মানুষ মানুষের জন্য।
নাম না জানা অসহায় ও অসুস্থ মানুষটি। |
|---|
Hello Everyone,
গতকাল সন্ধ্যায় আমার এক পিসি আমাকে মোবাইল কলে জানিয়েছিলেন তার মোবাইলে একটা ত্রুটি দেখা দিয়েছে যেন আমি সেটি ঠিক করে দিয়ে আসি। কিন্তু বিভিন্ন কাজের চাপে আমি যেতে পারিনি, তাই আজ তারপর আমি তার কাছে গিয়েছিলাম। মোবাইলে ত্রুটি ঠিক করে দেওয়ার পরপরই আমি ওখান থেকে চলে এসেছি।
কিন্তু বাড়ির সামনে রাস্তাতে আসতেই দেখি বাড়ির ভেতরে বেশ ভীড় দেখা যাচ্ছে। এটা দেখে একপ্রকার ভয় পেয়েছিলাম। কিছুটা কাছে যেতেই মনটা একটু শান্ত হল দেখলাম বাড়ির কাকু, ছোট ঠাকুরদা এবং বাবা সুস্থ অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছেন। তবে মনের ভেতরটা একটা ভয় শুরু হলো কারণ দেখতে পেলাম একজন মোটামুটি মাঝ বয়সী লোক মাটিতে মৃতপ্রায় শুয়ে আছেন।
সবাই বেশ আদর কিন্তু আসলে লোকটিকে আমরা কেউ চিনি না এটাই সবথেকে বড় সমস্যা। তারপর আমার বাবা ও কাকু আসেন এখানে উপস্থিত কিন্তু আসলে বুঝে উঠতে পারছেন না কি করবে। এরপর আমি যেখানে গেলাম এবং ডাক্তারকে ডাকার কথা বললাম।
এবং ডাক্তারকে আমার মোবাইল থেকে কল করতে যাব ঠিক তখনই লোকটার শরীরটা একটু নড়ে উঠল এটা দেখলাম। তারপর ডাক্তার কে কল করলাম না। তারপর আমার বাবা ও কাকু লোকটিকে সুন্দর করে ধরে চেয়ারের উপর বসিয়ে দিলেন। লোকটা কথা বলতে পারছে না তার মুখ বাঁকিয়ে যাচ্ছে।
এরপর উনি ইশারা করে জল খেতে চেয়েছিলেন। তারপর আমার মা জল নিয়ে আসলেন যেহেতু আমাদের বাড়ির সবাই উপস্থিত ছিলেন, তাই সেখানে আমার মাও উপস্থিত ছিলেন। এরপর কোনরকম জলটা তিনি পান করলেন কিন্তু যথাযথভাবে পান করতে পারলেন না। কারণ দেখলাম ওনার ডান পাশটা অকেজো অর্থাৎ একবার স্ট্রোক করেছেন উনি এবং প্যারালাইজড হয়ে গিয়েছে।
তারপর আস্তে আস্তে আমার বাবা ওনার কাছে জিজ্ঞাসা করলেন যে উনি কে? উনার বাড়ি কোথায়?
অস্পষ্ট ভাষায় উনি বললেন যে উনার বাড়ি আমাদেরই উপজেলার মধ্যে পাশের একটি ইউনিয়ন নাম "খালেখারবেড়"। এটি গ্রামের নামও এই ইউনিয়নের।
শুধুমাত্র বাংলাদেশ নয় ভারতীয় কিছুটা পরিচিতি রয়েছে এই ইউনিয়ন ও গ্রামের নামের। কারণ এখানে রয়েছেন একজন প্রসিদ্ধ ব্যক্তিত্ব। "নিরা গোসাই" নামে এই সাধু ব্যক্তিত্ব যার মহা ধাম রয়েছে ইন্ডিয়াতেও।
কিন্তু তিনি তার নামটা পর্যন্ত বলতে পারলেন না শরীরের অবস্থা এতটাই খারাপ। তারপর তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল যে কেন তিনি এখানে এসেছেন। কোনরকম অস্পষ্ট সরে জানালেন তিনি খুব অসুস্থ বেশ কিছুদিন ধরে।
কোনরকম ডাক্তার দেখাতে পেরেছেন কিন্তু এখন শুধুমাত্র অল্প কিছু টাকার জন্য তিনি ওষুধ কিনতে পারছেন না। তারপর আমি আমার বাবা ও কাকুকে বললাম যে আমাদের বাড়িতে যারা যারা আছে সবাই মিলে তাকে কিছু সহযোগিতা করার জন্য।
তারপর বাবা কাকু ও দাদু এবং আমার জেঠাবাবুসহ আরো অনেকে ছিলেন বাড়িতে সবাই মিলে তাকে বেশ মোটামুটি পরিমাণ এর একটি সহযোগিতা করার চেষ্টা করেছি আমরা। এবং ফটোগ্রাফিতে আপনারা দেখতে পাচ্ছেন আমি নিজে হাতে তাকে আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী যেটা সম্ভব সেটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি।
এরপর তিনি যখন একটু সুস্থতা বোধ করলেন আমাদের বাড়ি থেকে বের হলেন তার বাড়ির উদ্দেশ্যে। হাঁটু দেখে কিছুটা ভালো লাগলো কারণ অনেক অর্থনৈতিকভাবে খুবই চিন্তিত ছিলেন কারণ ওষুধ কেনার টাকা ছিল না।
যখনই হাতে টাকাগুলো দিয়েছিলাম তখন জানি ঠোঁটের কোণে একটি উজ্জ্বল হাসির চিহ্ন দেখতে পেয়েছিলাম। কেমন জানি অদ্ভুত এক উৎফুল্লতার চিহ্ন ফুটে উঠেছিল তার চোখে-মুখে। আসলে আমরা কারো জন্য কিছু করার ক্ষমতা রাখি না যদি ঈশ্বর না চান।
কিন্তু আমাদের উচিত কেউ যদি আমাদের সামনে বিপদগ্রস্ত হয় তাকে সহযোগিতা করা। কারণ কার কখন বিপদ আসবে এটা বলা যায় না। আমাদের সবসময় উচিত বিপদগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো।
উপসংহারঃ |
|---|
আমাদের সবার উচিত এভাবে দরিদ্র, অসুস্থ ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো। কারণ আমরা অনেকে যদি অল্প একটু করেও সহযোগিতা করি তাহলে দেখা যায় সহযোগিতার পরিমাণ টা বেশি হয়ে যায়। একজন অসহায় অসুস্থ মানুষের জন্য যথেষ্ট।
সত্যিই আপনার দানশীলতা ও উদারতা দেখে আমি মুগ্ধ। আমি এমন মানুষকে খুব বেশিই পছন্দ করি। মানুষ মানুষের জন্যই, যদি তাই না হয় তাহলে এদের পাশে দাঁড়াবে কে? আপনাদের মত পরিবার, প্রতি এলাকায় এলাকায় থাকা দরকার। অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে ও আপনার কাকুদেরকে, এমন উদারতা ও দানশীলতার জন্য।
আমরা অনেক সময় অনেক টাকা নষ্ট করে ফেলি। বিশেষ করে আমরা ৫ টাকা থেকে এর নিচে টাকাই মনে করি না। অথচ যদি এলাকার ৫০ জন মানুষ যদি ৫ টাকা করে দিত, এমনিতেই কিন্তু ২৫০ টাকা হয়ে যেত। একজন দরিদ্র মানুষের জন্য ২৫০ টাকা অনেক বড় কিছু। তারা চায় শুধু একটু খেয়ে বেঁচে থাকতে। ভালো খাবার বা দামি কাপর নয়। ৫ টাকা বলতে আমি জাস্ট উদাহরণ স্বরুপ বলেছি। আসলে এখানে বড় মনের মানসিকতা খুব বেশি দরকার সবার। এতেই ভালো হবে প্রতিটি দরিদ্রদের জন্য।
অনেক ভালো লাগলো আপনার পোস্ট পড়ে। ভালো থাকবেন আল্লাহ হাফেজ।
আসলেই প্রথমে যখন আপনার পোস্ট আমি ওপেন করেছিলাম। লোকটার ফটোগ্রাফি দেখে আমি নিজেও ভয় পেয়ে গেছিলাম। আমি ভেবেছিলাম হয়তোবা লোকটার কিছু একটা হয়ে গেছে। যাই হোক আপনার পোস্ট ধীরে ধীরে পড়ার পরে বুঝতে পারলাম। লোকটা খুবই অসুস্থ হয়ে গেছে উনার কাছে টাকা নেই ওষুধ কেনার মত। ডাক্তার দেখানোর মতো,তার পর আপনারা ওনার সম্পর্কে বিস্তারিত জানলেন। এবং পরবর্তীতে আপনাদের বাড়ির সবাই মিলে উনাকে কিছু একটা অংকের টাকা দিয়েছেন। যাতে উনি ওষুধ কিনে খেতে পারেন।
এ বিষয়টা আসলে আমার কাছে খুবই ভালো লাগলো। তারপর লোকটা আপনাদের বাড়ি থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেল।
আসলে আমরা যদি মানুষেরা মানুষের পাশে না দাঁড়ায়। তাহলে হয়তো বা আমাদের সমাজ আমাদের পৃথিবী অনেক আগেই ধ্বংস হয়ে যেত।
আজকে আপনি আপনার সাথে ঘটে যাওয়া এই মানুষটার ঘটনা শেয়ার করেছেন। এমন অহরহর ঘটনা রয়েছে, আমাদের বর্তমান সমাজে বিশেষ করে আমার সাথেও ঘটে। তবে যতটুকু পারি মানুষকে সাহায্য সহযোগিতা করার চেষ্টা করি, আমি আমার সাধ্যমত।
আপনার পোস্ট পড়ে খুবই ভালো লাগলো। এবং আপনাদের পরিবারকে অসংখ্য ধন্যবাদ। এই লোকটার পাশে দাঁড়ানোর জন্য। এবং সৃষ্টিকর্তার কাছে আমি প্রার্থনা করব। সৃষ্টিকর্তা যেন আপনাদের সবাইকে আপনাদের পরিবারের সবাইকে, নেক হায়াত দান করে। এবং এভাবেই প্রত্যেকটা মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মত মন মানসিকতা আপনাদের মনেও সৃষ্টি করে। যেহেতু আপনারা একজনকে সাহায্য করেছেন। ইনশাল্লাহ আমি আশা করছি ভবিষ্যতে আরো অনেকেই আপনারা সাহায্য করবেন, ভালো থাকবেন সব সময়।