সহকর্মীদের বিদায়
হ্যালো বন্ধুরা
২৭শে ফেব্রুয়ারি ছিল আমার দুইজন কলিগের বিদায়ের দিন। একজন অন্যত্র ট্রান্সফার হয়ে গিয়েছে, আরেকজন চাকরি থেকে অবসর নিয়েছে। দুজন সহকর্মী ই আমার খুব কাছের এবং পছন্দের ব্যক্তি ছিলেন। চাকরি জীবনে দীর্ঘদিন এক সাথে থাকার ফলে পরস্পরের সাথে একটা সুসম্পর্ক তৈরি হয়। তাছাড়া দুজনেই বয়সে আমার বড় ছিল বলে, আমি তাদেরকে বড় ভাইয়ের মতোই দেখতাম।
মজার বিষয় হল আমরা হাজব্যান্ড ওয়াইফ একই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি ।তাই আমার সব কলিক রাই আমাকে ভাবি বলে ডাকে। আমি একমাত্র ভাবি, তাই আমার কাছে ওদের বিদায়টা একটু খারাপ লেগেছে। যেকোনো প্রয়োজনে আমাকে ভাবি বলে সম্বোধন করত এবং একটু বেশি সম্মান করতো।
যেহেতু সামনে রোজার বন্ধ পরে যাবে প্রায় 40 দিনের মতো বন্ধ থাকবে স্কুল ।সেজন্য চারটি ক্লাস হওয়ার পর উনাদের বিদায়ের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল। এবং আমাদের কারখানার জি এম মহোদয় এই বিদায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
বিদায় অনুষ্ঠান টা অন্যান্য আট দশটা অনুষ্ঠানের চেয়ে একটু ভিন্ন রকম হয়। সবার মন খারাপ ছিল বিশেষ করে আমাদের ধর্মীয় শিক্ষক যিনি, তিনি ছিলেন কুরআনে হাফেজ আমাদের স্কুলে বা কলেজে যে কোন অনুষ্ঠানে উনি কোরআন তেলাওয়াত করতেন এবং কোরআনের আয়াতগুলো বাংলায় অনুবাদ করে শোনাতেন ।তাছাড়া উনি সু কন্ঠের অধিকারী ছিলেন।ওনার তেলাওয়াত এত মধুর , যা ভাযায় প্রকাশ করার মত নয় ।
আমাদের কলেজের প্রিন্সিপাল মহোদয় বারবার ওনার কথা বলছিলেন। আমরা একজন সুমধুর কন্ঠের কোরআন তেলাওয়াতকারীকে হারাবো ।উনার কন্ঠে আর কোরআন তেলাওয়াত শুনতে পারবো না ।উনি চলে গেলেও উনার কোরআন তেলাওয়াত আমাদের হৃদয়ে দাগ কেটে থাকবে সারা জীবন।
আসলেই তাই ,কারো শূন্যস্থান কেউ পূরণ করতে পারে না। আর কারো বিকল্প কেউ হতে পারে না প্রতিটা মানুষের মধ্যে আলাদা বৈশিষ্ট্য থাকে ।আর সেই বৈশিষ্ট্য গুলির জন্য সে সারা জীবন সে তার স্থান দখল করে থাকে। একজন আমাদের প্রতিষ্ঠানের ধর্মীয় শিক্ষক আরেকজন হচ্ছেন সহকারী প্রধান শিক্ষক দুজন শিক্ষকই আমাদের প্রতিষ্ঠানের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন।
সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে বিভিন্ন জায়গায় প্রয়োজন বোধে ট্রান্সফার করে দেয় ,এতে কারো হাত থাকে না। যেতে ইচ্ছে করে না করলেও যেতে হয়। মনের বিরুদ্ধেও করতে হয়। কিছু করার নেই। মেনে নেওয়া ছাড়া আসলে তেমন কিছু করার থাকে না। উনারা ও হয়তো বাস্তবতা মেনে নিয়েছেন ।তাই প্রিয় জায়গা পরিচিত মুখ ছেড়ে অচেনা অজানা জায়গায় জীবিকার তাগিতে চলে যাচ্ছেন।
আমাদের সবারই মন খারাপ ছিল। অনেক সহকর্মী তাদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন ।অনেকে আবার কান্নায় ভেঙে পড়েছেন অতি স্মৃতি মনে করে। খুব খারাপ লাগছিল আসলে, বেশি খারাপ লাগছিল আমাদের ধর্মীয় শিক্ষক যখন আমাদের কাছ থেকে বিদায় নিতে আসছেন ।এক এক করে নাম ধরে বিদায় নিচ্ছেন আমরা অনেকেই কান্না করে দিয়েছি।
দোয়া করি মহান রাব্বুল আলামিন যেন তাদেরকে ভালো রাখেন এবং বাকি জীবনগুলো যেন সুন্দর ভাবে কাটাতে পারেন। আমাদের প্রতিষ্ঠানে ২০২৬ সালের মধ্যে অনেক শিক্ষকের বিদায় হয়ে যাবে। প্রায় প্রতিবছরই দু একজন করে বিদায় নিচ্ছে তবে সবচেয়ে বেশি অবসরে যাবেন 26 সালে।
আমাদের প্রতিষ্ঠানে বিদায় কমিটি রয়েছেন। বিদায় কমিটির কনব্যানার হলেন আমার সাহেব। তাই ওর কাছে কোন শিক্ষক কত সালে রিটায়ার্ড করবেন বা অবসরে যাবেন সেই তালিকা রয়েছে। যাইহোক বন্ধুরা বক্তৃতা পর্ব শেষ করে হালকা পাতলা নাস্তার ব্যবস্থা ছিল সবাই মিলে একসাথে নাস্তা করলাম এবং ক্রেস বিতরণ করা হলো বিদায়ী শিক্ষকদের মাঝে।
এবং আমরা পরস্পরের সাথে কথাবার্তা বলে কিছু ফটোগ্রাফি করলাম স্মৃতি হিসেবে ধরে রাখার জন্য।
যা আজকে আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম। প্রায় অনেকদিন হয়ে গেল লিখব লিখব করে লেখা হচ্ছিল না। একদিকে রমজান মাস অন্যদিকে বিভিন্ন ঝামেলার কারণে পোস্ট লেখা হয়ে উঠছে না।
পরিশেষে আমাদের বিদায়ী শিক্ষকদের জন্য দোয়া করি। আল্লাহ পাক যেন তাদেরকে সবসময় ভালো রাখেন এবং পরিবার পরিজনদের সাথে একটি আনন্দ ঘন পরিবেশে বসবাস করতে পারেন। সে প্রত্যাশা ব্যক্ত করে আজকের মত এখানেই বিদায় নিচ্ছি আল্লাহ হাফেজ, শুভরাত্রি।
এক এক করে আপনাদের সহকর্মীরা বিদায় নিয়ে চলে যাচ্ছে হয়তো বা একটা সময় আপনিও এখান থেকে বিদায় নিয়ে চলে আসতে হবে চাকরি জীবন যখন শেষ হয়ে যায় তখন সবাইকেই এর অবসান ঘটাতে হয় যেমন আমরা আমাদের জীবন শেষ করার মাধ্যমে এই পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়ে চলে যায় সবার জন্য দোয়া করি সবাই ভাল থাকুক আপনাদের বিদায় অনুষ্ঠানে আপনারা অনেক বেশি আনন্দ করেছেন এবং অনেক বেশি শোকাহত হয়েছেন আসলে এতদিন একসাথে কাজ করার পর একটা মানুষকে বিদায় দেয়া অনেক বেশি কষ্টকর।