গৃহিনীর জীবনের এক ব্যস্ত দিন
আসসালামু আলাইকুম
জীবনটা সবসময় সহজ হয় না। প্রতিটি দিন যেন একেকটা যুদ্ধ আর সেই যুদ্ধে সৈনিক হলাম আমি একজন গৃহিনী। হয়তো ভাবেন গৃহিণী জীবন মানে আরাম আর বিশ্রাম। কিন্তু বাস্তবতা ঠিক তার উল্টো। প্রতিটা দিন প্রতিটা মুহূর্তে কিছু না কিছু প্যারা লেগেই থাকে। অসুস্থতা কষ্ট আর দায়িত্ব মিলিয়ে একটা জটিল আবহ তৈরি করে দেয় এই গৃহিনী জীবনে।
আজকের সকালটা ছিল অন্যরকম। রান্নাঘরে গিয়েছিলাম ভাত রান্না করতে। সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল কিন্তু হঠাৎ করেই ভাতের মার গলাতে গিয়ে হাতে প্রচন্ড রকমের মার পড়ে যায়। গরম সেই তরলে আমার হাত একেবারে লাল হয়ে যায়। সেই মুহূর্তের যন্ত্রণা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। মনে হচ্ছিল জীবন যেন এখানেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। তবুও থেমে থাকলে তো চলবে না। বরফ দিয়ে ঠান্ডা করলাম কিছু ঘরোয়া উপায় ও ব্যবহার করলাম। তবুও সারাটা দিন হাতটা জ্বালা করেই গেছে। এই অবস্থাতেই রান্না করলাম চিংড়ি মাছ দিয়ে আলু আর পেয়াজ মিশিয়ে। রান্নাটা ভালোভাবে করতে পেরে একটু শান্তি পেলাম। আমার হাজব্যান্ড অফিস থেকে ফিরে এসে যখন বলল খুব মজা হয়েছে খাবার, তখন সব কষ্ট যেন কিছুটা হালকা লাগল।এরাই মধ্য আমার হাজব্যান্ড বাজার করে ফিরেছে। মেয়ের জন্য নিয়ে এসেছে কলা আরো নানারকমের ফল আর প্রয়োজনীয় বাজার সদাই।
ওর হাতে এত কিছু দেখে মনে হল যেন আমার কষ্টগুলো নিজের মতো করে ভাগ করে নিচ্ছে। এসব ছোট ছোট ভালবাসার বহিঃপ্রকাশ এইতো আসলে আমাদের সংসারকে এতটা সুন্দর করে রাখে। আমার মেয়ে ছোট তাই ওর জন্য সবসময় কিছু না কিছু রাখতে হয়। আজ কলা দেখে ওর মুখে যে হাসিটা দেখলাম সেটা আমাকে ভুলিয়ে দিল হাতের জ্বালা দিনের ক্লান্তি সবকিছু। একটা কথা বলি গৃহিণী হওয়া মানে শুধু রান্না,পরিস্কার, সন্তান সামলানো না। এর মানে হচ্ছে একটা সংসারের প্রতিটি খুঁটিনাটি সামলে নেওয়া। নিজের শরীর খারাপ থাকলেও রান্না করতে হয় সন্তানের দেখাশোনা করতে হয় হাসিমুখে স্বামীকে অভ্যর্থনা না জানাতে হয়।এই প্রতিদিনের কষ্ট আর দায়িত্বের মধ্যেই আমি খুঁজে পাই ভালোবাসা আত্মত্যাগ আর জীবনে আসল সৌন্দর্য।
এই জ্বলন্ত হাতের মাঝেও আমি খুঁজে পাই শান্তির সুবাস যেটা আসে আমার স্বামীর একটা হাসি আমার মেয়ের এক চিলতে আনন্দ থেকে। জীবন সহজ নয় কিন্তু ভালোবাসা থাকলে সব কিছুই কিছুটা সহজ হয়ে যায়। আর আমি সেই ভালোবাসাকে আঁকড়ে ধরে বাঁচি প্রতিদিন প্রতিটি মুহূর্ত। এই লেখাটি শুধু আমার একটা দিনের গল্প না এটা প্রতিটি গৃহিনির প্রতিদিনের সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি। যারা বাইরে থেকে বোঝেনা তাদের জন্য বলতে চাই একজন গৃহিনী মানে সে একজন ম্যানেজার,নার্স,বাবুর্চি,শিক্ষিকা এবং কখনো কখনো একজন যোদ্ধা। তাই আসুন গৃহিনীদের সম্মান করি তাদের কথা শুনি তাদের অনুভব করি তাদের মতো করে চিন্তা করার চেষ্টা করি।
আজ তাহলে এ পর্যন্তই সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন আর আমার জন্য দোয়া করবেন ধন্যবাদ সবাইকে।