"আনন্দ ও মন খারাপের এক মিশ্র অনুভূতি"
Hello,
Everyone,
অন্যান্য দিনের তুলনায় আজ অনেক সকালে ঘুম থেকে উঠেছি। একটু সকালের দিকে ঘুম থেকে উঠলে দিনটাকে যেন আরো অনেক বেশি বড় মনে হয়। যদিও আজ রবিবার ছুটির দিন। অন্যান্য রবিবার গুলোতে একটু বেশি বেলা পর্যন্ত ঘুমানোর ইচ্ছা জাগে, আজও যে এমন ইচ্ছে ছিল না এমন নয়। তবে যেহেতু গতকাল একাদশী ছিলো। তাই আজ সময়ের মধ্যে আমাকে পারণ শেষ করতে হতে বলেই, বেশ সকালে ঘুম থেকে উঠতে বাধ্য হয়েছি।
অন্যান্য দিন পারণে সময় বেশ বেলাতে থাকে, তবে এবার অনেকটাই সকালে। তাই তার আগে উঠে ঘরের কাজ সেরে, স্নান করার প্রয়োজন ছিলো বলেই আরও বেশ কিছুটা সকালে ঘুম থেকে উঠেছি। পারণের নিয়মাবলী সম্পন্ন করে কমিউনিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজও শেষ করে নিয়েছি। আসলে আজ অ্যাডমিন ম্যাম কর্তৃক আয়োজিত কনটেস্টের শেষ দিন, তাই সকল ডিটেইলস গুলো বের করে ইতিমধ্যে ম্যামকে মেইল করে দিয়েছি। তারপর হাতে সময় আছে দেখে ভাবলাম পোস্ট লিখতে বসি।
একটু পর থেকেই আসলে ব্যস্ততা শুরু হবে। কারণ আজ রাতে আমি বেড়াতে যাচ্ছি আমার স্বপ্নের দার্জিলিং এ, জীবনে এই প্রথমবার। এতোদিন পর্যন্ত ভিডিওতে, ছবিতে বহুবার দার্জিলিং ঘুরে দেখেছি, তবে নিজের চোখে চাক্ষুষ করার সুযোগ এই প্রথমবার।
আগেরই কোনো একটা পোস্টে আমি জানিয়েছিলাম, আমাদের টিকিট কনফর্ম হয়ে গেছে, কিন্তু আমি যাবো কিনা সেই বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারিনি। যেহেতু শশুর মশাইয়ের শরীরের অবস্থা খুব বেশি ভালো নয়। তাই এতোদিন পর্যন্ত কিছুই গোছগাছ করিনি। কারণ সমস্ত কিছু গুছিয়ে, মনে মনে সমস্তটা প্ল্যান করে নিয়ে, যদি শেষ পর্যন্ত যাওয়া না যায়, তখন আরও বেশি করে খারাপ লাগা কাজ করে। তাই আজ সমস্ত কিছু গুছিয়ে নিয়ে রাতের ট্রেন ধরে রওনা হবো।
তবে আজ সকাল থেকেই একটা অন্যরকমের অনুভূতি মনের ভিতরে কাজ করছে। অবশ্যই এই সমস্যাটা আমার বরাবরের। বাড়ি থেকে অনেকটা দূরে বেড়াতে গেলে প্রথম দিকে নিজের ভেতরে ভীষণ উত্তেজনা কাজ করে। তবে যাওয়ার দিন যত এগিয়ে আসে, ততই যেন ভেতরে ভেতরে অন্যরকমের এক খারাপ লাগা শুরু হয়।
সত্যি বলতে হয়তো অনেক সময় আপনাদের মধ্যে অনেকেই আমার লেখা পড়ে এটা অনুভব করেছেন যে, শ্বশুর মশাইয়ের শারীরিক অবস্থা, হসপিটালে কাটানো দিন ও পারিবারিক নানান কারণে জন্য অনেক সময় আমি অনেক বেশি বিরক্ত হয়ে থাকি এবং এটা সত্যিইও।
সেই সময় গুলোতে মনে হয় সবকিছু ছেড়ে দূরে কোথাও চলে যাই। চুপচাপ নির্জন পরিবেশে কিছুটা সময় কাটাই। আবার কখনো কখনো মনে হয় বন্ধুদের সাথে বেরিয়ে পড়ি এদিক ওদিক ঘুরে বেড়ানোর জন্য। জীবনটাকে উপভোগ করি, কারণ আমারও জীবনের দিন একটা একটা করে ফুরিয়ে যাচ্ছে। তবে যখনই একটু দূরে ঘুরতে যাওয়ার সুযোগ আসে, তখনই যেন সেই বিরক্তির কারণগুলো হঠাৎ করে খারাপ লাগায় পরিণত হয়।
কথাটা এই কারণেই বলছি, আজ যখন ঠিক বুঝতে পারছি রাতের ট্রেনে আমি অনেকটা দূর চলে যাবো, তখনই যেন শশুর মশাইয়ের এই শারীরিক অবস্থাটাই আমাকে চিন্তিত করে ফেলছে। মনের ভিতরে একটা খারাপ লাগার অনুভূতিও তৈরি হচ্ছে। নানা রকম চিন্তা ভাবনায় ভরে উঠছে মন। ভাবছি হয়তো আমি যাওয়ার পর ওনার শরীরটা আরও খারাপ হবে, আমি সেই মুহূর্তে ফিরতে পারবো কিনা, কিংবা বলতে পারেন এমনটাও ভাবছি যে, আমি কি ফিরে এসে ওনাকে দেখতে পারবো? কারণ আমরা প্রত্যেকেই জানি যে, আমাদের জীবন কতখানি অনিশ্চিত। মুহুর্তের মধ্যে সবটাই পরিবর্তন হতে পারে। ঠিক এই কারণেই কোথাও একটা খারাপলাগা তৈরি হচ্ছে।
সকাল থেকে বান্ধবীরা মেসেজ করেই চলেছে। ওরা কেউ ভীষণ আনন্দিত আজ সকলে একত্রে বেড়াতে যাবো বলে। বিষয়টা নিয়ে আমিও যে আনন্দিত নই, এমনটা বলবো না। তবে আনন্দের পাশাপাশি কিছু খারাপ লাগাও কাজ করছে। তবে খারাপ লাগা গুলো প্রশয় দিলে আনন্দটা উপভোগ করা হবে না, এই কারণে খুব চেষ্টা করছি নিজেকে সংযত রেখে, খুশিটাকে উপভোগ করার। কিছুক্ষণ বাদে প্যাকিং শুরু করবো, এরপর কমিউনিটিরও বেশ কিছু কাজ রয়েছে, সেগুলো সম্পন্ন করতে হবে।
আমি চেষ্টা করবো প্রতিদিন আপনাদের সাথে কোনো না কোনো লেখা শেয়ার করার। তবে সত্যি কথা বলতে ওখানে নেটওয়ার্কের অবস্থা কেমন হবে সেটা জানা নেই। এমনকি সেখানে বৃষ্টিও হচ্ছে অনবরত। সবকিছু মিলিয়ে এবারের অনুভূতি সম্পূর্ণ নতুন ও ভিন্ন হতে চলেছে, এটুকু বুঝতে পারছি। তবে সেখানে থাকাকালীন সময়ে না হলে, ফিরে এসে সমস্ত অনুভূতি আপনাদের সাথে অবশ্যই শেয়ার করবো। কারণ মনের কথা শেয়ার করার মতন, বর্তমানে আমার জীবনে এই একটাই জায়গায় রয়েছে।
যাইহোক সকালে খুব ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন, সাবধানে থাকবেন। সকলেরই আজকের দিনটি খুব ভালোভাবে কাটুক এই প্রার্থনা রইলো। ধন্যবাদ।
আপনি দার্জিলিং যাচ্ছেন জেনে ভালো লাগলো ।আপনার উপর দিয়ে অনেক দিন থেকেই চাপ যাচ্ছে।বাড়িতে কোন রোগী থাকলে শরীর ও মন দুটোর উপরই চাপ পরে ।তখন মনে হয় দূরে কোথাও চলে যাই এসব থেকে ।কিন্তু কোথায়ও গেলেও শান্তিতে থাকা যায় না ।একধরণের আতংক কাজ করে মনের মাঝে ।এই ধরনের পরিস্থিতি আমি পার করে এসেছি তাই বুঝতে পারি ভাল করেই।
এসব ভাবনাকে একপাশে সরিয়ে রেখে ঘুরে আসুন কয়েকটি দিন নিজের মতো করে ।
সাথে সম্ভব হলে বেড়ানোর ছবি ও লেখা শেয়ার করবেন।আপনার চোখ দিয়েই না হয় দার্জিলিং দেখবো ।
ভালো থাকবেন সবসময় ।