Sittong যাওয়ার পথে.....
নমস্কার বন্ধুরা। সকলে কেমন আছেন? আজকে আবারও চলে এসেছি আপনাদের সাথে নতুন একটি গল্প শেয়ার করার জন্য। আশা করছি আপনাদের সকলের ভালো লাগবে।
আমার বিয়ে হয়েছে চার মাস হল। এই চার মাসের মধ্যে আমাদের দুজনের একসাথে দুই দিনের জন্য হলেও কোথাও যাওয়ার সুযোগ হয়নি। অনেকদিন ধরেই আমরা ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলাম। সেই অনুযায়ী মার্চ মাসের ২৮ তারিখে আমাদের ট্রেনের টিকিট কাটা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে আমাদের রাজ্যের ভোটের তারিখ ঘোষণা হয়। আমাদের এখানে ভোট ছিল ২৯ তারিখে। তাই ভোট দেওয়ার জন্যই আমরা আমাদের ট্রিপটা ক্যানসেল করে দিই। ভোট দান একটা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব, তাই সেটাকে অবহেলা করে ঘুরতে যাওয়া টা আমরা সমীচিন বলে মনে করিনি। যাইহোক, সেই কারণে আমাদের সেই সময় আর ঘুরতে যাওয়া হয়নি। তারপর এপ্রিল মাসে আমার বর অফিস থেকে ছুটি পায়নি। তাই মনটা খুবই খারাপ ছিল। কোথাও একটা ঘুরতে না যাওয়া পর্যন্ত যেন ভালোই লাগছিল না। আমার বিয়ের পরপর আমার অনেক পরিচিত মানুষদের বিয়ে হয়েছিল, তাদের ঘুরতে যাওয়ার ফটো দেখে ভাবতাম আমরা কবে ঘুরতে যাবো। তাই অবশেষে আমরা পরিকল্পনা করেই ফেললাম।
নিজে দায়িত্ব নিয়ে ফেসবুক থেকে একটা ট্রাভেল এজেন্সির ডিটেইলস খুঁজে বের করলাম। তারপর নিজেই ফোন করে সমস্ত ডিটেলস শুনলাম। ওটা ৪ দিনের ট্যুর ছিল। ওরা দার্জিলিংয়ের দুটো অফ বিট এরিয়া --- সিটিং ও দাওয়ায়-পানি সহ দার্জিলিং ট্যুর এর আয়োজন করেছিল। নিউ জলপাইগুড়ি থেকে ওরা আমাদেরকে পিক আপ করত। আর বাড়ি থেকে নিউ জলপাইগুড়ি পর্যন্ত যাওয়ার খরচ নিজেদেরই ছিল। জন প্রতি ওরা নিয়েছিল ৬৫০০ টাকা করে। তিন বেলা খাওয়া দাওয়া সহ থাকার ব্যবস্থা এবং গাড়ি ভাড়া ওই টাকার মধ্যেই ইনক্লুড ছিল। আমি যেহেতু দার্জিলিং এর আগেও ঘুরে গিয়েছি তাই দার্জিলিং এর থেকেও সিটং ও দাওয়াই পানি ঘোরার প্রতি আমার বেশি আগ্রহ ছিল। আর আমার বর যেহেতু আগে কখনো দার্জিলিং যায়নি তাই ও নিজেদের রাজ্যের এই সুন্দর জায়গাটি না ঘুরে অন্য কোথাও ঘুরতে যেতে রাজি ছিল না। তাই ভাবলাম দুজনেরই ঘোরার মতো জায়গাই যখন এই ট্রাভেল এজেন্সি আয়োজন করেছে তখন একবার ওনাদের সাথেই ঘুরে আসা যাক।
সেইমতো সমস্ত ব্যবস্থা করা হলো। আমাদের বাসে ওঠার দিন ছিল ২০ই মার্চ। পরে আমরা আর ট্রেনের টিকিট পাইনি তাই বাসে করে যাওয়ারই পরিকল্পনা ছিল। আমার বর কিংবা আমার কারোরই একা ঘুরতে যাওয়ার কোন অভিজ্ঞতা নেই। সুতরাং এই ট্রেনে-বাসে যাতায়াত এর সময় সম্পর্কে ধারণাও খুবই কম। যাইহোক আমরা সমস্ত কিছু প্যাক করে নিয়েছিলাম সময়ের মধ্যেই। তারপর সন্ধ্যা নাগাদ আমরা বাড়ির সবাইকে টাটা বলে বেড়িয়ে পড়েছিলাম। আমাদের বাস ছিল রাত ৮ টার দিকে। একটা টোটো ভাড়া করে আমরা বাসস্টপে পৌঁছে গিয়েছিলাম।
সেখানে গিয়ে শুনি বাস আসতে আরো কিছুক্ষণ দেরি আছে তাই বেশ কিছুক্ষণ আমরা বসে ছিলাম। আমার যেহেতু মোশন সিকনেস আছে তাই আমি বাসে ওঠার পরে আর কিছু খেতে পারি না। বমি হয়ে যাওয়ার ভয়ে আমি কিছুই খাই না। তাই বাসে ওঠার আগে আমরা একটা ধাবা থেকে রুটি আর তরকা কিনে খেয়ে নিয়েছিলাম। খাওয়া দাওয়ায় শেষ করে আরো বেশ কিছুক্ষণ আমাদেরকে অপেক্ষা করতে হয়েছিল। তবে বাসটা আসতে এত দেরি করবে আমরা নিজেরাও বুঝতে পারিনি। তখন থেকেই মনটা একটু খারাপ হয়ে গিয়েছিল কারণ ট্রাভেল এজেন্সির তরফ থেকে আমাদেরকে একটা সময় দিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে সময়ের মধ্যে আমাদেরকে নিউ জলপাইগুড়ি পৌঁছাতে হতো। যাইহোক, অবশেষে বাস এলো এবং আমরা বাসে উঠে পড়লাম।
এরপর যে দুর্ভোগে আমরা পড়েছিলাম সেটা আপনাদের সাথে পরবর্তী পোস্টে শেয়ার করব। আজ তাহলে এখানেই শেষ করছি। সকলে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।