নির্জনতাই মনের ক্লান্তি দুর করবার এবং প্রত্যাশিত ইচ্ছে পূরণের আদর্শ স্থান।
প্রিয় বন্ধুরা,
রবিবাসরীয় শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের লেখা শুরু করছি, আজকে ছবিগুলো দেখেই নিশ্চই বুঝতে পেরেছেন আবারও আপনাদের মাঝে আসা প্রকৃতির কিছু অন্যন্য সুন্দর ছবি নিয়ে।
অনেকসময় আমাদের মনে হয় আমাদের কেউ বোঝে না, আমাদের কেউ ভালোবাসে না, অনেক সমস্যা জীবনে কারোর জন্য করেও মন পাওয়া যায় না, এমন অনেক অনুভূতি বিভিন্ন সময় কাজ করে।
এই অনুভূতি সবার মনের অভ্যন্তরে কাজ করেছে কখনো না কখনো, কারণ একটাই সেটা হলো প্রত্যাশা।
অনেকেই বলে প্রত্যাশা করা উচিত নয়, কিন্তু জীবনে এমন অনেক সম্পর্ক আমরা বহন করি বা বলবো এমন অনেক সম্পর্কের সাথে যুক্ত হই, যেগুলোর সাথে সময়ের সাথে সাথে ভালোবাসার পাশাপশি বিশ্বাস, এবং প্রত্যাশা তৈরি হয়েই যায়।
যারা বলে যে, তাদের নিজেদের সম্পর্ক থেকে কোনো প্রত্যাশা নেই, তারা মিথ্যে বলে, কারণ আমাদের অন্যান্য অভিব্যক্তির মত রাগ টাও একটা অভিব্যক্তি যেটা সময় সময় আমরা কাছের মানুষের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করি।
এর এক এবং অনবদ্য কারণ হলো মনমতো প্রত্যাশা পূরণ না হওয়া, এখন দেখার বিষয় প্রত্যাশা টির মধ্যে আত্মকেন্দ্রিকতা আছে নাকি ভালোবাসা।
অবাক হবেন না, কারণ কোনো জিনিষ দিতে না পারলে যদি আপনার রাগ হয়, সেটা কিন্তু আত্মকেন্দ্রিকতা;
যদি সেই না দিতে পারার পিছনে কোনো মানুষের আর্থিক, বা শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকে তাহলে যিনি এই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারলেন না, দোষী তিনি নয়, বরঞ্চ দোষের ভাগীদার তিনি যিনি সবটা জেনেও এই প্রত্যাশা রাখেন।
কিন্তু ইচ্ছাকৃত কেবল নিজ স্বার্থ চরিতার্থ করবার জন্য যদি কেউ কারোর বিশ্বাস বা ভরসা আহত করে সে ক্ষেত্রে আমাদের রাগের অনুভূতি কাজ করাটাই স্বাভাবিক।
এই যে ভরসা বা বিশ্বাস এটাও কিন্তু প্রত্যাশা, আমরা যেটা সবার কাছ থেকে আশা করি না, কেবল করি সেই মানুষগুলোর থেকে যাদেরকে সবচাইতে কাছের বা নিজের বলে ভাবী।
যেহেতু কিছু সম্পর্ক ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়ে একরকম বয়ে বেড়াতে হয়, আবার অনেক সময় প্রত্যাশা করবো না ভেবেও মনের অজান্তে বিভিন্ন কথায় বা কখনো কখনো চোখের জলের আকারে সেই অনুভূতি গুলো বেরিয়ে আসে, এমত অবস্থায় আমরা কি করতে পারি?
১. এমন কোথাও গিয়ে সময় কাটিয়ে আসা যেখানে আপনার অনুভূতি বা অভিমানগুলো সযত্নে তোলা থাকবে, সেটা নিয়ে কেউ বাজারে বিক্রি করবে না।
আমার কাছে প্রকৃতি হলো সেই আদর্শ জায়গা।
অনেকেই হয়তো দূরে কোথাও যেতে পারেন না, নানা কারণে, কাছাকাছি গিয়ে ঘুরে আসুন।
২. যে ব্যক্তি আপনার বিশ্বাসকে অমর্যাদা করছেন, তাকে মনে মনে গুরুত্ব দিলেও, সেই অনুভূতি বহিঃপ্রকাশ না করা, মানে ভাবের ঘোরে চুরি করা।
জানবেন কোনো মানুষ আপনার অনুভূতি নিয়ে ততক্ষণ খেলতে পারে যতক্ষন সে বোঝে সে ছাড়া আপনি অচল।
৩. আমার কাছে সন্মানের মূল্য অধিক, আমার মনে হয় যেকোনো সম্পর্কে আর কিছু থাক বা না থাক সমান সন্মান পাবার অধিকার থাকা উচিত। তাই যারা এই অসন্মান করবার দুঃসাহস দেখায়, তাদের সাথে একইরকম ব্যবহার করে আয়না দেখানোটা আবশ্যক।
৪. একজন পুরুষ যদি মনে করেন তিনি রোজগার করে আনছেন বলে সেই অর্থের উপরে কেবলমাত্র তার অধিকার এবং তিনি যথেচ্ছ সেই উপার্জিত অর্থ ব্যয় করতে পারেন কিন্তু অপরপক্ষের ক্ষেত্রে নিয়মটি হিসেবের খাতায় লেখা, তাহলে সর্বাগ্রে নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী নিজে উপার্জনের চেষ্টা করা উচিত।
৫. সবসময় মনে রাখা উচিত আমাদের কাছে সেটাই ফিরে আসে, যেটা আমরা অন্যকে দিয়ে থাকি, কাজেই প্রত্যাশায় দোষ নেই, কিন্তু সবসময় সেটা পূরণের আশ করাটা দোষের।
তাই অবশেষে বলবো নিজের ভালো থাকার রসদ নিজে খুঁজে নিন, কারণ আপনার ইচ্ছে না হোক কিন্তু অনুভূতির মর্যাদা বা সন্মান যেখানে নেই, সেখানে প্রত্যাশার আশা করাটা বোকামি, কাজেই নিজের পছন্দ এবং সময় ভাগ করে নিন সেই সব কাজের মাঝে যেখানে কেউ আপনার কাছ থেকে হিসেব বা কৈফিয়ত চাইবে না।
আশাকরি আজকের ছবিগুলো ভালো লাগবে, আজ এখানেই ইতি টেনে বিদায় নিলাম, ভাবে দেখবেন কথাগুলো এবং জানাবেন আপনাদের অভিমত এই বিষয়।
কালকের লেখায় হালকা মেজাজ থাকলেও আজকে আপনার লেখাটা বেশ ভারী, তবে বাস্তব কথা বলেছেন, আমি আরো একটি বিষয় যোগ করতে চাই সেটা হল, আত্মমর্যাদার পাশাপাশি আমার কাছে আত্মসম্মানের দাম অধিক, কারোর মর্যাদার ভরসায় জীবন চলে না, যার যেদিন চলে যাবার হয় চলেই যায় কাজেই নিজের কথা ভেবে আত্মসম্মান বজায় রেখে পথ চলাতেই আমি বিশ্বাসী।
একদম সঠিক আত্মসম্মান যার নেই সে আসলে হয় মেরুদন্ডহীন অথবা সুবিধাবাদী।
আপনার বলা প্রত্যেকটি কথা একদম সঠিক। ভীষন। সুন্দর লিখেছেন। প্রত্যাশা কম করা সবার আগে শেখা উচিত। ভালো থাকবেন স্যার
প্রত্যাশা নয়, প্রত্যাশা পূরণের আশা করা শেখার কম করা উচিত, সেটাই বলতে চেয়েছি।
অনেক সুন্দর হয়েছে আপনার পোস্টটি ভালো লাগলো পোস্টটি পড়ে 💞💞❤️❤️
আপনাকেও ধন্যবাদ আমাদের সাথে যুক্ত হবার জন্য।
জি ভাইয়া
@pulook স্যার খুব সুন্দর লিখেছেন আপনি। কিন্তু আমি বুঝি প্রত্যাশা বাবা, মায়ের উপর ছাড়া কারোর উপরে করতে নেই।
প্রত্যাশা করার পরে সেটা পুরনো না হলে খারাপ লাগে তাই পূরণের আশা না করায় উচিত।