বিদ্যুৎ বিভ্রাট।
Hello Friends,
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পরিমাণ দিন দিন যেন বেড়েই চলেছে। ২০১২ সালে আমাদের গ্রামে প্রথম আমরা বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়েছিলাম। যদিও বিদ্যুতের ঘাটতি ছিল কিন্তু এখনকার মত বিদ্যুৎ বিভ্রাট কখনোই দেখিনি।
জানিনা প্রকৃতপক্ষে আমাদের দেশের এই বিদ্যুৎ সংকট সঠিক কবে দূর হবে। কারণ বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় উৎপাদনে অনেক বেশি ঘাটতি বর্তমানে লক্ষণীয়। আরো কেউই জানিনা সময় কিভাবে পরিবর্তন হয় এবং আমাদেরকে কোন পরিস্থিতিতে এখন দাঁড় করিয়েছে।
এই বিদ্যুৎ বিভ্রাট কোনো ব্যক্তিগত সমস্যা না বরং বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর জন্য সমস্যা। যেটা হাড়ে হাড়ে এই কিছুদিন হল আমরা বুঝতে পারছি। বিদ্যুৎ কিছুটা হলেও প্রাকৃতিক সম্পদের মত তাই আমাদের পূর্ব থেকেই সচেতন হওয়া উচিত ছিল।
কোনো সরকারি এবং বেসরকারি অধিদপ্তর হোক কিংবা বাড়ি, হয়তো আমাদের প্রত্যেকেরই কম বা বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে সেখানকার অবস্থান সম্পর্কে। আমি নিজেও এটা পর্যবেক্ষণ করেছি যে প্রয়োজন ছাড়াই অনেক সময় পদ্ধতির বাতি এবং বৈদ্যুতিক পাখা বিরামহীনভাবে চলতেই থাকে। বাকি রইল শীততাপ নিয়ন্ত্রক যন্ত্র, কনকনে শীত হোক বা গ্রীষ্মকাল অপ্রয়োজনে সেটিও চলমান থাকে।
আজকে কেন এই বিদ্যুৎ সংকট?
অবশ্যই আপনাদের ব্যক্তিগত অভিমত মন্তব্যের মাধ্যমে জানাতে পারেন।
তবে আমার যেটা মনে হয় সেটা হল এই পরিস্থিতি তৈরি করার জন্য আমরাই অনেকাংশে দায়। হয়তো আমরা বাড়িতেই অপ্রয়োজনে অনেক সময় বৈদ্যুতিক বাতি অন করে রাখি। বিশেষ করে দিনের আলোতে যেটা একদমই অপ্রয়োজনীয়।
বৈদ্যুতিক বাতিটা আমাদের প্রয়োজন হয় রাতের অন্ধকার দূরীভূত করার জন্য। কিন্তু আমরা সেটা না করে অপ্রয়োজনে দিনের বেলাও ব্যবহার করছি। অন্যদিকে যখন বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে তখন সচেতনতা অবলম্বন না করার কারণে হয়তো ঘর থেকে এবং অফিস থেকে বেরিয়ে যাচ্ছি। যখনই বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় চালু করা হচ্ছে তখন বিদ্যুৎ অপচয় হচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ফলাফল:-
✅ সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সাথে যারা জড়িত তাদের এক প্রকার সুবিধাই হচ্ছে। এই ধরনের ডাকাতি ও চুরির জন্য অন্ধকার টাই উত্তম।
✅ বিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষেত্রে অনেক ক্ষতি হচ্ছে। কারণ আমিও রাত্রিবেলা ছাড়া বই পড়তে পারি না। এটা স্বাভাবিক যে সাপ্তাহিক ছুটির দিন ছাড়া অন্যান্য দিনে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাঙ্গনে ক্লাস থাকে। অর্থাৎ তাদের বিষয়ভিত্তিক পড়াশোনার উপযুক্ত সময় রাত।
✅ উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার মানুষের জীবনের গতিবাদকে পরিবর্তিত করেছে। সেই গতিপথ কে পরিচালিত করার জন্য বৈদ্যুতিক ব্যবহারের বিকল্প নেই। এখনকার যুবসমাজের কিছু অংশ অনলাইনকে তাদের জীবন জীবিকা হিসেবে বেছে নিয়েছে। এক কথায় বেকারত্ব কিছুটা হলেও এই উন্নত প্রযুক্তি দূর করছে। এই ক্ষেত্রে যুবসমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বিকল্প কোনো পন্থা:-
আমি সত্যিই জানিনা যে এই অবস্থা দূর করার কোনো বিকল্প উপায় আছে কিনা। তবে যেটা মনে হয় সেটা হল সৌরশক্তিকে কাজে লাগিয়ে হয়তো বৈদ্যুতিক ব্যবহারের বিকল্প কোনো পথ তৈরি করা যেতে পারে। কিন্তু এটা ব্যক্তিগত উদ্যোগে কোনোভাবেই করা সম্ভব না।
জানিনা বর্তমানে আমাদের দেশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এটা নিয়ে চিন্তা করছেন কিনা। তবে চিন্তা করা উচিত কারণ জনগণই একটি দেশের সবচাইতে বড় শক্তি। জনগণের জন্য সুনিশ্চিত ভবিষ্যৎ ও একটি সুন্দর জীবন যাপন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা উচিত।
বিশেষ দ্রষ্টব্য:-
হয়তো সরকারি বাজেটের একটি বড় অংশ গ্রামাঞ্চলের দিকে সৌর প্যানেলের জন্য ব্যয় করা যেতে পারে। যেটার মাধ্যমে হয়তো সম্পূর্ণভাবে বৈদ্যুতিক ঘাটতি পূরণ হবে না কিন্তু সাধারণ মানুষ তাদের দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজগুলো করতে পারবে।
আমার আজকের লেখাটি এখানেই সমাপ্ত করছি। সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ্য থাকুন।
বর্তমান বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রধান কারণ হচ্ছে অর্থনৈতিক স্থবিরতা। আশা করা যাচ্ছে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই বিদ্যুৎ সংকটের সমাধান হবে।
সৌর প্যানেল এর মাধ্যমে বিদ্যুতের সংকট সমাধান করতে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন জায়গাতে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করা হয়েছে।
দেশের বর্তমান প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সেই সব অঞ্চলগুলোতে অর্থ বরাদ্দ দিতে গিয়ে এসব প্রকল্প অনেকটা পিছিয়ে গিয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভ্রাট সাধারণত দিনের বেলা নয়, বরং রাতের বেলাতে বেশি দেখা যাচ্ছে। এইসব কারণে পড়াশোনার প্রচুর ক্ষতি হচ্ছে প্রত্যেকটা এলাকার মানুষের আমরা আশাবাদী খুব দ্রুতই এই সমস্যার সমাধান হবে।