নারকেল কুলফি
নমস্কার বন্ধুরা। আপনারা সকলে কেমন আছেন? আজকে চলে এসেছি আপনাদের সাথে একটা দারুন রেসিপি শেয়ার করার জন্য। আশা করছি এই গরমে আপনাদের সকলের ভালো লাগবে।
প্রচন্ড গরমে আমরা একটু ঠান্ডা কিছু খেতে বেশি পছন্দ করি। তাই বাড়ির মধ্যে থাকি কিংবা বাড়ির বাইরে বেরোই আমরা কিন্তু ঠান্ডা পানীয় কিংবা আইসক্রিম, কুলফি ইত্যাদি খেতে পছন্দ করি।
গতকাল ফেসবুক স্ক্রল করতে করতে হঠাৎ করে নারকেল কুলফি বানানোর একটা রেসিপি দেখলাম। রেসিপিটা দেখা মাত্রই ভেবে নিয়েছিলাম আজকে এটা বানাবো। তবে আমাদের বাড়িতে নারকেল ছিল না। তাই চলে গিয়েছিলাম আমার শ্বশুর বাড়ি। সেখানে সমস্ত উপকরণই মোটামুটি ছিল। সেখানেই এই কুলফি টা বানিয়েছিলাম।
চলুন তাহলে জেনে নিই, আমি কিভাবে অল্প উপকরণ দিয়ে ঘরোয়া পদ্ধতিতে এই নারকেল কুলফি বানিয়েছিলাম।
|
|---|
| নং | সামগ্রী | পরিমাণ |
|---|---|---|
| ১ | নারকেল | একটা নারকেলের তিন ভাগের এক ভাগ |
| ২ | দুধ | ৫০০গ্রাম |
| ৩ | আমুল পাউডার দুধ | ১প্যাকেট |
| ৪ | কনডেন্স মিল্ক | ৩ চামচ |
| ৫ | চিনি | স্বাদ অনুযায়ী |
| ৬ | কিসমিস | পরিমাণ মতো |
| ৭ | বাদাম | পরিমাণ মতো |
| ৮ | এলাচ | ৩ টে |
|
|---|
ধাপ ১ :
প্রথমে নারকেলগুলোকে ছোট ছোট করে কেটে নিয়েছিলাম। বাড়িতে তরতাজা কোন নারকেল ছিল না, অনেকদিন ধরে রেখে দেওয়ার ফলে নারকেলটা শুকিয়ে গিয়েছিল। যার ফলে আমি নারকেলের বাইরের কালো অংশগুলো কেটে বাদ দিতে পারিনি। তবে আপনারা যদি চান কুলফি টা সাদা ধবধবে করতে সেক্ষেত্রে আপনারা নারকেলের গায়ের কালো অংশগুলো কেটে বাদ দিয়ে দেবেন।
ধাপ ২ :
এরপর বাদাম ও কিশমিশ গুলো ভালো ভাবে কুচি কুচি করে কেটে নেব। এক্ষেত্রেও একই কথা বলবো যে, যদি কুলফি টা সাদা করতে চান সেক্ষেত্রে বাদাম গুলো কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রেখে ওপরের খোসাটা ছাড়িয়ে নেবেন। তবে আমার হাতে সময় বিশেষ ছিল না তাই আমি খোসা সমেতই কেটে ছিলাম।
ধাপ ৩ :
এরপর নারকেলগুলো মিক্সারে দিয়ে, সামান্য দুধ দিয়েছিলাম। তারপর একটা পেস্ট তৈরি করে নিয়েছিলাম।
ধাপ ৪ :
এরপর দুধটা ভালোভাবে ফুটিয়ে একটু ঘন করে নিয়েছিলাম। তারপর তার মধ্যে দিয়ে দিয়েছিলাম এক প্যাকেট পাউডার দুধ। তারপর আরো কিছুক্ষণ ফুটিয়ে কিছুটা ঘন করেছিলাম।
ধাপ ৫ :
এরপর তার মধ্যে দিয়ে দিয়েছিলাম তিনটে গোটা এলাচ। এলাচগুলো একটু ফাটিয়ে দিয়েছিলাম। তারপর তার মধ্যে স্বাদমতো চিনি দিয়ে ছিলাম।
ধাপ ৬ :
এরপর তার মধ্যে দিয়ে দিয়েছিলাম সামান্য বাদাম কুচি ও তিন চামচ কনডেন্স মিল্ক। বাদাম গুলো যেহেতু খোসা সমেত কেটেছিলাম তাই দুধের ওপরে খোসাগুলো ভেসে ওঠায় একটু কালো কালো লাগছিল। পরেরবার বানালে অবশ্যই খোসাগুলো ছাড়িয়ে বানাবো।
ধাপ ৭ :
এরপর আরো বেশ কিছুক্ষণ ফুটিয়েছিলাম। দুধটাকে আরও বেশি ঘন করে নিয়েছিলাম। তারপর সেটাকে নামিয়ে ঠান্ডা হওয়ার জন্য বেশ অনেকক্ষণ রেখে দিয়েছিলাম।
ধাপ ৮ :
দুধটা পুরোপুরি ঠান্ডা হয়ে গেলে, আইসক্রিমের ডাইসের মধ্যে প্রথমে কিছু কিসমিস কুচি, তারপর হাফ চামচ নারকেল পেস্ট দিয়েছিলাম। এরপর তার মধ্যে দুধ টা দিয়ে দিয়েছিলাম। এইভাবে সবকটা ডাইস পূরণ করে নিয়েছিলাম।
এরপর সেটাকে ডিপ ফ্রিজে বেশ কয়েক ঘন্টার জন্য রেখে দিয়েছিলাম। তবে বিশেষ কারণবশত আমাকে বাড়ি চলে আসতে হয়েছিল। যার ফলে কুলফি টা জমাট বাঁধার পর আমার আর ছবি তোলা হয়নি। সেই সাথে আমি এখনো টেস্ট করতে পারিনি। তবে ওরা খেয়ে জানিয়েছে খেতে খুব ভালো হয়েছে।
আপনারাও আপনাদের বাড়িতে একই পদ্ধতিতে এই নারকেল কুলফি বানিয়ে খেতে পারেন। যদিও আমি এখনো টেস্ট করিনি তবে সকলে কিন্তু খেয়ে ভালোই বলেছে। আজ তাহলে এখানেই শেষ করছি, আগামীকাল আবার অন্য কোনো লেখা নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হব। সকলে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।
আসলে এই গরমে ভেতরে মনে হয় কিছু ঠান্ডা খায় সেটা হোক ঠান্ডা শরবত কিংবা আইসক্রিম বাহির থেকে যখন রুমে আসি তখন প্রথমে ফ্রিজে হাত দিয়ে দেখি কিছু ঠান্ডা পানি বা আইসক্রিম থাকলে খাওয়া যাবে আপনি অসাধারণ একটি নারিকেল দিয়ে কুলফি বানিয়েছেন এই গরমে এমন ঠান্ডা আইসক্রিম খেতে বেশ ভালই লাগে আপনার আইসক্রিম বানাতে যা যা উপকরণ লাগে সবকিছু আমাদের মাঝে খুব ভালোভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন অসাধারণ একটি নারিকেল কুলফি বানিয়ে আমাদের মাঝে তুলে ধরবার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ
নারিকেল দিয়ে তৈরি করা কুলফি ছোটবেলায় অনেক খেয়েছিলাম একটা কুলপি কিনতে হতো তিন টাকা চার টাকা দিয়ে কিন্তু বর্তমান সময়ে এই কুলফি গুলো তেমন একটা দেখা যায় না আজকে আপনি চমৎকারভাবে নারিকেল দিয়ে কিভাবে কুলফি তৈরি করা যায়। সেই পদ্ধতি আমাদের সাথে তুলে ধরেছেন যেটা দেখে আসলে সত্যি অনেক ভালো লাগলো এই গরমের মধ্যে কুলফি কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ধন্যবাদ ভালো থাকবেন।