সৃষ্টিকর্তার কৃপায় বাবা সুস্থ হয়ে বাসায় এসেছেন
| Made by Canva |
Hello,
Everyone,
দীর্ঘ দিন থেকে আমি কোন পোস্ট আপনাদের সাথে শেয়ার করতে পারেনি, তার প্রধান একটা কারণ ছিল । আমার বাবা খুবই অসুস্থ ছিলেন । আপনারা যারা আমার পোস্টগুলো পড়ে থাকেন তারা অবশ্যই জেনে থাকবেন যে, বাবা চিকিৎসার জন্য ঢাকাতে আমার বাসায় এসেছেন ।
জানিনা, সৃষ্টিকর্তা ভালো মানুষদের কেন বারবার পরীক্ষা নিচ্ছে। শুনেছি, চাকরিজীবী ব্যক্তি অবসরে আসার পরে ,তার শরীরে নানা অসুখ বাসা বাঁধে। আমার বাবা ২০১৫ সালে অবসরে এসেছেন । তখনও তিনি অনেক ভালো ছিলেন ,সুস্থ ছিলেন ।২০২৩ সাল থেকে বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েন।
সেই থেকে একটার পর একটা অসুখে আক্রান্ত হচ্ছে। কিছুদিন ভালো থাকে আবারও অসুস্থ হয়ে পড়ে । অনেক আশা নিয়ে এসেছিল রাজধানী ঢাকা শহরে। এখান থেকে ডাক্তার দেখিয়ে সুস্থ হবে ।
প্রথমে চোখের ডাক্তার দেখানো হলো ।চোখ অপারেশন করা হলো, তা আপনারা জানেন। তারপর দাঁতের সমস্যা হল,দাঁতের ডাক্তারও দেখানো হলো। তারপরে কিডনির সমস্যার জন্য ডাক্তার দেখানো হলো, ভালো হয়ে বাড়িতেও গিয়েছিলো। কিন্তু বাড়িতে যাবার এক সপ্তাহ পরে বাবা আবার অসুস্থ হয়ে পড়ে।
বাবা-মা আবার ঢাকা আসলেন।আবার বাবাকে দাঁতের ডাক্তার দেখানো শুরু হলো। তিনটি দাঁতে ক্যাপ বসানো হলো । নতুন করে আবার মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখালাম । একদিন পরে বাবার ১০২” জ্বর হলো, পেট খারাপ হলো এবং বমি করছে।বাবার এইসব দেখে সন্দেহ হলো আবার ডেঙ্গু হলো নাতো!রক্ত পরীক্ষা করার পরে জানতে পারলাম, বাবার ডেঙ্গু পজেটিভ এসেছে। বাবার এমন অবস্থা দেখে মা অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
এখন বাবার ডায়াবেটিস অনেক বেশি তাই বাবাকে বাসায় রাখা নিরাপদ মনে করছি না । সঙ্গে সঙ্গে বাবাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হল। আমি সবার সাথে আলোচনা করি, আমি দাদার সাথে আলাপ করে ”উত্তরা ক্রিসেন্ট হসপিটালে” বাবাকে ভর্তি করিয়েছি।
ছোট বোনের ছেলে খুব ছোট,মা ততটা সুস্থ নয় তাই বাবার সাথে কে থাকবে, সেই নিয়ে চিন্তায় পরলাম। সব দিক বিবেচনা করে আমাকে থাকতে হল ।ছেলেদের থাকতে নিশেদ করেছি কারন ওদের দিনের বেলা অফিস আছে । তবে ওরা রাত ১১টা পর্যন্ত ছিল।
রাতের বেলা আমি একা ছিলাম এবং দিনের বেলা মা থাকেছে । আজ আমাকে খুব অসহায় মনে হচ্ছে। বাবা-মা কত কষ্ট করে আমাদেরকে বড় করে। সুস্থ মানুষটি চোখের সামনে একটু একটু করে অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে । বাবার অসুস্থতা আমাকে দূর্বল করে দিয়েছে ।বাবাকে কখনো এভাবে ভেঙে পড়তে দেখিনি । কিছুক্ষণ পরপর নার্স দিদি এসে বাবাকে দেখে যাচ্ছেন। দায়িত্বরত ডাক্তার এসে বাবাকে দেখে গিয়েছেন এবং অনেক পরীক্ষা দিয়েছেন ।তাদের চিকিৎষা ব্যবস্থা অনেক ভালো ।প্রতিটি রোগীর প্রতি অনেক যন্তশীল।
সারারাত বাবার সাথে জেগে থাকা ,আবার সকাল ৭ টায় মেয়েকে নিয়ে কলেজে যাওয়া ।এভাবেই কঠিন পাঁচটি দিন কিভাবে কেটেছে আমার কিছু বলতে পারছি না ।রাত যেন কাটছেনা ,মনে হচ্ছে যেন ঘড়ির কাঁটা ঘুরছে না। রাত তিনটার সময় বসে আছি, বাবার স্যালাইন শেষ হলে আবার নতুন স্যালাইন দিবেন ।
সৃষ্টিকর্তা সকল বাবা মাকে সুস্থ রাখুক, কারণ তারা সারা জীবনে আমাদের জন্য অনেক কষ্ট করেছেন। শেষ বয়সে এসে তারা ভালো থাকুক, সুস্থ থাকুক, এটাই সন্তানের কামনা। সৃষ্টিকর্তার অশেষ কৃপায় দুই দিন পরে বাবার "প্লাটিলেট" বাড়তে শুরু করেছে ।
বাবা নিজের হাত দিয়ে কিছুই খেতে পারছে না তাকে খাইয়ে দিতে হচ্ছে ।দাদা ছুটি নিয়ে এসেছে । আমরা তিন ভাইবোন চেষ্টা করছি বাবা-মা ভালো থাকুক ও সুস্থ থাকুক ।আর্মি বাবু এবং ছোট দুলাভাই (নয়ন) অনেক সাহায্য করেছেন ।
এভাবে কেটে গেলো ৫টি দিন।বাবা একটু সুস্থ হলেন এবং রির্পোট গুলো ভালো এসেছে তাই ডাক্তার সাহেব বাবাকে ছেড়ে দিলেন । এই ৫দিনে কেবিন ভাড়া, মেডিসিন সহ সব কিছু মিলিয়ে বিল এসেছে ৭২,৮৫৫টাকা (BDT)।বাবাকে নিয়ে আমার বাসায় এসেছি ।
এভাবে কেটে যাচ্ছে আমার দিন গুলো । সকলে আমার বাবা জন্য আর্শীবাদ ও দোয়া করবেন। আজ এখনে বিদায় নিচ্ছি ।