আসুন শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াই

in Incredible India2 years ago

কেমন আছেন বন্ধুরা? আমি সৃষ্টিকর্তার অশেষ মেহেরবানীতে ভালোই আছি। আজ আমি আপনাদের মাঝে “আসুন শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াই” শীর্ষক আমার একটি লিখনি উপস্থাপন করলাম। তাহলে শুরু করা যাকঃ-

pexels-adil-ahnaf🇧🇩🇵🇸-19671781.jpg
source

আমাদের দেশে এখনো অনেক হতদরিদ্র লোক আছে যাদের মাথা গোজার যায়গা পর্যন্ত নেই। এখনো দারিদ্রসীমার অনেক নিচে তাদের বসবাস। যদিও বা আমাদের দেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে পরিচিত লাভ করতে সক্ষম হয়েছে।

তবুও এই দরিদ্র মানুষগুলোর কথা ভাবার মতন খুব কম ব্যক্তিই এই সমাজে আছেন। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যথেষ্ঠ করে যাচ্ছেন। তবুও কিছু মানুষ দরিদ্রই থেকে যাচ্ছে।

যাইহোক এসব দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্ব কিন্তু আপনার আমার সবার। আমরা একটু চেষ্টা করলেই অসহায় মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াতে পারি। সমাজের যারা বিত্তশালী লোক আছেন তাদেরকে সবার আগে এগিয়ে আসতে হবে।

প্রয়োজনে বিলাসিতা বর্জন করতে হবে। আমরা যারা নিজেদের ছেলে মেয়ের বিয়েতে অনেক টাকা খরচ করি, বিশাল ধুমধাম করে বিয়ে দেই তারা যদি সেখান থেকে কিছু পরিমান টাকা এসব অসহায় মানুষদের জন্য বরাদ্দ করি তাহলে কিন্তু অনেক অসহায় মানুষের উপকার হয়।

ধরুন আপনি আপনার মেয়ের বিয়েতে পাঁচ লক্ষ টাকা খরচ করবেন। ভালো কথা, করতেই পারেন। পাশাপাশি যদি এক লক্ষ টাকা গরীব, দুস্থ এবং অসহায় মানুষ, যারা শীতের সময় অনেক কষ্ট করে জীবনযাপন করে, তাদের জন্য যদি বরাদ্দ করি তাহলে তাদের অনেক উপকার হবে।

pexels-jubair-ahmed-himu-4090997.jpg
source

একদিকে সমাজ সেবাও হবে। আর গরীবদের পাশে দাঁড়ালে স্বয়ং সৃষ্টিকর্তাও খুশি হন। আর যিনি বিয়েতে পাঁচ লক্ষ টাকা খরচ করতে পারেন তিনি অবশ্যই গরীব দুখিদের জন্য সামান্য কিছু হলেও খরচ করতে পারবেন।

আমাদের যাদের শীতের কাপড় কেনার সামর্থ আছে তারা হয়তো শীতের প্রকট কম বুঝি। কিন্তু যারা অসহায়, যাদের শীতবস্ত্র কেনার সামর্থ নেই তাদের কী অবস্থা একবার ভেবে দেখুন তো? কারো অসহায়ত্ব নিয়ে কখনই ঠট্টা কিংবা ফাজলামো করা উচিত নয়।

আমরা যারা মনে করি অসহায় মানুষগুলো একটু কষ্ট পেলে কি বা হবে তাদের বলছি, একবার শীতের রাতে পাঁচ মিনিটের জন্য বাইরে বেড়িয়ে শীতবস্ত্র ছাড়া ঘুরে আসুন দেখি। জানি দুই মিনিটও টিকতে পারবেন না। তাহলে ভাবুন শীতবস্ত্রহীন মানুষগুলো ঠান্ডায় কিভাবে রাতযাপন করছে।

pexels-kabiur-rahman-riyad-16499247.jpg
source

একটা কাঁথা গায়ে দিয়ে কজন থাকছে। সময় এসেছে এখন বিত্তবানদের এগিয়ে আসার। আর হ্যাঁ আমাদের মনে রাখা উচিত সম্পদ দান করলে কমে না বরং বৃদ্ধি পায়।

আমরা সকলেই সমাজে ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিতি অর্জন করতে চাই। অনেকে অনেক ভাবে চেষ্টা করি। সব চেষ্টা কিন্তু সবসময় সফলও হয় না। তবে নিঃস্বার্থভাবে যদি কারো উপকারে আসতে পারি তাহলে সফলতা অর্জনের সম্ভাবনা সবথেকে বেশি বেড়ে যায়।

শীতের এই সময়টায় যদি আমরা শীতার্ত অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে পারি, তাদের বিভিন্নভাবে সহযোগীতা করতে পারি, এই মানুষগুলোর ভালোবাসা অর্জন করতে পারি তাহলে এর থেকে আর বড় পাওয়া কী হতে পারে বলুন।

আমরা আমাদের এলাকার কিছু ছেলে একত্রিত হয়ে একটি তহবিল গঠন করেছি এই মর্মে, এবার শীতে কিছু শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়াবো বলে। মোটামুটি ভালই অর্থ সংগ্রহ হয়েছে।

এর মধ্যে কিছু শীতবস্ত্র ক্রয় করে কিছু মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। আগামী শুক্রবার আরো কিছু বস্ত্র বিতরণ করা হবে।

আমার মতে, আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত প্রতিটি এলাকায় এমন টিম গঠন করা এবং এলাকার যারা অসহায় দুখী মানুষ আছে তাদের পাশে দাঁড়ানো। এতে একটু হলেও অসহায় মানুষগুলো শীতের ঠান্ডা থেকে মুক্তি পাবে।

pexels-engin-akyurt-15652230.jpg
source

পরিশেষে বলবো, এই দেশ এই মাতৃভূমি আমার। আমার দেশের একজন মানুষের যদি উপকারে আসতে পারি তাহলে আমি ধন্য। কেননা মানুষই তো মানুষের উপকারে আসবে।

আজ আর নয় বন্ধুরা, ভালো থাকবেন সবাই।

Sort:  

ঠিক বলেছেন ভাই আমাদের দেশে গ্রামে বা শহরে অনেক হতদরিদ্র লোক রয়েছে যারা কিনা শীতের সময়ে শীতের কাপড় পড়তে পারে না শীতকালীন সময় টা তারা শীতের কাপর ছাড়াই কাটিয়ে দেয় ৷ এই সব মানুষদের পাশে দাড়ানো উচিত তাহলে আমাদের একদিক দিয়ে সমাজ সেবা করাও হবে ৷ অনেক মানুষ বিলাসীতা ভাবে জীবন কাটায় কিন্তু হতদরিদ্র লোকদের দেওয়ার সময় তারা কৃপনতা করে থাকে ৷ এই সব মানুষেরা শুধু নিজের স্বার্থের জন্যই ভেবে থাকে ৷

আমাদের উচিত শীতের সময় কিছু গরিব দুঃখী মানুষের পাশে দাড়িয়ে শীতের বস্ত্র বিতরণ করা ৷

যাই হোক ধন্যবাদ আপনাকে এত সুন্দর একটি লেখা আমাদের উপহার দেওয়ার জন্য ৷ ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন ৷ শুভকামনা রইলো 🙏🤝

Loading...
 2 years ago 

একটা কাঁথা গায়ে দিয়ে কজন থাকছে। সময় এসেছে এখন বিত্তবানদের এগিয়ে আসার। আর হ্যাঁ আমাদের মনে রাখা উচিত সম্পদ দান করলে কমে না বরং বৃদ্ধি পায়।

শীতের সময় এরকম কিছু চিত্র দেখা যায় একটু শহরের দিকে গেলেই। আমাদের মানবিক গুণাবলী গুলো এখানে প্রকাশ করা উচিত বা প্রয়োগ করা উচিত। কারণ এই শীতার্ত মানুষেরও আমাদের মত বেঁচে থাকার অধিকার আছে।

খুব ভালো একটি বিষয় আপনি উপস্থাপন করেছেন লেখার মাধ্যমে। এই শীথে আমাদের ঘরের মধ্যে থাকতেও কষ্ট হয় তাহলে চোখ বন্ধ করে আমরা যদি একবার চিন্তা করি ওই খোলা আকাশের নিচে থাকা মানুষগুলোর কথা, তাহলে হয়তো তাদের আর কষ্ট হতো না।

আমাদের গ্রাম অঞ্চলে খোলা আকাশের নিচে থাকা মানুষ দেখা যায় না বলে চলে কিন্তু এমন কিছু মানুষ আছে যাদের শীতবস্ত্রের ঘাটতি রয়েছে। তাই শীতকালের প্রতি বছর আমরা কিছু নির্দিষ্ট তালিকাভুক্ত মানুষকে এই শীতবস্ত্র বিতরণ করি। খুব শীঘ্রই আমরা সিদ্ধার্থদের মাঝে কম্বল বিতরণ করব এরকম একটি পরিকল্পনা করা হয়েছে।

Posted using SteemPro Mobile

 2 years ago 

আপনি খুবই বাস্তবিক একটা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। হতদরিদ্র মানুষ বা দারিদ্র সীমার নিচে বসবাসকারী মানুষেরা শীতকালে গরম জামা-কাপড়ের অভাবে খুবই কষ্ট পান। এটা জেনে আমার খুবই ভালো লাগলো যে আপনারা একটা তহবিল গঠন করেছেন শীতার্ত মানুষদের শীতবস্ত্র দান করার উদ্দেশ্যে।

 2 years ago 

গ্রামে কি অবস্থা আমি জানি না তবে ঢাকার রাস্তায় রাতের বেলা বের হলে অনেক জায়গায় ছিন্নমূল মানুষকে শুয়ে থাকতে দেখা যায় যাদের অনেক এর তেমন একটা শীতের কাপড় নেই। তবে এদেরকে সাহায্য করার জন্যও অনেক মানুষকে দেখা যায় যারা রাতের বেলা কম্বল দিয়ে যায় এদের। তাদেরকে অবশ্যই আমাদের ধন্যবাদ দেয়া উচিত।
আবার এই ছিন্নমুল অনেক মানুষ আছে যারা এসব কম্বল বিক্রি করে শীত কমে গেলেই এই অজুহাতে যে এগুলো কই রাখবো।পরের শীতে আবার এদের কিছু নেই।
তবে গ্রামগুলিতে হয়তোবা বিষয়টা এমন না।অবশ্যই যারা সত্যিকারেরর দরিদ্র তাদেরকে সাহায্য করা উচিত।
ধন্যবাদ এই বিষয় নিয়ে লেখার জন্য। শুভকামনা রইলো আপনার জন্য।

Posted using SteemPro Mobile

 2 years ago 

বর্তমান সময়ে আমাদের পুরো শীতকাল চলতেছে। আমরা যারা ভালো আছি এবং আমাদের যাদের সামর্থ্য আছে তারা ঠিকই শীতের পোশাক পরতেছি। কিন্তু তাদের সামর্থ্য নাই তারা এখনো এই শীতের ঠান্ডায় কাঁপতেছে। আপনি একদম ঠিক কথা বলেছেন আমরা সবাই মিলে চাইলে এই সীতার্ত গরিব অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে পারব।

 2 years ago 

আমি প্রতিদিন যখন অফিসে আসি রাস্তায় ফুটপাতে কিছু মানুষ দেখতে পাই যারা পাতলা কম্বল জড়িয়ে ঘুমায়। আমি এত উষ্ণ কাপড় পরেও যেখানে ঠান্ডায় কাবু সেখানে মানুষগুলি এভাবেই সারা রাত পার করিয়ে দেয়। সামর্থ্য থাকলে এদেকে আমি কাপড় দিতাম। তবে একা হয়তো সম্ভব নয় সবাই মিলে ফান্ড কালেক্ট করে এদের পাশে দাঁড়ানো সম্ভব।

 2 years ago 

বর্তমান সময়ের রাস্তার পাশে অনেক মানুষ, সাধারণত চাউলের বস্তা গায়ে দিয়ে শুয়ে থাকে। ওই দিন আমি একজনকে দেখেছিলাম, একজন বললে ভুল হবে। অনেক জন ছোট্ট একটা বাচ্চা যার পরনে ছিল প্লাস্টিকের একটা বস্তা। আমি দেখে পুরোটা অবাক হয়ে গেলাম। এই ঠান্ডার মধ্যে ছেলেটা একদম জড়োসড়ো হয়ে শুয়ে আছে।

আমি ওকে আমার সাধ্যমত সাহায্য করার চেষ্টা করেছি। ওকে সাহায্য করতে পেরে আসলে আমার কাছে এত বেশি ভালো লেগেছিল। যেটা আপনাদেরকে বলে বোঝাতে পারবো না। আপনি খুবই ভালো একটা টপিক নিয়ে আমাদের সাথে আলোচনা করেছেন। আপনার মত করে যদি প্রত্যেকটা মানুষ চিন্তা করত, তাহলে রাস্তার পাশে থাকা মানুষগুলো অনেক ভালো থাকতো। ধন্যবাদ আপনাকে ভালো থাকবেন।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.081
BTC 61299.24
ETH 1623.99
USDT 1.00
SBD 0.41