বাচ্চাদের অভাব বোধ শেখান
নমস্কার বন্ধুরা। আপনারা সকলে কেমন আছেন? আজকে চলে এসেছি আপনাদের সাথে নতুন একটি বিষয় নিয়ে গল্প করার জন্য। আশা করছি আপনাদের সকলের ভালো লাগবে।
বর্তমান যুগে আমরা অনেক বাবা মাকেই দেখি সন্তানদের অভাব বোধ শেখাতে চান না। বাচ্চারা যখন যা চায় তারা তাদেরকে সেই মুহূর্তেই সেগুলো দেওয়ার চেষ্টা করে। যদি তাদের কাছে প্রশ্ন করা হয় তারা কেন তাদের বাচ্চাকে অভাব বোধ শেখান না? তবে তারা উত্তর দেবে, "আমরা নিজেদের জীবনে অনেক অভাব দেখেছি তাই নিজের বাচ্চার ক্ষেত্রে সেই অভাবটা রাখতে চাই না।" /" দেওয়ার মতো সামর্থ্য আছে যখন তখন কিনে দেব না কেন?"
তবে কখনো কখনো সন্তান দের অবশ্যই অভাব বোধ শেখানো উচিত। আধুনিক যুগের বাবা মারা যেহেতু সন্তানদের চাহিদা মেটাতে কোনরকম কমতি রাখেন না তাই তাদের মধ্যে সংগ্রামী, সংযমী ও ধৈর্য্যশীলতার অভাব দেখতে পাওয়া যায়। বাচ্চাদের ছোট থেকেই কিছুটা অভাব বোধ শেখানো উচিত। তাদের বোঝানো উচিত, তারা যখন যা চাইবে তখনই তা পাবে না। তাদের এটাও বোঝানো উচিত যে সব সময় সব ইচ্ছা পূরণ করা সম্ভব নয়।
বাচ্চারা কোন কিছু কেনার জন্য বায়না করলে তৎক্ষণাৎ তাকে সেটা কিনে না দিয়ে বরং বাবা মায়ের উচিত সে যে জিনিসটা চাইছে সেটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা বিচার করে, জিনিসটা কিনে দেওয়া আগে কিছুটা সময় নেওয়া। এই বিলম্বের ফলে বাচ্চাদের মধ্যে সহনশীলতা ও ধৈর্য্যের মনোভাব গড়ে উঠবে, তারা পরবর্তী জীবনের জন্য প্রস্তুত হতে পারবে। আবার কখনো কখনো যদি বিভিন্ন ছোট ছোট কাজের মাধ্যমে অর্থাৎ বাচ্চা নিজের কাজের মাধ্যমেই বাবা মা যদি পুরস্কারের ব্যবস্থা করে, বাচ্চাকে নিজের পছন্দের জিনিস কিনে দেন সে ক্ষেত্রে তারা কাজের মূল্য বুঝবে, কিছু পাওয়ার আনন্দ অনুভব করবে।
আগামী কঠিন জীবনের সাথে সংগ্রাম করার জন্য বাচ্চাকে প্রস্তুত করার দায়িত্ব কিন্তু বাবা-মায়েরই। তাই তাদেরকে, বাচ্চা ছোট থাকতেই অনেক কিছু বিষয়ে সংযমী হতেই হবে। একজন বাবা মাই পারে তাদের সন্তানকে সঠিক পথে চালনা করতে, তাই তারা যদি তাদের বাচ্চাকে এই বিষয়গুলো শেখান তাহলে, তারা অবশ্যই শিখবে। বাচ্চাদের শেখানে উচিত কোনটা প্রয়োজনীয় বিষয় এবং কোনটা অপ্রয়োজনীয় বিষয় এবং কোন ক্ষেত্রে তার খরচ করা প্রয়োজন, সেইসাথে ছোটো থেকেই তাদেরকে টাকা জমানোর অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত।
ছোট থেকেই বাচ্চারা যখন যা চাইবে তখন সেটা সহজেই পেয়ে গেলে, পাওয়ার আনন্দটা ততখানি উপলব্ধি করতে পারবে না। তাছাড়া তাকে বোঝাতে হবে সে সব সময় যা চাইবে তা তাকে দেওয়া সম্ভব নয়। ভবিষ্যত জীবনে এমন অনেক পরিস্থিতি আসবে যেখানে সে যা চাইবে তা সে পাবে না। তাই ভবিষ্যৎ এর কথা ভেবে বাচ্চাকে অল্প অল্প ভাবে অভাব বোধ শেখান।
এবার আপনি বলবেন, "আমার সামর্থ্য আছে তবুও আমি দেব না?" এই প্রশ্নের উত্তরে আমি বলব--- আপনি অবশ্যই দেবেন, তবে সেই দেওয়ার মাঝে একটু সময় নেবেন। তৎক্ষণাৎ সেই জিনিসটা না দিয়ে আপনি কিছুটা বিলম্ব করুন। তাতে বাচ্চাদের মধ্যে সংযম, সহনশীলতা ও ধৈর্য্য বৃদ্ধি পাবে।
তবে অনেক সময় দেখা যায় বাচ্চাদেরকে অভাব বোধ শেখাতে গিয়ে তাদের মধ্যে হীনমন্যতার সৃষ্টি হয়,তারা অনেক বেশি জেদি হয়ে পড়ে। তাই অভাব বোধ শেখাতে হলে বাবা-মাকে অবশ্যই একটা পরিকল্পনা করতে হবে। এ বিষয়টা তারা কিভাবে পরিচালনা করবে তা তাদেরকে চিন্তা-ভাবনা করতে হবে, বাচ্চাদেরকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে শিক্ষা দিতে হবে। তাদের মধ্যে যাতে কোনরকম হীনমন্যতা বা রাগ সৃষ্টি না হয় সেদিকেও নজর দিতে হবে।
ছোটবেলায় বইতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটবেলার গল্প পড়েছিলাম। সেখান থেকে জেনেছিলাম, তারা জমিদার বংশের সন্তান হলেও তাদের ঠাকুরদা দ্বারকানাথ ঠাকুর তাদেরকে ছোট থেকেই অনেক বেশি অভাব বোধ শেখাতেন। সেখানে বলা ছিল, শীতের দিনে একটা জামার উপরে আর একটা জামাই ছিল তাদের শীতের পোশাক, তাছাড়া তাদের যে জুতো কিনে দেওয়া হতো সে জুতোগুলো যাতে তারা অনেকদিন পরতে পারে তাই পায়ের থেকে অনেক বড় সাইজের জুতো তাদের কিনে দেওয়া হতো। তাহলে ভাবুন তো একজন জমিদার বংশের ছেলেদের কি এরকম অভাবে থাকার কথা। তবে দ্বারকানাথ ঠাকুর বাচ্চাদের ভবিষ্যৎ জীবনের সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য বাড়িতে এরকম কিছু নিয়ম রেখেছিলেন।
উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বুঝতেই পারছি জীবনে কিছুটা অভাব বোধ শেখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আজ তাহলে এখানেই শেষ করছি। আগামীকাল আবার অন্য কোন লেখা নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হব। সকলে ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।
আমি আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ বাস্তবসম্মত একটা বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য বর্তমান সময়ে আমরা বাবা-মা বাচ্চাদের প্রতি ভালোবাসার মায়া এতটাই দেখিয়ে ফেলি যে তারা কোন কিছু চাওয়া মাত্রই তাদেরকে সেটা দিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করি এটা করা আসলে মোটেও ঠিক না।
প্রতিটা বিষয়ের উপর অবশ্যই বাচ্চাদেরকে গুরুত্ব দিতে হবে শুধুমাত্র কোন কিছু দেওয়ার বিষয় নয় আমার কাছে মনে হয় আপনার বাচ্চা যদি আপনার কাছে কোন কিছু চায় সেটা অবশ্যই দিতে তাকে কিছুটা সময় নিতে হবে।
আপনার বাচ্চার প্রতিটা ইচ্ছা কখনোই পূরণ করবে না এতে করে তার চাহিদা অনেক বেশি বৃদ্ধি পাবে সেই সাথে কাজের বিনিময়ে কোন কিছু প্রদান করা শেখাবেন অন্যের দুঃখের কথা কিভাবে শুনতে হয় সেই বিষয়ের উপর গুরুত্ব দিবেন সংযম শেখাবেন একটা বাচ্চা যখন সংযম করতে শেখে তখন কিন্তু সে নিজের দায়িত্ব কিছুটা হলেও নিজের কাঁধে নিতে পারে যাই হোক চমৎকার বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাল থাকবেন।