গ্রামে থাকা পুষ্টিকর ডুমুর।
শুভ সন্ধ্যা,
আজ আবার চলে এসেছি আমার গ্রামে থাকা পুষ্টিকর একটি সবজি নিয়ে এবং সাথে গ্রাম বাংলার এক অপূর্ব পরিচিত দৃশ্য। হয়তোবা সময়ের বিবর্তনে এই দৃশ্যগুলো বিলীন হয়ে গিয়েছে। তাহলে চলুন মূল দেখাতে চলে যাওয়া যাক।
আজ দুপুরে ঠিক স্নান করার পূর্ব মুহূর্তে, আমাদের রাস্তাতে বেরিয়েছিলাম। যেহেতু বাড়ি থেকে এরপর আর বেরোনোর কোনো ইচ্ছে নেই, তাই ভাবলাম রাস্তাতে একটু হাটাহাটি করি।
হঠাৎ মনে হলো, রাস্তার পাশে ডুমুর কাছে কেউ একজন আছে। কিন্তু কাউকেই দেখা যাচ্ছে না। ঠিক দুপুরে ঘটেছিল এই ঘটনাটি। যদিও উন্নত প্রযুক্তির যুগে আমরা প্রেতাত্মা আছে বলে বিশ্বাস করি না, তবে আমরা গ্রামে থাকা মানুষগুলো এখনো কিছু ভ্রান্ত ধারণার মধ্যে রয়েছি।
যাইহোক, কোথাও জনমানব নেই। তবে ডুমুর গাছটা দেখতে বেশ ভালো লাগছিল। হাতে মোবাইলটা রয়েছে, তাই ছবি নিতে ভুল করিনি। কিন্তু ছবি নিতে গিয়ে যখনই জুম করেছি, দেখলাম ডুমুর গাছে বৃদ্ধা এক নারী, যিনি গাছ থেকে ডুমুর সংগ্রহ করছেন।
সমস্ত শরীর মিলিয়ে হয়তোবা বিশ/বাইশ(kg), তাঁর শরীরের ওজন হতে পারে। এতোটাই সুস্বাস্থ্যের অধিকারিনী যে দূর থেকে বোঝাই যাচ্ছিল না একজন মানুষ গাছে রয়েছে। তিনি আমার দূর সম্পর্কের ঠাকুরমা হন। সম্পর্কের খাতিরে একটু মজা করে নিলাম।
বৃদ্ধা ঠাকুরমা গাছ থেকে বেশ কিছু পরিমাণ ডুমুর তুলে নিয়েছে । যেহেতু এটাতে বেশ ময়লা রয়েছে, তাই পুকুর ঘাটে নিয়ে এসেছেন পরিষ্কার করার জন্য।
ডুমুরের উপকারীতাঃ-
চিংড়ি মাছ দিয়ে রান্না করলে, এটি খেতে খুব মজা হয়।
ডুমুরে প্রচুর পরিমাণ আয়রন থাকে, যেটা শরীরের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে গর্ভবতী মায়েদের জন্য খুবই কার্যকরী।
যেহেতু এটা কোনো প্রকার রাসায়নিক সার এবং কীটনাশক বিহীন, তাই মানব শরীরের জন্য উপকারী।
ডুমুর ক্রয় করার জন্য আপনার কোনো অর্থ ব্যয় করতে হবে না। যদি আপনি গ্রামে বসবাস করেন। তবে অর্থের বিনিময়ে বর্তমান শহরেও এগুলো পাওয়া যায়।
ডুমুর শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
এক কথায় ডুমুর শরীরের জন্য উপকারী একটি সবজি।
তবে আশ্চর্যজনক বিষয় এটাই, কোনো ফুল ছাড়াই এই ডুমুর সবজিটি আমরা দেখি । অনেকেই কথায় কথায় বলে, আপনিতো ডুমুরের ফুল হয়ে গিয়েছেন। এটি আমার কথা না তবে সেই শৈশব থেকে বই-পুস্তকে অনেকবার পড়েছি। এটার অর্থ অদৃশ্য বস্তু।
এখন যে দৃশ্য দুটি আপনারা দেখতে পাচ্ছেন এটা ডুমুরের সাথে সম্পর্কযুক্ত না। তবে অনেকেই হয়তোবা দৃশ্য দেখেই বুঝে গিয়েছেন। এখন আর পুকুরের ঘাটে এই ধরনের গাছ দিয়ে ঘাট তৈরি দেখা যায় না। আবার এখানে অনেকেরই শৈশবের অনেক স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে।
সেই ছোটবেলাতে ভাই বোন সবাই মিলে ঝাঁকবেধে বর্ষাকালের সময় পুকুরে স্নান করা, সাঁতারের পাল্লা প্রতিযোগিতা ইত্যাদি। পুকুরে জল আর জল থাকতো না, এমন পরিবেশ তৈরি হতো সেখানে আর স্নান করার কোনো উপায় ছিল না।
একটা সময় বাবা-মা লাঠি নিয়ে তাড়া করতেন। কারণ এত সময় জলের সংস্পর্শে থাকলে জ্বর সর্দি এসে যাবে। কে বা কারা শৈশবে এরকম পুকুর ঘাটে স্নান করেছেন?
আমার আজকের লেখাটি এখানেই সমাপ্ত করছি। আপনাদের মতামত জানাতে ভুলবেন না।
ডুমুরের ফুল এখনো পর্যন্ত কেউ দেখতে পায় নাই জানিনা এর পিছনে রহস্য কি। তবে ডুমুর কাছে ফল ধরে প্রচুর পরিমাণ।
ডুমুর রান্না করে খেতে খুবই ভালো লাগে আমাদের গ্রামে অনেকেই খেয়ে থাকে কিন্তু আমাদের বাড়িতে এখনো পর্যন্ত রান্না করে নাই তাই এর স্বাদ আমি বলতে পারব না। অন্যদের মুখে শুনছি খুবই ভালো লাগে। আপনার আর্টিকেলটা পড়েও বুঝলাম অনেক পুষ্টি গুনাগুন সমৃদ্ধ এই ফলটি। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ডুমুর সম্পর্কে আমাদের জানানোর জন্য।
ডুমুর একটি অত্যন্ত উপকারী ফল। অথচ এই ফলটা কিন্তু অযত্নে অবহেলায় বেড়ে ওঠে।
খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় নিয়ে লিখেছেন দিদি। আমি জানতামই না যে আমাদের স্কুল মাঠে থাকা ডুমুর গাছের ডুমুর ফলটির এত গুণাগুণ। ধন্যবাদ দিদি।
ডুমুর ফল আমরা সাধারণত,,,, তেতুল বা অন্য কোন আচার দিয়ে লবণ মরিচ মাখিয়ে বানিয়ে খাই। কিন্তু আজকে দেখলাম আপনি ডুমুর ফল চিংড়ি মাছ দিয়ে রান্না করার বিষয়টা তুলে ধরেছেন। এ বিষয়টা আমার কাছে খুবই ইন্টারেস্টিং লেগেছে।
আসলে গ্রামে যে ফলগুলো বিভিন্ন জায়গায় পরিচর্যা ছাড়াই বেড়ে ওঠে। তার মধ্যে কিন্তু প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন আইরন সবকিছুই থাকে। যেগুলো আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী।
ডুমুর ফল নিয়ে এই তথ্যগুলো আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ,, আপনার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইল। ভালো থাকবেন।
ডুমুর এর এতো উপকারীতা সেটা তো আমার জানা ছিলো না! আমি ভাবতাম ইহা একটি নিছক উদ্ভিদ। অনেক কিছু জানতে পেরেছি এই পোস্টের মাধ্যমে। শৈশবে গ্রামে বেড়াতে গেলেই পুকুরে কমপক্ষে ১-২ ঘন্টা পুকুরে গোসল করতাম। ভালো লাগলো আপনার এই আয়োজন।
ডুমুর খুবই উপকারী আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য আপনার পোস্টটা পড়ে জানতে পারলাম। আগে ডুমুর সম্পর্কে অনেক কিছু জানতাম না আজকে আপনার পোস্টটা পড়ে ডুমুর সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে পারলাম ।আপনি আপনার পোস্টে ডুমুর উপকারিতা খুব সুন্দর ভাবে উল্লেখ করেছেন তা জেনে খুব ভালো লাগলো। ডুমুরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ আয়রন যা মানব দেহের জন্য অনেক উপকারী এবং ডুমুর মানবদেহে প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এসব কিছু আপনার পোস্টটি করে জানতে পারলাম তাই আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ আমাদের মাঝে ডুমুর সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট শেয়ার করার জন্য ।ভালো থাকবেন
ডুমুর খেতে আমার খুবই ভালো লাগে যেহেতু এটা সার বিহীন। এছাড়াও ডুমুর চিংড়ি মাছ দিয়ে রান্না করলে কিংবা মসুর ডাল দিয়ে রান্না করলে খেতে খুবই মজা লাগে।
এছাড়া আপনি জানতে চাইছেন যে কে বা কারা পুকুরে স্নান করেছে। ছোটবেলা আমি অনেক পুকুরে স্নান করেছি সেজন্য মায়ের কাছে বকাও খেয়েছি অনেক। কিন্তু এখন আমার পুকুরে স্নান করতে গেলে খুবই ভয় লাগে। কারণ অনেকদিন যাবত পুকুরে স্নান করা হয় না এজন্য এখন আর পুকুরে নামতে সাহস হয়।
যাইহোক আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ডুমুরের উপকারিতা সম্পর্কে আমাদের মাঝে তুলে ধরার জন্য। ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।