আকাশে রামধনুর দর্শন 🌈
নমস্কার বন্ধুরা। সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সবারই খুব ভালো আছেন। আজকে আপনাদের সাথে একটা দারুণ জিনিস দেখাবো। কি বলুন তো? বৃষ্টির শেষে হালকা রোদের আভা দেখা দিলে, সূর্যরশ্মি মেঘের গায়ে থাকা জলকণায় প্রতিফলিত হয়ে সাতটি রঙে ছড়িয়ে পড়ে, যে রামধনু সৃষ্টি করে সেটাই আজ আপনাদের দেখাবো। যেটা আজ আমি নিজের চোখে দর্শন করলাম।
এর আগেও বহুবার এই রামধনু দেখা পেয়েছি। তবে এত স্পষ্ট ভাবে এই প্রথম বার দেখলাম। এই ছবিটা বেশ কিছুদিন আগেকার। সেদিন আমরা আমার এক দিদির বাড়ি ঘুরতে গিয়েছিলাম। সেই দিদির বাড়ি একটি গ্রামে। চাষের ক্ষেতের মাঝখান দিয়ে চলে যাওয়া রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে হঠাৎ করে মুষলধারে বৃষ্টি নামে। আমরা কোনক্রমে স্কুটি থেকে নেমে একটা ছাউনির নিচে আশ্রয় নিই। চারিদিকে সবুজ খেত আর তার মাঝে একটি ছাউনির নিচে আমরা বসে বসে বৃষ্টি থামার অপেক্ষা করছি আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য উপভোগ করছি। সেই সব দেখতে দেখতে এতটাই হাড়িয়ে গিয়েছিলাম যে আপনাদের সাথে শেয়ার করার জন্য ফটো তুলতেই ভুলে গিয়েছি। তাই পরে আফশোসও করেছি।
বেশ কিছুক্ষণ বৃষ্টি হওয়ার পর, অবশেষে বৃষ্টি থামে। তারপরেই দেখি আকাশে মেঘ সরে গিয়ে সূর্য মামা উঁকি মারছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই বেশ রোদ ঝলমলে আকাশ হয়ে গেল। বৃষ্টি হওয়ার সাথে সাথে এইরকম ভাবে রোদ উঠে যাওয়া আমার একেবারে পছন্দ নয়। কিছুক্ষণ আগেই কি সুন্দর শান্ত, শীতল একটা পরিবেশ তৈরি হয়েছিল সেটা যেন আস্তে আস্তে মিলিয়ে যেতে লাগলো। হঠাৎ করে বৌদি বলে উঠলো, " ঐ দেখো আকাশে কি উঠেছে।" আমরাও তৎক্ষণাৎ আকাশের দিকে তাকালাম। দেখি কি সুন্দর একটা রামধনু আকাশে দেখা দিয়েছে। সাত রকম রং মিলে তৈরি হওয়া এই রামধনু কার পছন্দ নয় বলুন। তাই তৎক্ষণাৎ দুটো ফটো তুলে নিলাম।। কারণ সচরাচর তো এইরকম রামধনু দেখা যায় না। অনেকদিন আগে শেষবার রামধনু দেখেছিলাম।
এরপর কিছুক্ষণের মধ্যে সেই দিদির বাড়ি গিয়ে হাজির হয়েছিলাম। এমনিতেই গ্রামের বাড়ি গুলিতে অনেক গাছ-গাছালি থাকে।এই দিদির বাড়িতেও অনেক ধরনের গাছ ছিল। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি মন কাড়ে ফুল গাছগুলো। এতসব রংবেরঙের ফুল ফুটে থাকে যে মনটা ভরে যায়। প্রথমেই দেখাবো নীলকন্ঠ বা অপরাজিতা ফুল। এই অপরাজিতা ফুল বিভিন্ন রঙের হয়। তবে আমার সবথেকে বেশি ভালো লাগে নীল রঙের অপরাজিতা বা নীলকন্ঠ ফুল।
দিদির বাড়িতে আরো এক ধরনের অপরাজিতা ফুল ছিল। সেটি সাদা রংয়ের। তবে এই সাদা অপরাজিতা ফুলগুলো আমার তেমন পছন্দের নয়। তবে নীলকন্ঠ গাছের মাঝে এই একটা সাদা অপরাজিতা ফুলের লতানো গাছ বেশ ভালোই লাগছিল। আমার শ্বশুর বাড়িতেও বেশ কতগুলো অপরাজিতা ফুলের গাছ রয়েছে। আমার শ্বাশুড়ি মা গাছ খুব পছন্দ করেন। তবে বাড়িতে বিশেষ ফাঁকা জায়গা না থাকায় সেই ভাবে বাগান চর্চা করতে পারেন না। তাই ওনার মনে আজ বিরাট আফসোস রয়েছে। যদিও আমরা ঠিক করেছি পরে আমরা একটা ছাদ বাগান বানাবো। তবে ছাদ বাগান বানানো তো মুখের কথা নয়। সেগুলো দেখাশোনা করা খুব গুরুত্বপূর্ণ কাজ। তাই পরিকল্পনামাফিক কাজ না করলে কখনোই একটা সুন্দর ছাদ বাগান তৈরি করা সম্ভব নয়।
এরপর আপনাদের সাথে শেয়ার করব আরো একটি ফুলের ছবি। এই ফুলটার নাম আমার এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না। যদিও দিদিকে জিজ্ঞাসা করে ফুলটার নাম জেনেছিলাম। আপনারা কেউ জেনে থাকলে কমেন্টের মাধ্যমে অবশ্যই জানাতে পারেন। এটাও এক ধরনের সাদা রঙের ফুল। আমি এর আগে বেশ কয়েকবার এই ফুল দেখেছি বটে, তবে নাম জানা ছিল না। টগর ফুল বা সাদা ফুলের মত দেখতে হলেও এগুলো কিন্তু টগর ফুল নয়। টগর ফুল বেশ মোটা মোটা হয় তবে এই ফুলগুলো খুব পাতলা।
আজ তাহলে এখানেই শেষ করছি। আগামীকাল আবার অন্য কোনো লেখা নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হব। সকলে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।