রামধনু 🌈🌈🌈 ( এক্সামের জন্য তৈরি মডেল)
নমস্কার বন্ধুরা। আশা করছি আপনারা সকলেই ভালো আছেন, সুস্থ আছেন। আমিও খুব ভালো আছি। সকলের সুস্থতা কামনা করে আমি আমার আজকের ব্লগটি শুরু করছি। আশা করছি আপনাদের সকলের ভালো লাগবে। প্রতিদিন নতুন নতুন গল্প আপনাদের সাথে শেয়ার করে আমারও বেশ ভালো লাগে।
আমি আমার ইন্ট্রোডাকশন পোস্টে জানিয়েছিলাম আমি বর্তমানে ডি.এল.এড (Diploma in Elementary Education) করছি। পশ্চিমবঙ্গের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক/শিক্ষিকা পদের পরীক্ষার জন্য এই কোর্সটি আবশ্যক। যেহেতু প্রাথমিক স্কুল এর শিক্ষার্থীদের জন্য এই কোর্সটি করা হয় তাই আমাদের, বাচ্চাদের কারিকুলামের সাথে সংযোগ রেখে অনেক মডেল, চার্ট ইত্যাদি বানাতে হয়।
আমরা যখন অন্য স্কুলে ইন্টার্নশিপের জন্য যাই তখন এই মডেল বা চার্ট গুলো সঙ্গে করে নিয়ে যেতে হয়। এই চার্ট গুলো বা মডেলগুলো তাদের পাঠ্য বিষয়কে আরো ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করে। যেহেতু আমরা পড়ে বোঝার চেয়ে দেখে এবং শুনে ভালো বুঝতে পারি তাই বাচ্চাদের পাঠ্য বিষয়কে আরো বেশি মনোগ্রাহী করে তোলার জন্যই এই পন্থা অবলম্বন করা।
ডি.এল.এড এর প্রথম বর্ষের এক্সটার্নাল এক্সামের সময় আমাদের বাংলা , অংক, ইংরেজি ও পরিবেশ--এই চারটি বিষয় থেকে মোট দুটি বিষয় বেছে নিতে হয় এক্সামিনারের সামনে ডেমো ক্লাস নেওয়ার জন্য। এই চারটি বিষয় থেকে আমি বেছে নিয়েছিলাম বাংলা এবং পরিবেশকে। বাংলা বিষয়ে প্রথম শ্রেণীর 'ঐ দেখো বন' ও তৃতীয় শ্রেণীর 'আকাশে রঙের ছটা' এই একক গুলি বেছে নিয়েছিলাম। তাই এই বিষয়গুলির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমাকে কিছু মডেল তৈরি করতে হতো।
অনেকেই এই মডেলগুলো অন্য কাউকে দিয়ে বানাই বা রেডিমেড কিনে নিয়ে আসে। তবে আমি ঠিক করেছিলাম আমার মডেল গুলো আমি নিজেই তৈরি করব। যদিও আগে কখনো করিনি। তাও মনে মনে একটা পরিকল্পনা করে যা যা উপকরণ প্রয়োজন ছিল বাজার থেকে সব কিনে এনেছিলাম।
যেহেতু আমাদের এক্সটার্নাল এক্সাম, আমার এই প্লাটফর্মে আসার আগেই হয়ে গিয়েছিল তাই মডেল তৈরির ধাপগুলোর সেই রকম ভালোভাবে কোনো ছবি তোলা নেই। তবে অল্প কিছু ছবি আমি স্বভাববশত তুলে রেখেছিলাম। তাই ভাবলাম আজকে ঐ মডেল তৈরির ধাপগুলোই আপনাদের সাথে শেয়ার করি। 'আকাশে রংয়ের ছটা' --- এই এককের মধ্যে আমি পড়িয়েছিলাম রামধনু 🌈 🌈 🌈 🌈 🌈 সম্পর্কে। তাই আমাকে রামধনুর একটা মডেল তৈরি করতে হয়েছিল।
চলুন তাহলে জেনে নিই কিভাবে বানিয়েছিলাম।
| নং | সামগ্রী | পরিমাণ |
|---|---|---|
| ১ | থার্মোকল | ২টো |
| ২ | রঙিন আর্ট পেপার (সবুজ, হলুদ, নীল সাদা) | ১ টি করে |
| ৩ | রঙিন A4 পেজ | প্রয়োজন অনুযায়ী |
| ৪ | আঠা | প্রয়োজন অনুযায়ী |
| ৫ | স্কেচ পেন | নানা রঙের |
| ৬ | রঙিন পেন | নানা রঙের |
| ৭ | রং পেন্সিল | নানা রঙের |
ধাপ ১:
প্রথমে বড় থার্মোকলটিকে কেটে অর্ধেক করে সঠিক মাফ করে নিয়েছিলাম। তারপর একটা ব্লেডের সাহায্যে সমান করে কেটে নিয়েছিলাম।
ধাপ ২:
এরপর ওই থার্মোকলের মাপ অনুযায়ী সবুজ রঙের আর্ট পেপার কেটে আঠা দিয়ে ভালোভাবে থার্মোকলের উপর লাগিয়ে দিয়েছিলাম। সেই ছবি তুলে রাখা হয়নি।
ধাপ ৩:
এরপর আরো একটি সাদা আর্ট পেপার মাফ করে কেটে নিয়েছিলাম । এরপর সেই আর্ট পেপারের ওপর রামধনুর সাতটা রঙের খোপ এঁকে নিয়ে রঙ করেছিলাম।
ধাপ ৪:
এরপর একে একে রামধনু সাতটা রং দিয়ে সেই খুব গুলো কে পূরণ করেছিলাম।
ধাপ ৫:
এরপর একটা সূর্য ও কিছু মেঘ সাদা আর্ট পেপারে এঁকে রং করে থার্মোকলের উপর মেরে দিয়েছিলাম। সেই সাথে এঁকে রাখা রামধনুটিও আঠা দিয়ে ভালোভাবে আটকে দিয়েছিলাম।
ধাপ ৬:
এরপর কিছু গাছ বানিয়ে নিয়েছিলাম আর পেপার কেটে।
ধাপ ৭:
এরপর কাগজ কেটে কিছু ঘাস ও ফুল বানিয়ে নিয়েছিলাম।
ধাপ ৮:
এরপর সমস্ত কিছু বানানো হয়ে গেলে প্রধান থার্মোকলের ওপরে একে একে সব জিনিস গুলো ভালোভাবে সেট করে নিতে হবে।
ধাপ ৯:
আমি ঝাঁটার কাঠির সাহায্যে গাছগুলো থার্মোকলের ওপর বসিয়েছিলাম। তার সাথে বানিয়ে রাখা ঘাস ও রংবেরঙের ফুলগুলো থার্মোকলের উপর সুন্দর হবে আঠা দিয়ে বসিয়ে দিয়েছিলাম।
ধাপ ১০:
পরবর্তীকালে সূর্যটা আমি চেঞ্জ করে দিয়েছিলাম। আর বড্ড ফাঁকা ফাঁকা লাগছিল বলে আরো দুটো অতিরিক্ত গাছ বানিয়ে বসিয়ে দিয়েছিলাম।
ফাইনাল লুক-----
তাহলে আজকে আমার ব্লগটি আমি এখানেই শেষ করছি। আগামীকাল আবার অন্য কোন ব্লগ নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হব। আপনারা সকলে ভালো থাকবেন আর অবশ্যই জানাবেন আমার এই রামধনুর মডেলটি 🌈🌈🌈আপনাদের কেমন লাগলো।