মেয়েদের জীবনের বাস্তবতা বড় কঠিন//"যদি সেটা হয় একজন গরিবের মেয়ে"(জীবনের গল্প)//দ্বিতীয় পর্ব
বাস্তবতা অনেক কঠিন তা হয়তোবা বাস্তব জীবনের এই কঠিন রূপ না দেখলে আমি জানতে পারতাম না। কিছু ভুল সিদ্ধান্ত মানুষের জীবনটা পুরো ধ্বংস করে দেয়। যেটার প্রমাণ আমি দেখতে পেয়েছি।
হ্যালো বন্ধুরা কেমন আছেন আপনারা সবাই। আশা করি সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে সবাই অনেক ভাল আছেন। আমিও আপনাদের দোয়ায় এবং আল্লাহর অশেষ রহমতে আলহামদুলিল্লাহ অনেক ভালো আছি।
মেয়েদের জীবনের বাস্তবতা বড় কঠিন//"যদি সেটা হয় একজন গরিবের মেয়ে"(জীবনের গল্প)//দ্বিতীয় পর্ব
প্রতিনিয়তই যখন মেয়েটা এই কথাগুলো সম্মুখীন হতো। প্রথম প্রথম মেয়েটা চুপ করে থাকতো। কিন্তু একটা কথা মানুষ হয়তো বা মজা করে একদিন বলে। দুই দিন বলে বা আমি মেনে নিলাম তিন দিন বলে। কিন্তু এইভাবে দিনের পর দিন একটা কথা যখন মেয়েটাকে বলা হতো। একটা সময় মেয়েটার মনে কষ্ট পাওয়া শুরু হলো।
মেয়েটাকে বলতো তোর বাবার কি আছে। আর তুই বাপের বাড়ি থেকে কি কিছু শিখে আসিস নি। কোন কিছুই তো দেখছি তুই পারিস না। আসলে আমার ঠিক জানা নেই মেয়েরা বাপের বাড়িতে কতটুকু কাজ করে না করে। তবে আমার মনে হয় না মেয়েরা তেমন একটা কাজ করে বাপের বাড়িতে।
যাক এভাবেই মেয়েটা সংসার চলতে লাগলো। মেয়েটার বিয়ের যখন ৮ মাস চলে তখন মেয়েটার জন্য একটা সুখবর আসলো। যেটা আসলে প্রত্যেকটা মেয়ের জন্যই অনেক সুখের একটা খবর হয়ে থাকে। যখন তার সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
খবরটা খুবই সুখের একটা খবর ছিল, খুশির একটা খবর ছিল। যাইহোক ধীরে ধীরে এভাবেই মেয়েটার সংসার এগিয়ে যেতে লাগলো। যখন মেয়েটার ৭ মাস গর্ভ অবস্থায় তার শ্বশুর-শাশুড়ি তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যায়। এবং তারা বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষা করে জানতে পারে তাদের নাতি হবে।
তারাও অনেক খুশি কিন্তু তারা তাদের বউকে তার বাবা-মায়ের সাথে কথা বলা থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। কারণটা হচ্ছে তারা তাদের মেয়ের জন্য তেমন কিছুই নিয়ে আসতে পারে না ঠিকমতো। আমি আগেই বলেছিলাম মেয়েটার বাবা হতদরিদ্র।
- যাইহোক এই খুশির সংবাদ টা মেয়েটা তার বাবাকে কোনমতে জানায়। তার বাবা অনেক খুশি হয় কিন্তু তার পরবর্তীতেই শুরু হয় যত অশান্তি।
প্রায় প্রত্যেক দিনই মেয়েটার সামনে মেয়েটা শ্বশুর শাশুড়ি ননদ সবাই বলতো। যে যখন কোন পরিবারে নতুন সন্তান জন্মগ্রহণ করে। আর সেই সন্তান যখন ছেলে হয়। তখন নাকি নানার বাড়ি থেকে একটা ছাগল উপহার হিসেবে দিতে হয়। যেটা দিয়ে ওই ছেলের আকিকা দেয়া হয়।
মেয়েটার সামনে প্রত্যেকদিন এই কথা বলতো। এবং তাকে ফোর্স করতো। তার বাবা-মাকে বলার জন্য। যে তার যখন ছেলে হবে। সে ছেলের জন্য, যেন একটা ছাগল তারা উপহার হিসেবে তার শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে আসে।
- মেয়েটা প্রায় সময় কথাটা শুনে চুপ থাকতো। কিন্তু একটা সময় সরাসরি তাকে বলেই দিল। তার সন্তান হওয়ার পরে তার বাবা মা যদি এই বাড়িতে তার নাতিকে দেখতে আসে। তাহলে যেন তারা একটা ছাগল উপহার হিসেবে নিয়ে আসে। যেটা দিয়ে তার ছেলের আকিকা দেয়া হবে।
মেয়েটার ছেলে হওয়ার ঠিক ২ দিন পর। তার শ্বশুর বাড়ির লোকেরা তার প্রতি আরো চাপ সৃষ্টি করতে লাগলো।
মেয়েটা কোন উপায় না দেখতে পেয়ে, বাবা-মাকে শেষমেশ কথাটি বলে দিল। তারপরে তার বাবা-মা যেভাবেই হোক ম্যানেজ করে। একটা ছাগল নিয়ে এসে তার নাতিকে দেখে গেল, তার সাথে অনেক জিনিসপত্র নিয়ে এসেছিল।
কিন্তু মেয়েটা বারবার চিন্তা করছিল। তার বাবা-মা এই জিনিসগুলো কোত্থেকে নিয়ে এসেছিল। কারণ তার বাবার তেমন কোন ইনকাম ছিল না। তার দুই ভাই এক ভাই পড়াশোনা করত,আরেক ভাই কোনরকম টুকটাক কাজ করতো এত টাকা বাবা মা কোথায় পেলো।
আজও মেয়েটা জানতে পারেনি, তার বাবা মা সেই ছাগলের টাকা। কিংবা সে জিনিসপত্রের টাকা কোত্থেকে ম্যানেজ করেছিল। যাই হোক তারা এসেছিল খুশিমনে তাদের নাতি দেখে দেখে গিয়েছিল এবং তার শ্বশুর বাড়ির লোকেরাও অনেক খুশি হয়েছিল। কারণ মেয়েটার বাবা-মা অনেক গুলো জিনিসপত্র নিয়ে এসেছিল।
এভাবেই আরো দেড় বছর কেটে গেল।প্রতিনিয়তই মেয়েটা কঠোর পরিশ্রম করতো। কিন্তু তার পরেও তাকে শুনতে হত দিনশেষে সে কি করছে, সে তো কিছুই পারে না।
- একদিন এই সব কথা শুনতে শুনতে মেয়েটা বিরক্ত হয়ে গেল। সে তার বাবার বাড়িতে চলে গেল কাউকে কিছু না বলে। ছেলেটাকে সাথে নিয়ে এবং ওখানে গিয়ে তার বাবা-মাকে সব কিছু খুলে বলল। যে সে আর তার শ্বশুরবাড়িতে যাবে না। কারণ তারা এমন এমন কথা বলে সে আর এই কথা গুলো সহ্য করতে পারছে না।
তার স্বামী ও তাকে ততটা গুরুত্ব দিত না। তার বাবা-মা যা বলতো তাই করতো। তার স্বামী ছোটখাটো একটা চাকরি করতো।তার সংসার মোটামুটি সে চালাত,কিন্তু মেয়েটার যে কিছু খরচ আছে। সে কখনোই সেদিকে খেয়াল রাখত না।
কথাগুলো শুনে মেয়েটার বাবা-মা খুব কষ্ট পেয়েছিল। এবং কয়েকটা দিন মেয়েটাকে তাদের কাছে রেখে দিয়েছিল। তার হাজবেন্ড তাকে নিয়ে আসার জন্য তার বাবার বাড়িতে গিয়েছিল। কিন্তু মেয়েটা বলেছিল সে আর আসবে না।
চলবে.......
বলতে বলতে অনেক কথাই বলে ফেললাম। জানিনা আপনাদের কাছে কথাগুলো কেমন লাগছে। আপনাদের কাছে কেমন লেগেছে অবশ্যই জানাতে ভুলবেন না। সবাই ভাল থাকুন সুস্থ থাকুন। এই কামনা করে আজকের মত এখানেই বিদায় নিলাম। আসসালামুয়ালাইকুম রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
Thank you, friend!


I'm @steem.history, who is steem witness.
Thank you for witnessvoting for me.
please click it!
(Go to https://steemit.com/~witnesses and type fbslo at the bottom of the page)
The weight is reduced because of the lack of Voting Power. If you vote for me as a witness, you can get my little vote.
আপনার গল্পের মধ্যে অনেক কিছুই বোঝার আছে যেগুলো আমাদের সমাজে এখন চলছে মেয়েদের প্রতি আমরা অনেক অত্যাচার করে ফেলে কিন্তু আমরা কখনো ভাবি না মেয়ে সন্তান আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকেও দিতে পারে।
অনেক ধন্যবাদ আপু আপনি আমাদের মাঝে অনেক সুন্দর একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন আমার খুবই ভালো লাগলো আপনার পোস্টটি পড়ে।
এটা সম্পুর্ণ কুসংস্কার। ইসলামে এরকম কোন নিয়ম নাই। ছেলে মেয়ে যে-ই হোক না কেন, আকিকা দেওয়ার দায়ভার সম্পুর্ন সন্তানের বাবার উপর৷ অর্থাৎ পরিবারের ইনকামের সোর্স থেকে। কিন্তু বর্তমান সব কুসংস্কারাচ্ছন্ন যুক্তিবোধহীন মানুষ এসে উদ্ভট ছড়াচ্ছে।
এসব শশুর শাশুড়ী মানুষের মধ্যেই পড়ে না, একজন মেয়ের জন্য তার বাবা বিয়ের আগ পর্যন্ত যে পরিমান অর্থ আর পরিশ্রম দিয়ে থাকেন, বিয়ের পর প্রতিটা স্বামীর উচিত সেই সমস্ত পরিশোধ করা। অথচ কী হচ্ছে?? বিয়ের পরও মেয়ের বাড়ি থেকে অর্থ সম্পদ নেওয়ার ধান্দায় মেতে উঠেছে। এরা কখনো স্বামী হওয়ারও যোগ্য নয়, শশুর শাশুড়ী হওয়ারও যোগ্য নয়। ভালো থাকবেন।