদ্ধ ছিলেন। যেটা খুব স্বাভাবিক। এই বিশ্বকাপ ওনার শেষ বিশ্বকাপ ছিলো। তাই এটা জিতলে হয়তো জীবনের অনেক বড় প্রাপ্তি হতো। তবে একথাটাও একেবারে ঠিক‌ যে, প্রতিটা দিন সকলের জন্য সমান যায় না। আর গতপরশু আর্জেন্টিনার জন্য দিনটা খারাপ ছিলো।

IMG_20260720_041615.jpg

যাইহোক সম্পূর্ণ খেলা দেখে বেশ ভালোই লাগলো। যদিও এটা আমার প্রিয় খেলা নয়, তবে বেশ উপভোগ করেছি। রাত জেগে ফুটবল বিশ্বকাপ দেখার অনুভূতি একেবারে মন্দ নয়।

IMG_20260720_041702.jpg

প্রায় ভোরের দিকেই শুতে গিয়েছিলাম। আর গতকাল শুভ অফিসেও যেতে পারেনি। কারণ ভোর পাঁচটা নাগাদ শুতে গিয়ে, তারপর আর উঠে অফিসে যাওয়ার মতো অবস্থা ছিলো না।

বিশ্বকাপ ফুটবলের জন্য একদিন অফিস ছুটি করলো, একটা স্মরণীয় ঘটনা‌ বটে। যাইহোক এই ছিলো আমার বিশ্বকাপ ফুটবল ফাইনাল দেখার অভিজ্ঞতা, যেটা লেখার মাধ্যমে এবং খেলা দেখাকালীন মোবাইলে তোলা ছবির মাধ্যমে আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম।

আপনারা কারা কারা খেলা দেখেছেন এবং আপনারা কোন দলকে সাপোর্ট করেন। অবশ্যই মন্তব্যের মাধ্যমে জানাবেন। সকলে খুব ভালো থাকবেন। শুভরাত্রি।

Sort:  
image.png
Curated By: lirvic
Loading...

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.102
BTC 65898.43
ETH 1925.05
USDT 1.00
SBD 0.38