আজকের শিশুরাই, আগামীর ভবিষ্যৎ

in Incredible India2 years ago

কেমন আছেন বন্ধুরা? আমি সৃষ্টিকর্তার অশেষ মেহেরবানীতে ভালোই আছি। আজ আমি আপনাদের মাঝে “আজকের শিশুরাই, আগামীর ভবিষ্যৎ” শীর্ষক আমার একটি লিখনি উপস্থাপন করলাম। তাহলে শুরু করা যাকঃ-

pexels-naomi-shi-1001914.jpg
source

আজ আমাদের দেশে সাধারণ ছুটির দিন ছিলো। জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে সব অফিস আদালত বন্ধ ছিলো। যেহেতু ছুটির দিন তাই একটু দেড়ি করে ঘুম থেকে উঠি। উঠে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে বাজারের উদ্দেশ্যে বেড়িয়ে পরি। বাজারে যেতেই পুরনো এক বন্ধুর সাথে দেখা হয়ে গেলো।

বন্ধুর সাথে কুশল বিনিময় করে তার পরিবার সম্পর্কে জানতে চাইলে সে খুশিমনেই প্রত্যেকে ভালো আছে বলে জানায়। এরপর সে আরো জানায় তার নাকি একটি ছেলে আছে নাম রবিন। ছেলেটি খুব দুষ্ট কিন্তু ভীতু। বলতে গেলে একেবারে ভীতুর ডিম। বন্ধুর কাছে পুরো ঘটনা জানতে চাইলে সে জানায়,

আমার ছেলেটি প্রতিদিন মোবাইলে বিভিন্ন সিরিয়াল এবং বিভিন্ন কার্টুন দেখতে অভ্যস্ত। কার্টুনে যেসব ক্যরেক্টর শো হয় সেও সেরকম হতে চায়। আমার কাছে সেসব কার্টুন হিরোদের ড্রেস চায়।

বলে যে বাবা আমার এই এই ড্রেস লাগবে, এমন ঘড়ি লাগবে, এমন সাইকেল, মটরবাইক লাগবে। মাঝে মধ্যেও এনেও দেই। তখন সে দারুণ খুশি হয়। নিজে নিজে সুপার ম্যান সাজে, কৃষ তারপর স্পাইডার ম্যান এগুলো সাজে।

সবাইকে দেখিয়ে বেড়ায় যে সে সুপার হিরো। এসব শুনে আমি বললাম তাহলে তো ভালই। সমস্যা কী?

pexels-mohamed-abdelghaffar-783941.jpg
source

এবার বন্ধু বলে বাস্তব জীবনে সে আসলে জিরো। যদি কখনো তেলাপোকা, ইঁদুর, বিড়াল, কুকুর এগুলো দেখে তাহলে বেশ জোড়ে চিৎকার করতে শুরু করে। একদম হুলুস্থুর কান্ড বাজিয়ে দেয়। তাই বাসার সবাই ওকে নিয়ে বেশ ভয়ে ভয়ে থাকে।

ব্যপারটা শুধু ভয় হলে সমস্যা ছিলো না, কিন্তু তার ভয়ের মাত্রা অত্যাধিক।

এগুলো দেখলে সে তার মাকে এমন ভাবে জড়িয়ে ধরে আর চিৎকার করতে থাকে যেন, তার কী জানি হয়েছে। আমি বললাম বন্ধু তোমার ছেলের বয়স কত? সে বললো সাড়ে ছয় বছর। তার এই ভয়ের কারণে তাকে এখনো স্কুলে দিতে পারিনি।

একজন শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এর স্মরণাপন্ন হয়েছিলাম, তিনি কয়েকটি টেস্ট দিয়েছিলো।

টেস্ট গুলো করে আবার ডাক্তারের কাছে গেলে ডাক্তার বলে আমার ছেলের তেমন সমস্যা নেই। কিন্তু ওর মানসিক বিকাশ নাকি অন্যসব শিশুদের থেকে একটু কম। তাই এমনটা করে।

কিছু ঔষধপত্র দিয়েছিলো খাওয়ার জন্য এবং প্রতিদিন বাইরে ছেলেকে নিয়ে হাঁটাহাঁটি করা এবং ছেলেকে খোলা মাঠে খেলার ব্যবস্থা করে দেয়ার জন্য বলেছিলেন।

এবার আমি বললাম বন্ধু এখন তাহলে কী অবস্থা। ডাক্তার সাহেবের পরামর্শ মেনে চলছো তো। বন্ধু একটু মাথা নিচু করে বলতে থাকলো আমি তো ব্যস্ত মানুষ, তোমার ভাবি সময় পেলে মাঠে নিয়ে যায়। তাছাড়া সারাক্ষণ বাসায় থাকে।

আমি বললাম বন্ধু তোমারো উচিত ভাতিজাকে একটু সময় দেয়া, তাকে খোলা মাঠে খেলতে নিয়ে যাওয়া।

আমাদের সমাজে এখন এমনটা অহরহ দেখা যাচ্ছে। আমরা কোমলমতি শিশুদের হাতে মোবাইল ফোন তুলে দেই। তাদের বিভিন্ন কার্টুন দৃশ্য দেখাই। এটি এক পর্যায়ে তাদের নেশায় পরিণত হয়। আমি এমনো দেখেছি একটি শিশুকে তার মা সারাক্ষণ মোবাইল দিয়ে রাখে।

pexels-george-pak-7984363.jpg
source

শিশুটি মোবাইল ফোন ছাড়া কোন কিছুই করে না। যখন তাকে খাবার খাওয়ানো হয় তখনও মোবাইলে কিছু দেখাতে দেখাতে খাবার খাওয়াতে হয়। শুধু ঘুম ছাড়া সারাক্ষণ সেই শিশুটি মোবাইলে বুদ হয়ে থাকে।

এগুলো আসলে মোটেই কাম্য নয়। শিশুকে মোবাইলে কার্টুন দেখাবো সেটাও থাকবে লিমিটেশনের মধ্যে। সারাক্ষণ মোবাইলে এসব দেখলে শিশুর বিভিন্ন মানসিক এবং শারীরিক সমস্যা হতে পারে।

এরমধ্যে অন্যতম হলো চোখের সমস্যা এবং মানসিকভাবে শিশুর বিকাশে বাধার সৃষ্টি হওয়া।

একজন শিশুর শারীরিক বিকাশের পাশাপাশি মানসিক বিকাশও জরুরী। পরিবারের সবার সাথে সময় কাটানো, শিশুকে নিয়ে বাইরে বের হওয়া, অন্য শিশুদের সাথে খেলতে দেওয়া এগুলো অনেক জরুরী। এতে করে শিশুর শারীরিক এবং মানসিক বিকাশ দুই খুব ভালোমত হয়।

যাইহোক এরপর বন্ধুকে বললাম, বন্ধু তোমার ছেলের হয়তো মোবাইল ফোনের সাথে বন্ধুত্ব খুব গাড়ো হয়েছে এবং পরিবারের লোকজনের সাথে সে তেমন একটা মানিয়ে উঠতে পারেনি। তোমরা তাকে বাইরেও তেমন নিয়ে বের হও নি, অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলা করার সুযোগ করে দাও নি। কী তাইনা?

বন্ধু বললো হ্যাঁ। এরপর আমি বললাম এখনো সময় আছে ডাক্তার সাহেবের দেখানো পদ্ধতিতে চলো, তোমার ছেলেকে মোবাইল ফোন থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করো, সবার সাথে মেশার এবং খেলাধুলা করার সুযোগ করে দাও দেখেবে ধীরে ধীরে সব ঠিক হয়ে যাবে। বন্ধুও বললো হুম, এগুলোই আমাকে করতে হবে। এরপর সে বিদায় নিয়ে চলে গেলো।

pexels-pixabay-220455.jpg
source

পরিশেষে বলবো প্রিয় বন্ধুরা, আসুন শিশুর মানসিক এবং শারীরিক বিকাশে এগিয়ে আসি। শিশুদের মোবাইল ফোন এবং ইন্টারনেটের সঙ্গে কম সংশ্লিষ্টতা রাখি, তাদের খোলা মাঠে খেলাধুলার ব্যবস্থা করে দেই, অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে মেলামেশা করার সুযোগ করে দেই। আর মনে রাখি, আজকের শিশুরাই, আগামীর ভবিষ্যৎ।

আজ আর নয় বন্ধুরা, ভালো থাকবেন সবাই।

Sort:  
 2 years ago 

আসলে বর্তমান সময়ের প্রত্যেকটা ছেলে-মেয়ে মোবাইলের ওপর এত বেশি আসক্ত হয়েছে। যেটা আসলে একেবারেই তাদের মেধা শক্তিকে নষ্ট করে দিচ্ছে। আমাদের সাধ্যের বাহিরে চলে যাচ্ছে। তারা এত পরিমাণে মোবাইলের মধ্যে কার্টুন ভিডিও দেখে। বিভিন্ন ধরনের ভিডিও দেখে, মাঝে মাঝে তারা সেসব কিছুই করতে থাকে। বিশেষ করে আমার বড় ছেলের কথাই যদি বলি, ও মোবাইলে যা দেখে তাই নিয়েই চিন্তা করে। এবং মাঝে মাঝে আমাকে বলে বিভিন্ন ধরনের জিনিস কিনে দেয়ার জন্য, কিন্তু আমি কিনে দেয়া থেকে বিরত থাকি।

আমরা যদি আমাদের শিশু সন্তানদের ভবিষ্যৎ সঠিকভাবে গড়ে তোলার চেষ্টা করি, তাহলে হয়তোবা অবশ্যই তারা সঠিক পথে ফিরে আসবে। তাদেরকে অনেক বেশি সময় দিতে হবে। তাদেরকে নিয়ে খেলতে হবে, তাদেরকে শারীরিক ব্যায়াম সম্পর্কে জানাতে হবে। তাহলে যারা তাদের সঠিক জীবনে ফিরে আসতে পারবে। ধন্যবাদ আপনাকে, চমৎকার টপিক নিয়ে আমাদের সাথে আলোচনা করার জন্য। ভালো থাকবেন।

Loading...
 2 years ago 

আসলে এখন বর্তমান যে যুগ চলছে বাবা-মা সন্তানের হাতে ভালো একটি বই ধরিয়ে দেওয়ার বদলে মোবাইল ধরিয়ে দিয়ে খেলা করতে বলে যার জন্য ছোট থেকে ছোট বাচ্চারা মোবাইল পাগল হয়ে যায় আমরা যখন বড় হয়েছি তখন কিন্তু আমরা মোবাইল জিনিসটি ছোট থেকে পায়নি এখন প্রতিটা ঘরে এরকম অনেক সমস্যা দেখা দিচ্ছে কারণ আমার একটি ছোট্ট ভাই আছে চাচাতো ভাই অবশ্যই সে সারা দিন ঘরের ভেতরে মোবাইলে কার্টুন দেখে এবং অনেক কিছু দেখে সে এখন ঘর থেকে বের হতে চায় না আগে আমি বাড়ি থাকতে আমার সাথে অনেক আনন্দ মজা করত কিন্তু দিন দিন সে ঘরের ভেতরেই বসে থাকছে এটা কিন্তু তার ভবিষ্যতের জন্য খারাপ একটি দিক হতে পারে।

ঠিক বলেছেন আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ ৷ কারন ছেলে মেয়েরা আগামী প্রজন্ম কে ধরে রাখতে সহায়তা করে থাকবে ৷ আমাদের উচিত আমাদের ছেলেমেয়েদের সব সময় শারীরিক ও মানসিক দিক থেকে খুব যত্ন সহকারে বড় করা ৷ তারা যেনো কোন ধরনের খারাপ পথে না যায় সেই দিকে খেয়াল রাখা ৷

যাই হোক ধন্যবাদ আপনাকে এত সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের মাঝে তুলে ধরার জন্য ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন ৷

 2 years ago 

আপনার বন্ধুর গল্পটি শেয়ার করেছেন এটা শুনে ভীষণ ভালো লাগলো কারণ, বাচ্চাদেরকে মোবাইলের প্রতি আসক্ত করে তুলি।
একটা বাচ্চা কখনো মোবাইলের উপর আসক্ত হতে পারে না যদি তার বাবা-মা না করে দেয়। যে কোন জিনিস ধীরে ধীরে অনেক বড় হতে থাকে সেটা রোগ হোক বা কোন খারাপ কিছু। ধন্যবাদ খুব সুন্দর একটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য।

 2 years ago (edited)

আজকাল বাচ্চারা মোবাইল সম্পর্কে এতটা জানে যে সেটা আমরাও জানি না। আপনার বন্ধুর একটি ঘটনা তুলে ধরেন আপনার পোষ্টের মাধ্যমে খুব সুন্দর ভাবে। আপনার বন্ধুর ছেলেটির বয়স মাত্র সাড়ে চার বছর সেই মোবাইলের উপর এত অভ্যস্ত যে মোবাইলের ভিতর যা দেখে তাই করতে চাই। এসব কাজগুলো হয় শিশুর মানসিক বিকাশের জন্য বাচ্চাদেরকে আমরা মোবাইল দেবো কিন্তু এর পাশাপাশি তাদেরকেও আমাদের সময় দিতে হবে। এবং তারে ব্রেন মানসিকতা সবকিছু বৃদ্ধি থাকে। আপনার বন্ধুর ছেলে মোবাইল দেখে অনেক মোবাইলে কার্টুনের মতনই কাজ করে এবং ভিতুর ডিম হয়ে থাকে। তবে ডাক্তার পরামর্শ পেয়ে আগের চেয়ে অনেকটা বেশি ভালো জেনে খুব ভালো লাগলো।
থ্যাংক ইউ আপনার বন্ধুর একটি বাস্তব ঘটনা তুলে ধরেছেন খুব সুন্দর ভাবে। যে ঘটনাটি জেনে আমরা অনেকে সতর্ক হয়ে যাব বাচ্চাদেরকে ফোন দেওয়া সম্পর্কে।আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যতে ভবিষ্যতে যদি আমরা ফোন দিয়ে তাদের নষ্ট করে ফেলি। থ্যাঙ্ক ইউ খুব চমৎকার একটি টপিক নিয়ে হাজির হলেন ।

 2 years ago 

আজকের শিশুরাই আগামীর ভবিষ্যৎ, তাই প্রত্যেক বাবা-মার উচিত যতই কাজের চাপ থাক না কেন তাদের উপর নিজের সন্তানকে ঠিকমতো সময় দেওয়া। শিশুরা হল মাটির ডেলা, তাদের যেরকমভাবে গড়ে তোলা হবে তারা সেরকম ভাবেই ধীরে ধীরে বড় হয়ে উঠবে। আর মোবাইলের প্রতি আসক্তি থেকে ছোট বড় সবারই দূরে থাকা উচিত।

 2 years ago 

কোথায় যেন পড়েছিলাম পাঁচ বছর পর্যন্ত বাচচাদের সারাদিনে শুধু মোবাইল না যেকোন ডিভাইস দিনে একঘন্টার বেশি ব্যবহার করতে দেয়া উচিত না।এতে করে বাচচারা ভার্চ্যুয়াল অটিজমে আক্রান্ত হয়। এতে অনেক বাচ্চাদের কথা শিখতে সময় লাগবে, মিশুক হবে না, একগুঁয়ে আরও অনেক সমস্যা দেখা দিবে।আর খুব শীগ্রই এটা পৃথিবী জুড়ে ভয়াবহ সমস্যা হিসেবে দেখা দিবে।
চমৎকার এই বিষয় নিয়ে লেখার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
ভালো থাকবেন সবসময়।

Posted using SteemPro Mobile

 2 years ago 

আপনি একদম সঠিক কথা বলেছেন আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। বর্তমান সময়ের ছেলেমেয়েরা যেসব আধুনিক জিনিসপত্রের সাথে পরিচিত। এইসব শিশুরাই একদিন আমাদের দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
আজকালকার ছোট শিশুরা মোবাইল ফোন এবং ইন্টারনেটের সাথে এতটাই সম্পৃক্ত হয়ে গেছে যে, বর্তমান সময়ে আমরাই তাদের কাছে কিছুই না।

 2 years ago 

বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে আমি বলব আপনি একটি সময়োপযোগী লেখা আমাদের সাথে ভাগ করে নিয়েছেন। কারণ মোবাইল নামক এই উন্নত প্রযুক্তির জনপ্রিয় ডিভাইস যেন আমাদের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে।

কিন্তু আমরা এটার প্রয়োজনের থেকে অপ্রয়োজনীয় ব্যবহারটাই বেশি করছি। পাশাপাশি আমাদের শৈশবে থাকা শিশুরা এটার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছে। অবশ্যই শিশুদের উন্নত ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আমাদেরকে সচেতন হওয়া উচিত।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.083
BTC 64030.48
ETH 1733.98
USDT 1.00
SBD 0.44