শৈশবের হারানো স্মৃতি খুজে ফিরি
হ্যালো বন্ধুরা,
আমাদের সবার শৈশবের কিছু স্মৃতি থাকে যা প্রায়শই মনকে নাড়া দেয়। এসব কথা মনে পড়লে স্মৃতি কাতর হয় ঊঠি। আর শৈশবের স্মৃতি গুলো কেন জানি না একই রকমের হয়। অনেকের সাথেই মিল পাওয়া যায়। আজকে আমি তেমনি একটি স্মৃতি আপনাদের সাথে শেয়ার করতে যাচ্ছি।
মেহেদি রাঙা হাত |
|---|
ছোটবেলায় যেকোন উৎসব হোক সেটা বিয়ে,ঈদ, আকীকা বা অন্য যে কোন কিছুকে কেন্দ্র করে জমে ঊঠতো মেহেদি মাখার আসর। আমরা যারা ১৯৮০-১৯৯০ সালের কিড ছিলাম তারা আমার মনে হয় সবাই কমবেশি এই মেহেদি মাখার আসরের সদস্য ছিলাম।
আমার এখনো মনে আছে, আমাদের গ্রামের বাড়ি থেকে টিউওবওয়েল এর পাড় খানিকটা দূরে ছিল। আগে গ্রামের বাড়ি গুলো এমনই ছিল। তো ঘর থেকে টিউবওয়েলের পাড় যেতে মাঝামাঝি ছিল একটা বড় মেহেদি গাছ। আমার দাদা বাড়িতে যে কোন উৎসব লাগলে যত মেহেদি লাগতো তার সবটুকু এই গাছ থেকেই সংগ্রহ করা হতো। যার কারণে মেহেদি মাখার আসরটাও আমাদের বাসাতেই বসতো।
মেহেদি দিয়ে তা রোদে শুকানোর জন্যে অপেক্ষা |
|---|
আমি, আমার কাজিন রাকিব ও আমার এক ভাগ্নে নাম মেজবাহ এই তিনজনের দায়িত্ব পড়তো গাছ থেকে পাতা সংগ্রহের। আমাদের বাসায় ছাদ ছিল কিন্তু ছাদে ওঠার কোন সিড়ি ছিলনা। মেহেদী গাছ ঠেকেছিল ছাদের উপর। নিচের ডালে কখনোই পাতা থাকতো না কারণ সবাই তা ছিড়ে নিয়ে যেত। আমরা সীমানা প্রাচীর বেয়ে আগে একটা মেহগনি গাছে ঊঠতাম। এর পর সেই গাছ বেয়ে ছাদে। সেখানে ঊঠে মেহেদি পাতা ছিড়তাম।
মেহেদী পাতা ছিড়া অব্দি আমাদের কাজ। এবার তা বাটা থেকে শুরু করে হাতে পড়িয়ে দেয়ার কাজ ছিল আমার বোন ও এক আন্টির উপর। বোন আমাদের আঙুলের নখে মেহেদি পড়িয়ে দিতো, আর আন্টি ডিজাইন করে দিত হাতের তালুতে। এই ডিজাইন করা হতো আবার বিশেষ প্রকৃয়ায়। ঝাড়ুর সবথেকে চিকন কাঠিতে মেহেদি নিয়ে তা হাতের তালুতে কখনো ছোট ছোট গোল গোল ডিজাইন,কখনো রম্বস আকৃতির বা কখনো গাছের লতা পাতা সদৃশ ডিজাইন ফুটিয়ে তোলা হতো।
অনেক সময় লাগতো এক একজনের হাতে মেহেদি পড়াতে। আমরা বাচ্চারা সবাই সিরিয়াল ধরে মেহেদি পড়িয়ে নিতাম। মেহেদি পড়ানোর ফাকে ফাকে আন্টি ভূতের গল্প বলে আমাদের চুপ করিয়ে রাখতো। আমাদের মেহেদি মাখা হয়ে গেলে যদি মেহেদি অবশিষ্ট থাকতো তাহলে সেগুলো আমার বাবা এবং বড়কাকা তাদের মাথার চুল দাড়িতে দিতো।
আহা এই সব দিন এখন শুধুই স্মৃতি। এখন আর আমি সেই বাচ্চাটি নেই। এখন নিজেই বাবা হয়ে গিয়েছি। আর হাতের মেহেদি এখন আমি মাথার পাকা চুল গুলোতে দেয়া শুরু করেছি।
গত সপ্তাহে ভাবলাম আমার মেয়েকেও এই গাছের মেহেদি পড়াবো। আমি চাই যতটুকু পারি আমাদের শৈশবের স্মৃতি গুলোর সাথে তার ও একটু পরিচয় থাকুক।
আমি মেহেদি পাতা বাজার থেকে কিনে এনে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে নিয়েছিলাম। বাটনা বাসায় নেই। বাটনায় পিষতে পারলে আরো ভালো হতো।
আমার মেয়ে জীবনে এবারই প্রথম গাছের মেহেদি পড়ছে। সে খুব ই খুশি। তার ছোট ছোট আঙুলে টোপা টোপা করে মেহেদি পড়িয়ে দিলাম। যেহেতু কাঠি দিয়ে ডিজাইন করতে পারি না তাই আমাদের সময়ের জাতীয় ডিজাইন হাতের তালুতে গোল করে মেহেদি পড়িয়ে দিলাম। এটাকে আমরা সূর্য বলতাম।
আমাদের সময়ের জাতীয় মেহেদি ডিজাইন |
|---|
আমি মেয়েকে আমার ছোটবেলার গল্প বলতে লাগলাম, কিভাবে আমরা মেহেদী পড়ে বসে থাকতাম শুকানো অব্দি। মেয়ে আমার কথা শুনে ভদ্র মেয়ের মত ১ ঘন্টা ধৈর্য ধরে হাত দুটোকে রোদে ধরে রেখেছিল।
শুকিয়ে যাবার পর নিজের হাত দেখে সে তো মহা খুশি।
আমারো অনেক ভালো লাগলো। নিজের মেয়ের আনন্দের মধ্যে যেন নিজের ছোটবেলাকে ফিরে পেলাম। আহা কি মধুর ছিল দিনগুলি।
আমরা চাইলেও আমাদের হারানো দিন গুলি ফিরে পাবো না। তাই বলে সেগুলো কিন্তু আমরা ভুলে যাই না। সামান্য কোন মিল পেলেই সেগুলো আমাদের মনকে নাড়া দেয়। এসব স্মৃতি চিরঅম্লান হয়ে থাকে যুগের পর যুগ।
ফটোগ্রাফির বিবরণ:
| ডিভাইস | স্যামসাং M31 মোবাইল |
|---|---|
| মডেল | আমার মেয়ে (মেহেক) |
| স্থান | ঢাকা |
| ফটোগ্রাফার | @mukitsalafi |
প্রথমে বলব আপনার মেয়ে খুব কিউট কত যত্ন করে মেহেদি টা হাতে রেখেছে, সত্যি মাঝে মাঝে এমন কিছু স্মৃতি চোখে পড়ে যেগুলো শৈশবের কথা মনে পরিয়ে দেয়, ছোটবেলা ঈদের আগের দিন থেকে মেহেদী দেওয়া শুরু করতাম একটা দিতাম কিনা মেহেদী ডিজাইন করার জন্য আর একটা দিতাম গাছের পাতার মেহেদী বেশি রং করার জন্য, তবে আমার কাছে গাছের অনেক বেশি ভালো লাগে, বাহিরের কেনা মেহেদীতে থাকে অনেক ধরনের কেমিক্যাল, যেটা কিনা আমাদের শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর।। ধন্যবাদ খুব সুন্দর একটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য।
হ্যা, মাশাল্লাহ আমার মেয়ে অনেক ধৈর্য আছে। আমার মেয়ের জন্যে দোয়া করবেন।
অসংখ্য ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্যে।
আমরা চাইলেও আমাদের হারানো দিন গুলি ফিরে পাবো না। তাই বলে সেগুলো কিন্তু আমরা ভুলে যাই না। সামান্য কোন মিল পেলেই সেগুলো আমাদের মনকে নাড়া দেয়। এসব স্মৃতি চিরঅম্লান হয়ে থাকে যুগের পর যুগ। ছোট বেলার সৃতি মন থেকে সরানো যায় না,, আর আপনার মেয়েটা মাশাল্লাহ,, নাম টা ও সুন্দর আপনার জন্য দোয়া ও শুভকামনা রইল।
ধন্যবাদ আপু। আমার মেয়ের জন্যে দোয়া করবেন।
আপনার পোষ্টের ছবিগুলো দেখে একবারে শৈশবের কথাগুলো মনে পড়ে গেল। আসলে দিন দিন বর্তমানে কাজের ব্যস্ততা মাঝে এসব দিন যে কবে হারিয়ে ফেলেছি মনে নেই। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এরকম শৈশবের দিন নিয়ে পোস্ট শেয়ার করার জন্য।
ধন্যবাদ ভাই, আমার ফটোগ্রাফি আপনার ভালো লেগেছে শুনে ভালো লাগলো।
আমরা ছোটদের করা আনন্দ গুলো দেখে আমাদের শৈশবের দিনগুলি কে মিস করতে থাকি।কতটা রঙিন ছিল আমাদের শৈশব কাল। বন্ধুদের সাথে কাটানো সময় গুলো।আর আমার সব থেকে খারাপ লাগে স্কুল জীবনটা। আমাদের সাথে এতো সুন্দর একটি পোস্ট শেয়ার করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন আর পরিবার ও নিজের খেয়াল রাখবেন।
প্রত্যেকটি মানুষ তার শৈশবকালের স্মৃতি সময়ের সময় মনে হয়। আর আশা করতে থাকে যে আমি যদি শৈশবকালে যদি ফিরে যেতে পারতাম তবে কতই না ভালো হতো। কিন্তু তা শুধু কল্পনায় পাওয়া সম্ভব বাস্তবে নয়। আপনি আপনার পোষ্টের মধ্যে শৈশবকালে সুন্দর সুন্দর স্মৃতি গুলো তুলে ধরেছেন। এবং সুন্দর পোস্ট করেছেন।
আপনার জন্য দোয়া করি আপনার বর্তমান জীবন শৈশবের যেত কষ্টহীন মধুর সময় পার করতেন সেরকম মধুর সময় আল্লাহতালা আপনাকে করে দিক। আপনার প্রতি শুভকামনা ও দোয়া রইল।
আমিন। আল্লাহ আপনার দোয়া যেন কবুল করে নেন।
শৈশবের স্মৃতি মনে করলে হয়তো লিখে শেষ করা যাবে না ৷ শৈশবে আমরা অনেক আনন্দ করে ছিলাম অনেক ধরনের দুষ্টামিও করেছিলাম ৷ সবার জীবনে শৈশবের স্মৃতি লুকিয়ে রয়েছে ৷ আপনার মেয়েকে মেহেদি পড়িয়ে গিয়েছিলেন খুব ভালো লাগলো জেনে তাদের মেহেদি পড়িয়ে দিলে তারা অনেক আনন্দ পায় যেমন টা শৈশবে হয়ে থাকে ৷
ধন্যবাদ আপনাকে এত সুন্দর একটি পোস্ট আমাদের মাঝে তুলে ধরার জন্য ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন ৷
আসলে ছোটবেলার স্মৃতিগুলো সব সময় মনের ভিতর রঙিন হয়ে থাকে। আসলে এখন ছোটদের আনন্দ দেখে আমাদের শৈশবের দিনগুলো মনে পড়ে যায়। আর মনে মনেএইটাই বলি সেই আগের দিন যদি ফিরে পেতাম। আর ছোটবেলা স্মৃতিগুলো কখনো মন থেকে সরানো যায় না। আপনার মেয়ে মেহেদী খুব সুন্দর ভাবে হাতে মেহেদি লাগিয়েছে। মাশাল্লাহ আপনার মেয়েটা খুব সুন্দর।
থ্যাঙ্ক ইউ আপনার পোস্টটি পড়ে আমাদের শৈশবের কথা মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য।
এটা সত্য কথা যে ছোট বেলার স্মৃতি গুলো আজীবন আমরা মিনে রাখি। তুলনামূলক ভাবে এই স্মৃতি গুলোই বেশি রংগিন মনে হয় আমাদের কাছে। আমরা চাইলেও ওই বয়সে আর ফিরতে পারি না তাই হয়তো এমন হয়।
ছোট বেলার স্মৃতিগুলো আসলেই খুব মধুর হয়ে থাকে।
আপনার মেয়েকে টিউবের মেহেদী না লাগিয়ে আসল পাতা ব্লেন্ড করে লাগিয়ে খুবই ভালো কাজ করেছেন।।কারম টিউবের মেহেদী অনেক সময় ক্ষতিকর হয়ে থাকে। বিভিন্ন ধরনের ক্যেমিকাল থাকে যেটা বড়দের তেমন ক্ষতি আপাত দৃষ্টিতে না দেখা গেলেও এত ছোট বাচচার জন্য ক্ষতিকর হবার সম্ভাবনা থেকেই যায়। তাই একটা ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আর এ বিষয়টাতে যাদের ছোট বাচ্চা আছে তাদের সবারই সচেতন হওয়া উচিত।
ভালো থাকবেন সবসময়।
কেমিক্যাল গুলো অনেক সময় বাচ্চাদের হাতে চুলকানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই গাছের মেহেদি উত্তম বাচ্চাদের জন্য।
আপনার লেখাটি পড়ে আমিও শৈশবে ফিরে গেলাম। আপনি সত্যিই বলেছেন ৯০ দশকের বাচ্চারা এগুলো সবচেয়ে ভালো জানে। আমাদের সময়টা ছিল শতাব্দীর সবচেয়ে সুন্দর সময়। তখন শৈশব ছিল দুরন্তপনা। আপনার মত আমিও আশেপাশের বাড়ি থেকে মেহেদী নিয়ে আসতাম। সযত্নে এগুলো বাটতাম। এরপরে আপনি ঠিক যেভাবে আপনার মেয়ের হাতে লাগিয়েছেন এভাবেই লাগাতাম। ধৈর্য ধরে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকতাম। অনেক সময় মেহেদি লাগিয়ে রাতে ঘুমিয়ে পড়তাম। আর সকালে তুলতাম। মেহেদি রং কালছে না হওয়া পর্যন্ত সন্তুষ্ট হতাম না। সত্যিই কি চমৎকার ছিল সেই দিনগুলো!!! সুন্দর দিনগুলো যেন আজ কালের বিবর্তনে হারিয়ে গিয়েছে। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ এত সুন্দর একটি পোস্ট করার জন্য। খুব ভালো লেগেছে আমার পড়ে।
কালো করার জন্যে সাবান চুন দিতাম। আপনার মন্তব্য পড়ে এটা মনে পড়লো। সত্যি আমরা শেষ প্রজন্ম যারা এগুলো পেয়েছি।