স্কুলের ছোট ভাইদের সাথে ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজন
**১৫ই ডিসেম্বর, রোজ শুক্রবার , সাপ্তাহিক ছুটি। মানে বলতে পারেন সাপ্তাহিক ঈদ। চাকুরীজীবি মানুষের কাছে এই দিনটি ঈদের মতোই। আমিও ব্যতিক্রম নই। ১৫ দিন আগে থেকে এই শুক্রবার নিয়ে প্ল্যান করাই ছিল। সেই প্ল্যান অনু্যায়ী দারুণ একটি ক্রিকেট ম্যাচ খেলায় অংশ নিয়েছিলাম। সেই অভিজ্ঞতাই এখন শেয়ার করবো।
আমাদের প্রাক্তন ছাত্রদের নিয়ে ক্রিকেট ম্যাচের আয়োজন |
|---|
সকাল সকাল ঘুম ভাঙলো ছোট ভাইয়ের ফোন কল পেয়ে। আজকে আমাদের স্কুল লাইফের প্রাক্তন ছাত্রদের নিয়ে ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজন করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জহুরুল হক হলের খেলার মাঠে সকাল ৯ টায় খেলা শুরু হবে। আমি তারাতারি রেডি হয়ে বন্ধু হাবিবকে নিয়ে বাইকে রওনা দিলাম খেলার উদ্দেশ্যে।
পথে যেতে রিংরোডের পাম্প থেকে তেল নিয়ে আমরা হাতিরঝিল হয়ে শাহবাগ, এর পর পলাশি হয়ে জহুরুল হক মাঠে চলে গেলাম। সেখানে বাইক রেখে খেলতে যাবো হলের নেতারা এসে বাগড়া দিলো। তারাও খেলবে। বাধ্য হয়ে সেখান থেকে সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের মাঠে চলে গেলাম।
আমি শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর হাউসের প্রতিনিধিত্ব করলাম, এবং ছোট ভাই রিপন শাহাদাৎ উল্লাহ হাউজের। টস ভাগ্য আমার পক্ষে ছিল। আমি টসে জিতে ফিল্ডিং এর সিদ্ধান্ত নিলাম। কারণ সকাল বেলা ডিও ফ্যাক্টরের ব্যাপার ছিল। পিচ শিশির ভেজা ছিল। বল উঠছিল না। তাই ফিল্ডিং নেয়া।
বিপক্ষ টিম ভালোই শুরু করেছিলো। মাঝে আমাদের মেইন স্ট্রাইক বোলার এক ওভারে বেশি রান দিলে সবাই মিলে আমাকে বোলিং এ পাঠালো। আমি ৩-৪ বছর পর বল হাতে নিলাম। প্রথম বলেই ছক্কা খেলাম। ভেবেছিলাম এত দিন পর বল করলে এমন হবে। তাই অধিনায়ক হয়েও বল করতে চাইনি। পরের বলটি স্লোয়ার দিলাম। ব্যাটসমান ক্যাচ দিয়ে কিপারের হাতে ধরা পড়লো। আমিও জানে পানি পেলাম। প্রথম বলে ছক্কা খেয়ে একটু ভয়ে ছিলাম। পরের ৩ টা বল ভালো করলেও শেষ বলে আবারো ছক্কা খেয়ে ওভার শেষ করলাম। ওভারে ১২ রান দিলেও প্রতিপক্ষের সব থেকে ভালো ব্যাটারকে সাজঘরে ফিরানোয় আবারো আমাকে বোলিং করতে হলো। ৩ ওভার বল করে দুই উইকেট পেলেও রান দিলাম ৩৪।
ফোন থেকে স্ক্রিনশট নেয়া |
|---|
বোলিং করার সময় থেকেই হাতে প্রচন্ড ব্যাথা অনুভব করছিলাম। মনে হচ্ছে কোথাও টান পড়েছে। সেই ব্যাথা নিয়েই বাকি সময় ফিল্ডিং করে যখন প্রথম ইনিংস শেষ হলো তখন বিরতি সময়ে বুঝলাম আমার দিয়ে আর খেলা হবে না। প্রচন্ড ব্যাথা বাড়ছে তো বাড়ছেই।
আমাদের ব্যাটার রা ভালো খেল্লো। শেষ ২ ওভারে ৩১ রানের সমীকরণ এসে ঠেকলো শেষ ৪ বলে ৫ রানে। কিন্তু এই সময় আমাদের মেইন ব্যাটার তাসকিন আউট হলে আমাকে সবাই ব্যাটিং এ নামতে বললো। আমি এদিকে ব্যাথায় নড়তেও পারছিনা। তাই আমাদের হৃদয় কে পাঠানো হলো। কিন্তু সে প্রতিপক্ষ দলের বোলার আসিফুলের স্লোয়ার বুঝতে না পেরে টানা ৪ টা বল ডট মারলো। দু:খজনক ভাবে আমরা ৪ রানে ম্যাচ হারলাম।
আমাদের এলামনাই এসোসিয়েশন এর সাবেক প্রেসিডেন্ট জাহিদ ভাই শাহাদাৎ উল্লাহ হলে ছিলেন। তাই ম্যাচ জিতে উনি খুব খুশি। যদিও উনি দেরিতে আসায় ম্যাচ খেলতে পারেন নি।
সবাই মিলে আমাকে খেপাতে লাগলো। কি আর করার সব হজম করে আমরা খেলা শেষে আড্ডা দিলাম।
অনেক দিন পর জুনিয়র-সিনিয়র মিলে অনেক ভালো একটা ক্রিকেট ম্যাচ হলো। খেলার পরে সবাই মিলে ভালো আড্ডা জমলো। সব মিলিয়ে খুব সুন্দর কিছু মুহূর্ত পেলাম।
খেলা শেষে জুম্মার নামাজ আদায় করে আমি ও আমার বন্ধু হাবিব মিলে ১০০ ফিট বেরাইদ নতুন ব্রীজ ঘুরে বাসায় চলে এলাম।
বন্ধু হাবিবের সাথে ১০০ ফিট ব্রিজে |
|---|
মানুষ যতই বড়হোক স্কুল লাইফের স্মৃতি গুলো ভুলতে পারেনা। স্কুলের সিনিয়র জুনিয়র মিলে দারুণ এক ভ্রাতৃত্বের বন্ধন তৈরি হয়। এই বন্ধন গুলোকে অটুট রাখতে মাঝে মাঝে এমন আয়োজন সবারই করা উচিৎ। সব মিলিয়ে অনেক ভালো একটা দিন কাটালাম
খেলাধুলা আমাদের মধ্যে থেকে একদম হারিয়ে গেছে। আগে আমরা খেলার আয়োজন করলে এত মানুষ আসছে যে সবাইকেই খেলতে নেওয়া পসিবল হতো না কিন্তু এখন খেলার জন্য মানুষ খুঁজে পাওয়া যায় না। আপনি ছোট ভাইদের সাথে ক্রিকেট খেলার আয়োজন করছেন শুনে অনেক ভালো লাগলো। আমাদের সাথে এতো সুন্দর একটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন।
এখন খেলতে গেলে প্লেয়ার পাওয়া যায় না। হাতে পায়ে ধরে আনা লাগে। সবাই এখন মোবাইলে ব্যস্ত থাকে।
আপনার আজকে সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের মাঠে খেলতে গিয়েছিলেন, আপনি তিন ওভারে ৩৪ রান দিয়েছেন কিন্তু দুইটি ব্যাটসম্যান কে উইকেট ফেলেছেন।
আপনার হাতে ব্যথা না হলে মাঠে নামতেন এবং বিজয়ের নিশানা হয়তো নিয়েই আসতে পারতেন, কিন্তু কি আর করার।
আমরা আজকে কংকর মাঠে ক্রিকেট খেলতে গিয়েছিলাম, আমাদের ক্লাসের সাথে আমাদের নিচের ক্লাসের খেলা ছিল, তবে আজকের খেলায় আমরা উইন হয়েছি।
ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন, আপনার পরবর্তী আকর্ষণীর লেখার অপেক্ষায় রইলাম।
যাক আওনারা জিতেছেন অন্তত। ক্লোস ম্যাচ হেরে গিয়ে মন খারাপ হয়ে গিয়েছিল।
প্রায় তিন-চার বছর পর বল করেও যে দুটো উইকেট পেলেন সেটাই বড় কথা। আর এমন কিছু বেশি রান দেন নি। তিন ওভারে মাত্র ৩৪ রান দিয়েছেন। এটা অবশ্যই দুঃখজনক ব্যাপার যে হাতে খুব ব্যথা অনুভব করায় আপনি ব্যাট করতে নামতে পারেননি। আসলে এত বছর পর বল করেছিলেন বলে হয়তো হাতের কোনো শিরায় টান ধরে থাকতে পারে। একটু ওয়ার্মআপ যদি করে নিতে পারতেন ম্যাচ খেলার আগে তাহলে হয়তো এই সমস্যাটা হতো না। আপনারা মাত্র চার রানে ম্যাচটা হারলেও খুবই ক্লোজ ম্যাচ হয়েছিল আর হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছিল বোঝা যাচ্ছে।
সেই ব্যাথা অনেকটা সেড়ে ঊঠেছে। আমিও ভাবছি, সরাসরি বল করতে গিয়েই এমন হয়েছে, আগে একটু ওয়ারম করলেই এমন হতো না।
শুক্রবার ছুটির দিনে একটি ক্রিকেট খেলার আয়োজন করেছেন জেনে খুবই ভালো লাগলো ৷ আপনার টিম ও ছিল সেই টিমে আপনি অধিনায়ক ছিলেন ৷ তিন ওভার বল করে ৩৪ রান দিয়েছেন উইকেট ২ টা নিয়েছেন ৷ কিন্তু আপনারা চার রানে হেরে গেছেন ৷ আর খেলার মধ্যে হার জিত থাকবেই ৷ বড় কথা হলো আপনারা খেলায় অনেক আনন্দ উপভোগ করেছেন ৷
ধন্যবাদ আপনাকে এত সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের মাঝে তুলে ধরার জন্য ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন ৷
আপ্নাকেও ধন্যবাদ, ব্যাট করতে পারলে হয়তো ম্যাচটা আমরাই জিততাম
15 দিন আগে প্লান করে রেখেছেন ছুটি দিন কি করবেন। তাই শুক্রবার দিন ক্রিকেট খেলার আয়োজন করেছেন। এবং আপনার টিমের আপনি অধিনায়ক ছিলেন। ৩ ওভারে মাত্র ৩৪ রান করেছেন। এবং আপনারা চার রানি হেরেছেন। আসলে আমি যেটা মনে করি হার-জিত কোন ব্যাপার না খেলার ভিতরে যে আনন্দটা পাওয়া যায় ওটাই অনেক বড়।
থ্যাঙ্ক ইউ ক্রিকেট খেলার আনন্দময় মুহূর্তগুলো আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য.
হার জিতের থেকে অনেক দিন পর ছোট ভাই বন্ধুদের নিয়ে খেলতে পেরেছি এটাই বড় পাওয়া
হার জিতের কোন ব্যাপার না। আনন্দ দিয়ে যে ছোট ভাই বন্ধুদের নিয়ে খেলা করেছেন এটি বড় একটা আনন্দ।
থ্যাঙ্ক ইউ আমার কমেন্টে আবার একটি আপনার মূল্যবান রিপিট করার জন্য।
Apnakeo dhonnobad apu
ছুটির দিনে আপনার প্রিয় ছোট বড় ভাইদের কিছুটা আনন্দের সময় কাটিয়েছেন। সাথে ক্রিকেট খেলেছেন । খেলা শেষে আপনারা অনেকক্ষণ আড্ডা দিয়েছেন ।
সত্যি ছাত্র জীবনের এই মুহূর্তটা আর ফিরে পাওয়া যায় না । তারপরও আপনি অনেক ভাগ্যবান । কর্ম ব্যস্ত থাকার সত্বেও আপনি এখনো তাদের সাথে কিছুটা সময় দিতে পারেন।
যেহেতু একই শহরে আপনারা থাকেন তাই ছুটির দিনে আপনারা সবাই একত্রিত হতে পারেন । খেলায় হার-জিত থাকবেই তো এ নিয়ে মন খারাপ করার কিছুই হয়নি।
যেহেতু আপনার হাতে ব্যথা থাকার কারণে ব্যাটিং করতে পারেননি। আশা করি সামনের বার আপনারা জিততে পারবেন।
সুন্দর একটি দিনলিপি আমাদের সাথে শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ । নতুন পোষ্টের জন্য অপেক্ষায় রইলাম।
ধন্যবাদ আপু, একদম ই সত্য যে ঢাকায় চাইলেও খেলাধূলার আউযোগ থাকে না। তাই ঘটা করে আয়োজন করে খেলতে হয়।
শুধু একটু ভালই লাগলো যে ১৫ দিন আগে থেকেই প্লান করে থাকেন ছুটির দিনে কি করবেন।।
আজ ছাত্রদের নিয়ে ক্রিকেট খেলার আয়োজন করেছেন তাই সকালেই চলে যান গন্তব্যে। টসে আপনি জেতে ফিলিং করা সিদ্ধান্ত নেন।
খেলার সমস্ত কিছু খুব সুন্দর ভাবে উল্লেখ করেছেন কিন্তু আপনারা জিতে জিতেই ৪ রানে হেরে গেছেন। খেলায় হার-জিত থাকবে এটাই স্বাভাবিক কিন্তু আনন্দটা হচ্ছে সবার আগে।।
বেশ ভালো লাগলো আপনার পোস্ট পড়ে।
ধন্যবাদ ভাই। মাঝে মাঝে প্ল্যান করেও খেলা হয় না। তবে এবার হলো।
আসলে ১৬ই ডিসেম্বরে বিজয় দিবস উপলক্ষে, অনেক জায়গায় টিকেট খেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে। বিশেষ করে আমাদের স্কুলেও ক্রিকেট খেলার আয়োজন করা হয়েছে। কিন্তু নিজের ব্যস্ততার কারণে সম্পূর্ণভাবে বিষয়টা বিস্তারিত জানতে পারিনি। আজকে আপনি আমাদের সাথে শেয়ার করেছেন আপনারা দীর্ঘ ১৫ দিন আগে, এই খেলার একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
অবশেষে খেলার সম্পূর্ণ হয়েছে। এবং আপনাদের শাহাদাত উল্লাস হল ম্যাচ জিতে গিয়েছে। এবং অনেক বেশি আনন্দ উল্লাস করেছে ১০০ ফিট ব্রিজে আপনি এবং আপনার বন্ধু খানিকটা সময় আনন্দে কাটিয়েছেন। আসলে স্কুল জীবনের কথা কেউ কখনো ভুলে থাকতে পারে না। স্কুল জীবনের স্মৃতি মনে পড়ে। অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে, খেলার আনন্দঘন মুহূর্তটা আমাদের সাথে উপস্থাপন করার জন্য।
একদম ই সত্য যে স্কুল লাওফ জীবনের সেরা সময়। চাইলেও ভুলা যায় না। ধন্যবাদ আপু সুন্দর মন্তব্যের জন্যে
ভাই শুনে একটু দুঃখ পেলাম যে আপনারা খেলায় হেরে গেছেন। কিন্তু দিনশেষে আমরা সবাই ভাই ভাই। খেলায় হার জিত থাকবেই। হার জিত না থাকলে কখনোই খেলা হতো না। তবে এতদিন পর খেলতে নেমে আপনি তিন ওভার বল করেছেন এটাই তো অনেক। আপনি একটু ইনজুরডও হয়েছেন। তবে ব্যপারনা। আনন্দটাই হলো মূল কথা।
যাইহোক ভাই এর পরবর্তীতে খেললে দোয়া করি আপনারা জিতবেন। আপনার আজকের খেলার অনুভূতি পড়ে অনেক ভালো লাগলো। ভালো থাকবেন সবসময়।
খেলার আনন্দটাই মেইন। অনেক দিন পর এলাকার ছোট ভাইদের সাথে ম্যাচ খেলে অনেক ভালো লেগেছে। সামনে আরো এমন ম্যাচের আয়োজন করবো।