আতঙ্ক

in Incredible Indialast year

নমস্কার বন্ধুরা। আজ আবারও চলে এসেছি আপনাদের সাথে নতুন একটি গল্প শেয়ার করার জন্য। আশা করছি সকলেই ভালো লাগবে।

হাইস্কুলে পড়ার সময় থেকেই আমি কিন্তু প্রত্যেক বছর বিদ্যালয়ের বার্ষিক ম্যাগাজিনের জন্য কিছু না কিছু লেখা জমা দিতাম। আমি যে লিখতে খুব ভালবাসতাম কিংবা খুব ভালো লিখতাম তাই লেখা জমা দিতাম সেটা কিন্তু নয়। যেহেতু আমার অন্যান্য বন্ধুবান্ধবরা ও তাদের লেখা কবিতা কিংবা গল্প জমা দিত তাই তাদের দেখাদেখি আমারও কিছু লিখে জমা দিতে মন চাইতো। তাই যেমনই লেখা হোক না কেন কিছু একটা লিখে জমা দেবোই এমনই পণ ছিল । হাই স্কুলে নবম শ্রেণীতে পড়ার সময়ও ম্যাগাজিনে ছাপানোর জন্য একটি গল্প লিখে ক্লাস টিচার কে জমা দিয়েছিলাম। আজকে আমি আপনাদের সাথে এই গল্পটিই শেয়ার করব।

1000159987.jpg

লিংক

আতঙ্ক

ছোট্ট মিতু সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী। তার মন একটুও ভালো নেই। সে তার জীবনটাকে একটা আতঙ্ক বলে মনে করে। ভোর থাকতে ঘুম থেকে উঠে মুখ ধুয়ে কোনো মতে একটু কিছু মুখে দিয়ে মাস্টার মশায়ের বাড়ি পড়তে যাওয়া। তারপর ফিরে কোনমতে একটু ভাত খেয়ে আবার স্কুলে যাওয়া ।স্কুল থেকে ফিরতে না ফিরতেই আবার বাড়িতে মাস্টার মশাই চলে আসেন তাকে পড়াতে। এইভাবে পড়া পর্ব শেষ হয় রাত এগারোটায়। তারপর খেয়ে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়া এবং পরের দিনের জীবন রুটিন এর জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা।

মিতুর মা ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের শিক্ষিকা এবং বাবা একজন বড় অফিসার। তাদের একমাত্র মেয়ে মিতু। মিতু কে নিয়ে তাদের অনেক স্বপ্ন। তারা চান মিতু যেন প্রতি ক্লাসে প্রথম হয়। তাই মিতুর জন্য প্রতি বিষয়ে আলাদা আলাদা শিক্ষকের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। মিতুর বাবা মা নিজে নিজের কর্মজীবন নিয়ে এতটাই ব্যস্ত যে মিতুর পড়াশোনা দেখার তাদের কোন সময় নেই।মিতু তার বাবা-মায়ের সাথে সপ্তাহে একদিন দুপুরে খেতে বসে। অন্য কোনদিন সে তার মাকে কাছেই পায় না। মিতুর কিন্তু একদম ভালো লাগেনা এতগুলো মাস্টারমশায়ের কাছে পড়তে। সে ভাবে পাশের বাড়ির টুকাই তার সমবয়সী হয়েও কি সুন্দর বিকেল বেলা তার মায়ের সাথে পার্কে গিয়ে খেলা করে। মিতুরও খুব ইচ্ছা করে পার্কে গিয়ে খেলাধুলা করতে। কিন্তু খেলাধুলা করার সময়ই যে নেই মিতুর। মিতুকে তো শুধু পড়া করলেই হয় না। তার সাথে রয়েছে নাচ ,গান ,আঁকা আরো কত কিছু। মিতুর ইচ্ছা- অনিচ্ছার কথা কেউ চিন্তাও করে না।

এইভাবে চলতে চলতে মিতুর আর পড়াশোনা ভালো লাগেনা। মিতু স্কুল যেতে খুব ভালবাসলেও বর্তমানে তার আর কিছুই ভালো লাগেনা। স্কুলের দিদিমণিরা বলে, "মিতু তোমার কি হয়েছে? তুমি তো এরকম ছিলে না। পড়াশোনায় মন নেই কেন ?" সেদিন অংকের দিদিমণি বলে গেলেন, "কাল কিন্তু বীজগণিতে সূত্রগুলো মুখস্ত না পেলে সবাইকে শাস্তি দেব"। মিতুর কাছে অংক তো আতঙ্ক হয়ে উঠেছে। মিতু ভাবে কি করে সে সূত্রগুলো মুখস্ত করবে তার তো মনে থাকছে না। এই ভেবে সে ঘুমিয়ে পড়ল এবং ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে বলতে লাগলো, "(a+b)²=a²+2ab+b²‌ ।

ক্রমাগত সে বিড়বিড় করে অংকের বিভিন্ন সূত্রগুলো বলতে লাগলো। হঠাৎ মিতুর মা ঘুম ভেঙ্গে দেখলেন মিতু যেন কি সব বিড়বিড় করছে। মা দেখলেন যে মিতু ঘুমের মধ্যে সূত্র বলছে। মিতুর মা মিতুকে বুকে চেপে ধরে বললেন, "কি হয়েছে সোনা?" তখন মিতু হাউ হাউ করে কেঁদে উঠে বলল, "মা আমার আর পড়া ভালো লাগছে না।" আমি খেলতে চাই কিন্তু আমার খেলার সময় নেই। আমি তোমার কাছে সব সময় থাকতে চাই। এই কথা শুনে মিতুর মা তার মেয়েকে বুকে জাপটে ধরলেন এবং নিজেদের ভুল বুঝতে পারলেন। তারপর থেকে মিতুর মা মিতুকে নিয়ে বিকেলবেলা পার্কে যাই এবং মিতুর সঙ্গে সময় কাটায়।

*এবার মিতুর জীবন থেকে আতঙ্ক চলে গেল। এবার সত্যি করে পড়াকে ভালোবাসলো এবং বার্ষিক পরীক্ষায় মিতু প্রথম স্থান অধিকার করল। মিতুর মা বুঝতে পারলেন যে শুধুমাত্র মাস্টারমশাই দিয়ে মেয়ের রেজাল্ট ভালো হয় না। সন্তান চাই পিতা-মাতার ভালবাসা ও সান্নিধ্য। পিতা মাতার আদরে, ভালোবাসায় সন্তানের জীবনের সব আতঙ্ক কেটে যায় ‌। শিশুদের পড়াশোনা কে ভালবাসতে হবে, ভয় করলে চলবে না। শিশুকে বোঝা ভাবলে হবে না। শিশুর উপর পড়াশোনার চাপ বাড়িয়ে দিলে হবে না, তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী শিক্ষা দিতে হবে।"

এই লেখাটা তখন কি ভেবে লিখেছিলাম জানিনা তবে বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে দেখতে গেলে সত্যি সত্যিই বাবা-মাদের এক্সপেক্টেশন যেন আকাশ ছোঁয়া হয়ে যাচ্ছে। যার ফলে সমস্যা করতে হয় ছোট ছোট বাচ্চাগুলোর। তাড়াতাড়ি সমস্ত ইচ্ছা অনিচ্ছাকে বিসর্জন দিয়ে বাবা-মায়ের কথা মেনে চলতে বাধ্য হয়। যার ফলে তারা হারিয়ে ফেলছে তাদের গৌরবময় শৈশবকাল। আমার লেখাটি সেই বিষয়টি কেন্দ্র করেই লেখা হয়েছিল‌।

আজ তাহলে এখানেই শেষ করছি। সকলে অবশ্যই জানাবেন আমার লেখাটি আপনাদের কেমন লাগলো। সকলে সুস্থ থাকবেন, ভালো থাকবেন।

Sort:  
Loading...
 last year 

আপনার লেখাটা আপনি কিভাবে লিখেছিলেন সেটা আপনি নিজে জানেন না তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই ধরনের ঘটনা অহরহর ঘটে যাচ্ছে বাবা-মা তাদের কর্মব্যস্ততার কারণে সন্তানদের পেছনে সময় দিতে পারছে না যার কারণে সন্তানের নানা ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে তবে মৃত্যুর মাস শেষ পর্যন্ত নিজের ভুল বুঝতে পেরেছে এবং তার মেয়েকে নিয়ে ঘোরাঘুরি করার তাকে একটু সময় দেয়া তারা আতঙ্কের কারণটা খুঁজে বের করে সেটাকে সমাধান করা এই বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়েছে দিন শেষে তার মেয়ে পড়াশোনার দিকে আবারো আগ্রহ প্রকাশ করেছেন অসংখ্য ধন্যবাদ বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিষয়টা আমাদের সাথে তুলে ধরার জন্য ভালো থাকবেন।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.082
BTC 59866.06
ETH 1573.69
USDT 1.00
SBD 0.42