দুঃখের কারণ আত্মসুখের উপায়

in Incredible Indialast year (edited)

নমস্কার বন্ধুরা। সকলে কেমন আছেন। আশা করি সবাই খুব ভালো আছেন। ভালো থাকাটা যেমন নিজের ওপরে নির্ভর করে তেমন নির্ভর করে পারিপার্শ্বিক পরিবেশের উপরেও।

IMG_20250220_211201.jpg

ভালো থাকার আসল রহস্য:

অনেক সময় পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি যত খারাপই হোক না কেন নিজের অভ্যন্তরীণ প্রশান্তিতে আমরা এতটাই নিমজ্জিত থাকি যে সেই পরিস্থিতি কোনোভাবেই আমাদেরকে প্রভাবিত করতে পারে না। আবার অনেক সময় এমনও হয় যে পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি অনুকূল থাকা সত্ত্বেও নিজের অভ্যন্তরে এতটাই প্রতিকূলতা সৃষ্টি হয় যে ভালো থাকাটা সম্ভব হয় না। অর্থাৎ মনেই আমাদের সবকিছু। মন যদি ভালো থাকে তাহলে কোন ভাবেই আমরা খারাপ থাকতে পারিনা। আর মন যদি আমাদের বিপক্ষে হয়ে যায় তবে কোন ভালো পরিস্থিতি আমাদেরকে ভালো থাকতে দেবেনা। আত্মসুখ বা আত্ম তৃপ্তি লাভ করার জন্য আমাদের মনকে আমাদের সহায় হতে হবে। আমরা জানি আমাদের পঞ্চ ইন্দ্রিয় যার সাহায্যে আমরা বাইরের জগতের রূপ রস গন্ধ স্পর্শ ইত্যাদির জ্ঞান লাভ করে থাকি। এবং আমাদের ষড় ইন্দ্রিয় মন যার সাহায্যে আমরা আত্মজ্ঞান লাভ করে থাকি।

IMG_20250304_100541.jpg

আত্মজ্ঞান বা আত্মসুখ কি?

আত্মজ্ঞান বা আত্মসুখ হল মানুষের সেই পরম পাওয়া যার খোঁজ একবার মানুষ পেলে এই বহির্জগতের কোন কিছু দ্বারাই সে আর প্রভাবিত হবে না। অর্থাৎ আত্মজ্ঞান লাভ-ই মানুষের পরমপ্রাপ্তি। আর এই মুক্তি লাভের জন্য আমাদের দুঃখের মূল কারণ কে অনুসন্ধান করতে হবে।

দুঃখের কারণ:

আমরা সকলেই সংসারী মানুষ আর এই সংসার দুঃখ-কষ্ট , রোগ-শোক,জন্ম-মৃত্যু জর্জরিত। এই সংসারে রয়েছে ত্রিবিধ দুঃখ।আধ্যাত্মিক দুঃখ অর্থাৎ শারীরিক ও মানসিক দুঃখই হল আধ্যাত্মিক দুঃখ। আধিভৌতিক দুঃখ বলতে বোঝায় বিভিন্ন কিট পতঙ্গ দ্বারা উৎপন্ন দুঃখ যেমন সর্প দংশনে মৃত্যু।আধিদৈবিক দুঃখ যেমন অতি বৃষ্টি অনাবৃষ্টি ভূমিকম্প অর্থাৎ প্রকৃতি দ্বারা সৃষ্ট দুঃখ।
যাকে আমরা সুখ বলে মনে করি তা আসলে আমাদের দুঃখেরই নামান্তর। কারণ সুখের সঙ্গে দুঃখ সর্বদা মিশে থাকে। আর কেবল সুখ বলে কিছুই নেই যাকে আমরা সুখ বলে অনুভব করি তা আসলে অবিদাময় দুঃখ। এই দুঃখ সৃষ্টির মূল কারণ হলো আসক্তি।

IMG_20250304_100441.jpg

***মুক্তি লাভের উপায়:***

মুক্তির উপায় বলতে মানুষের আসক্তির বিনাশ কেউ বোঝানো হয়। এই আসক্তি না থাকলে মানুষের মধ্যে কোন কিছু পাওয়ার প্রবৃত্তি জন্মায় না। আর যখন কিছু পাওয়ার প্রবৃত্তি যখন না জন্মায় তখন তার মধ্যে তা না পাওয়ার কষ্ট সৃষ্টি হয় না। আমাদের প্রতিটি কর্মের মধ্যে রয়েছে কিছু আকাঙ্ক্ষা আর এই আকাঙ্ক্ষা পূর্তি না হলে আমরা দুঃখের নিমন্ত্রিত হই। আমাদের জীবনে এই ত্রিবিধ দুঃখ তার তান্ডব দেখায়।এই ত্রিবিধ দুঃখ থেকে চিরতরে নিবৃতিই হলো মুক্তি লাভ অর্থাৎ পরম সুখ বা পরমআনন্দ লাভ‌। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন:জ্ঞেনেন চ অপবর্গ অর্থাৎ কেবল বিবেক জ্ঞানই দুঃখ নিবৃতি সম্ভব। মানুষের বিবেক জ্ঞান হলে সে পুরুষ বা আত্মার উপলব্ধি করে এবং পরম সুখের বা মুক্তির আস্বাদন করে থাকে। তখন তার এই জগতের থেকে আর কোন দুঃখ পাওয়ার শঙ্কা থাকে না।

Sort:  
Loading...
 last year 

আমাদের জীবনে ভালো থাকা এবং খারাপ থাকার বিষয়গুলো আপনি চমৎকার ভাবে তুলে ধরেছেন আপনি ঠিকই বলেছেন নিজের আত্মার সুখের জন্য মানুষ অনেক কিছু করে কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় আমাদের পরিস্থিতি যেমন হোক না কেন আবার নিজেদেরকে ভালো রাখার চেষ্টা করি।

তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় আমরা যখন মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ি তখন পরিস্থিতি যত ভালো থাকুক না কেন আমরা নিজেদেরকে ঠিক রাখতে পারি না তবে পরিস্থিতি যেমন হোক না কেন অবশ্যই মানসিকভাবে কখনো ভেঙে পড়বেন না তাহলে আপনি ভেতর থেকে একেবারেই ভেঙে যাবেন অসংখ্য ধন্যবাদ চমৎকার বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য ভালো থাকবেন।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.082
BTC 62215.68
ETH 1652.59
USDT 1.00
SBD 0.42