 "শ্যামামায়ের গৃহ প্রবেশ" |
Hello,
Everyone,
আশাকরি আপনারা সকলে ভালো আছেন। তবে বর্তমানে আমি একেবারেই ভালো নেই। কারণ আমার শরীরটা বেশ খারাপ হয়েছে গতকাল থেকে।
যেমনটা আপনাদের আগের পোস্টে জানিয়েছিলাম, আমার দিদি বাড়িতে গতকাল রাতে কালীপুজো ছিলো। ফলতো গতকাল সারাদিন যথেষ্ট পরিশ্রম হয়েছে। সারাদিন উপোস থেকে পুজোর যোগাড় করে, আবার সারারাত জাগার একটা ক্লান্তি থাকবে এটা তো স্বাভাবিক।
তার পাশাপাশি ছিলো আবহাওয়ার পরিবর্তন। আসলে দিদিদের ফ্ল্যাটে এখনও রীতিমতো ফ্যান চালাতে হয়। আর আমাদের বাড়িতে ফ্যান চালানো বন্ধ হয়ে গেছে বেশ কিছুদিন হলো। ফলে আবহাওয়ার তারতম্য কতখানি তা আশাকরি বুঝতে পারছেন।
 "সকালের শুরুটা শ্যামাসঙ্গীত দিয়ে হয়েছিলো" |
যাইহোক পুজোর দিন অর্থাৎ গতকাল সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নিলাম। দাদা সকালে উঠে টিভিতে শ্যামাসঙ্গীত চালালো। সেগুলো শুনেই মনটা ভালো হয়ে গেলো। সত্যিই যেন পুজো পুজো মনে হলো। যাইহোক এরপর পুজোর সব বাসনপত্র গুছিয়ে নিয়ে ছাদে চলে গেলাম আমরা।
 "দিদিদের ফ্ল্যাটের থেকে সকালবেলায় প্ল্যাটফর্ম দেখার মুহূর্ত" |
 "বাসন মাজা ধোয়া হওয়ার পরবর্তী মুহূর্ত" |
 "সব বাসন নীচে আনার পরের মুহূর্ত" |
পুজো মানেই তাতে অনেক রকম বাসন প্রয়োজন। তবে ছাদে জায়গা থাকাতে সুবিধা রয়েছে অনেক। কারন বড়ো বড়ো বাসন গুলো ফ্ল্যাটের বেসিনে মাজা ধোয়া সম্ভব হয় না। তাই সব বাসন ছাদে মেজে, ওখানেই একটা সিঁড়িতে জল ঝড়াতে রেখে, আমরা নীচে এসে এক এক করে স্নান করে নিলাম।
 "চিনি দিয়ে তৈরি নারকেল নাড়ু" |
 "খই এর মোয়া" |
 "গুড়ের নাড়ুর প্রস্তুতির মুহুর্ত" |
 "আনুসঙ্গিক আরও কিছু ভোগের জিনিস তৈরীর সময় তোলা ছবি" |
এরপর নাড়ু, মোয়া এইসবকিছু তৈরির যোগাড় করতে শুরু করলাম। ফাঁক মতো নিজের পোস্টটা শেয়ার করে আমিও সবকিছু তৈরীতে হাত লাগালাম। আসলে এই পুজোতে যারা উপোস ছিলো, তারাই শুধুমাত্র পুজোর জন্য এইসবকিছু আয়োজনে সাহায্য করতে পারে। তাই মামীর সাথে আমরা দুইজন সাহায্য করলাম।
 "আলপনা দেওয়ার মুহূর্ত, তিতলিকে দেখে তখন মনটা বেশ ভালো লাগছিলো" |
এইবার আলপনা কারা দিয়েছিলো আশাকরি উপরের ছবি দেখে বুঝতেই পারছেন। তিতলির তখন জ্বর ছিলো না তাই একটু এসে বসেছিলো সবার সাথে। শীতকালে সময় বড্ড তাড়াতাড়ি চলে যায়, তাই সবকিছু করতে করতে কখন দুপুর গড়িয়ে গেলো যেন বুঝতেই পারলাম না। বিকালের দিকে সকলে আসতে শুরু করলো এক এক করে। পারিবারিক অনুষ্ঠানের এই জিনিসটা খুব ভালো, বহুদিন বাদে আবার অনেকের সঙ্গে দেখা হয়।
বেশ কিছুসময় এই ভাবেই পেড়িয়ে গেলো। সন্ধ্যাবেলায় ঠাকুর আনতে যাওয়ার সময় ঢাকিরাও চলে এলেন। দিদিদের ফ্ল্যাটের খুব কাছেই ওরা প্রতিমা তৈরি করতে দিয়েছিলো। তবে মায়ের পরনের শাড়ি ও হাতের শাঁখা পলা গুলো দিদিরা কিনে ওনাকে দিয়ে এসেছিলো। উনি সেগুলোই মা কে পড়িয়েছেন।
 "তাতান ও অন্য একটি বাচ্চার নাচের মুহূর্ত" |
যাইহোক একটি ভ্যান ও ঢাকিদের সাথে নিয়ে আমরা সকলেই হাঁটতে শুরু করলাম মাকে আনার উদ্দেশ্যে। ঢাকের আওয়াজের সাথে সাথে সকলের সাথে হাঁটতে বেশ ভালো লাগছিলো। বাচ্চারা অনেক আনন্দ করছিলো, তাতানও অন্য একজন দাদার ছেলে নাচ করছিলো।
 "মাকে ভ্যানে তোলার পূর্ব" |
তবে তিতলির জন্য মনটা সকলেরই খারাপ ছিলো। এখনও পর্যন্ত শরীর পুরোপুরি ভালো নেই ওর। সেদিন মা কে বরন করে ঘরে তোলার পর, দিদি ওকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলো। তিনি অ্যান্টিবায়োটিক দিয়েছেন।
 "মা কে তার আসনে বসানোর পরের মুহূর্ত" |
 "পুরোহিত মশাই পুজোর সবকিছু গোছগাছ করছেন" |
যাইহোক এরপর সবকিছু যোগাড় করে নিয়ে তারপর পুজো শুরু হলো, যা সারারাত ব্যাপী চললো। আপনাদের আগেই বলেছি দিদিদের যিনি ব্রাক্ষ্মণ ছিলেন, তিনি সত্যিই ভীষণ ভালো করে পুজো করেন। যাইহোক খুবই সুন্দর ভাবে গতকাল মায়ের পুজো সম্পন্ন হয়েছে। শেষ পর্বে আপনাদের সাথে বাকি অনুভুতি গুলো শেয়ার করবো। ভালো থাকবেন। শুভরাত্রি।
Curated By: @damithudaya
Thank you for your support @damithudaya. 🙏