পুচকু সোনার প্রথম প্রতিযোগিতা
নমস্কার বন্ধুরা। আজ আপনাদের সঙ্গে মাত্র এক বছরের পুচকু সোনার যেমন খুশি সাজো প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের কিছু মুহূর্ত।
আজ ২৩ শে জানুয়ারি উপলক্ষে মিশনেরও কিছু মুহূর্ত আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নেব। নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর জন্মদিন উপলক্ষে আজ কৃষ্ণনগর রামকৃষ্ণ মিশনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও শিশুদের এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের কিছু মুহূর্ত।সব মিলে আজ সারাদিন বেশ ব্যস্ত তাতেই কেটেছে। প্রথমেই সকাল বেলা রোজকার মতো বাচ্চাদের ব্যায়াম প্রার্থনা ও তারপর টিফিন করানো হয়। সকাল আটটার সময় বাচ্চাদের নিয়ে পতাকা উত্তোলন মিশনের সম্পাদক মহারাজ।
বাচ্চারা জাতীয় সংগীত ও ধনধান্য পুষ্প ভরা গান গাই তারপর মহারাজ আজকের দিনটির মাহাত্বের কথা সকলের কাছে উপস্থাপনা করেন।
আজকে আরও একটি উপরি পাওনা ছিল আমাদের পুচকু সোনা প্রথম প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে প্রাইজ পেয়েছে। সবে ওর এক বছর বয়স। ওর দাদা যেহেতু খেলায় নাম দিয়েছিল তাই ওর মায়ের ইচ্ছা হয়েছিল যে মেয়েটাও খেলায় যদি নাম দিতে পারে। সেজন্য আজ আমার মেঝো বোন ও ছোট বোন মিলে ওর জন্য যেমন খুশি সাজাতে সারা দুপুর মিলে ওর পোশাক তৈরি করে।
ও আজ একটি গাছের ভূমিকায় পালন করেছিল। ওর পিঠে লাগানো ছিল "আমি একটি গাছ"এই কথাটি। ওর পোশাকটি তৈরি করা হয়েছিল পাতা দিয়ে। ও এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে এত আনন্দ পেয়েছে যে ওখান থেকে বাড়ি আসতে চাইছিল না। আরো যারা প্রতিযোগী ছিল তাদের পিছন পিছন শুধু ঘুরে ঘুরে বেড়াচ্ছিল।
যেহেতু ও বাবা ,মা ,দাদা ছাড়া অন্য কথা বলতে পারেনা তাই যেমন খুশি সাজো প্রতিযোগিতায় ও নিজেকে শব্দের মধ্যে দিয়ে প্রকাশ করতে না পারলেও প্রতিযোগিতায় ওর অংশগ্রহণ দেখে সমগ্র দর্শক ও বিচারক মন্ডলী এত খুশি হয়েছে যে ওকে চতুর্থ স্থানে সম্মানিত করেন। এবং ওকে একটি উপহারও প্রদান করেন।
আজ ওর এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ দেখে আমার ছোটবেলার কথা খুব মনে পড়ে যাচ্ছে। ছোটবেলায় আমি যে কোন জায়গায় খেলা হোক না কেন সেখানে নাম দিয়ে প্রাইজ না নিয়ে বাড়ি আসতাম না। আমার খেলার প্রতি এত আগ্রহ ছিল যে যে করেই হোক আমি পয়সা জোগাড় করে খেলায় নাম দিতাম। এবং খেলার শেষে যখন উপহারগুলো নিয়ে বাড়ি আসতাম তখন বাবার কাছে আবদার করে বলতাম এতগুলো প্রাইস এনে দিয়েছি, আজকে আমাকে গরম গরম রসগোল্লা খাওয়াতে হবে।সত্যি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যেন সবকিছু পরিবর্তন হয়ে যায়। এবং অতীতগুলো যেন বর্তমানের সঙ্গে এমন ভাবে জড়িয়ে থাকে যে সেগুলিকে জড়িয়ে ধরে বেঁচে থাকার সুখ পাওয়া যায়।
এই অল্প বয়সে সেটা প্রতিভাটা সবার সামনে তুলে ধরতে পেরেছে এর চাইতে বড় পাওয়া হয়তোবা আর কিছু হতেই পারে না আপনারা তাকে যেমন খুশি তেমন সাজের মধ্যে অংশগ্রহণ করতে সাহায্য করেছেন যেটা দেখে বেশ ভালো লাগলো আসলে এ ধরনের অনুষ্ঠানগুলো একটু অন্যরকম ভাবেই পালন করা হয় আপনারা ঠিক সেভাবেই পালন করেছেন অসংখ্য ধন্যবাদ পুচকে শোনার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা রইল যেন সে বড় হয়ে অনেক কিছু হতে পারে।