জামাইষষ্ঠীর কাটানো মুহূর্ত

in Incredible Indialast year

নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারও নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।

IMG20250601095736.jpg
ষষ্ঠী গাছ

আজকে আপনাদের মাঝে জামাইষষ্ঠীর মুহূর্ত শেয়ার করব। বাঙ্গালীদের বারো মাসে তেরো পার্বণ লেগেই থাকে ।এর মধ্যে অন্যতম হলো জামাইষষ্ঠী অনুষ্ঠান। জামাইষষ্ঠী হল বাঙ্গালীদের মধ্যে প্রধান লৌকিক আচার। জৈষ্ঠ্য মাসে শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে এই আচার পালিত হয়। এই দিন সদ্য বিবাহিত মেয়ে- জামাই কিংবা পুরোনো সব মেয়ে- জামাই সকলেই বাপের বাড়িতে নিমন্ত্রিত হয়ে ষষ্ঠী পালন করতে আসে। এই দিন জামাইকে খুশি রাখার জন্য তার পছন্দমত সমস্ত খাবারের আয়োজন করা হয়। জামাইষষ্ঠীর দিনটি অরণ্য ষষ্ঠী নামে ও পরিচিত আছে। এ বছরে পয়লা জুন রবিবার দিন জামাইষষ্ঠীর অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। জামাইষষ্ঠীর দিন শাশুড়িরা মা ষষ্ঠীর কাছে জামাই, মেয়ে, নাতি-নাতনীর জন্য মঙ্গল কামনায় পুজো দেন।

IMG_20250612_204233.jpg
ষষ্ঠী পুজোর বাজার

পুরান অনুসারে কথিত আছে, এক সদ্য বিবাহিত মহিলা তার বাড়িতে প্রত্যেকদিন যা রান্না করতেন সেই সব জিনিস লুকিয়ে লুকিয়ে সব খেয়ে ফেলতেন। পরে সেই খাবারের খোঁজ হলে অন্যের উপর দোষ দিতেন। রোজ একটা বিড়াল এসে খাবার গুলো খেয়ে নেয় বলে তিনি দাবি কর তেন। আর মা ষষ্ঠীর বাহন হল বেড়াল। প্রত্যেকদিন বিড়ালের ওপর দোষ চাপানো হচ্ছে দেখে মা ষষ্ঠী প্রচন্ড রেগে গিয়েছিলেন। রেগে গিয়ে মা ষষ্ঠীর অভিশাপে ওই মহিলাটি যতবার সন্তান হতো প্রত্যেকবার সন্তানগুলো মারা যেত। তখন ওই মহিলা বুঝতে পেরে মা ষষ্ঠীর কাছে তার সমস্ত দোষ স্বীকার করেছিল। এবং মা ষষ্ঠীর কাছে ক্ষমা চেয়েছিল । এরপর থেকেই মহিলাটি মা ষষ্ঠীর আরাধনা করতে থাকে। মহিলাটির পূজোয় মা ষষ্ঠী সন্তুষ্ট হয়েছিলেন। এবং তার সন্তানদের ফিরিয়ে দিয়েছিল।

IMG20250601100605.jpg

এদিকে শাশুড়ি মা বৌমার সব কীর্তিকলাপ জানতে পেরে গিয়ে তার বাপের বাড়ি যাওয়া একদম বন্ধ করে দিয়েছিল। অনেকদিন মেয়েকে দেখতে না পেয়ে তার বাবা-মা জৈষ্ঠ্য মাসের শুক্লা পক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে মেয়ে, জামাই, নাতি-নাতনিকে নিমন্তন্ন করেছিল। এরপর মেয়ে -জামাই তার বাড়িতে যাই এবং এরপর থেকেই সকলের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি সমস্ত কিছুর অবসান ঘটেছিল। অর্থাৎ সেই থেকেই জ্যৈষ্ঠ মাসের শুক্লা পক্ষের ষষ্ঠীতে জামাইষষ্ঠীর অনুষ্ঠান পালন করা হয়। এখনকার দিনে পরিবারের সকলের সাথে হইহুল্লোড়, মজা ,আনন্দ করে গোটা দিনটা পালন করা হয়। বিভিন্ন রকম খাওয়া- দাওয়া, হাসি- ঠাট্টা পরিবারের সকলে মিলে একটা দিন কাটানো হয়। সকালবেলায় শাশুড়িরা মা ষষ্ঠীর কাছে মেয়ে জামাই নাতি-নাতনির সকলের নামে পুজো দিয়ে এসেই শুরু হয় রান্নাবান্নায় অনুষ্ঠান। অনেকে আবার বড় বড় রেস্তোরাঁ, হোটেল এইসব জায়গাতে গিয়েও জামাইষষ্ঠী পালন করছে।

IMG20250601095830.jpg
আমি আর বুনু

প্রত্যেক বারের মতো এ বছরেও দিদার সাথে আমি আর মামার মেয়ে তিন জনে টোটো করে গিয়েছিলাম ষষ্ঠী গাছ তলায় পুজো দিতে। বটগাছ বা অশ্বত্থ গাছ এই দুটো গাছকেই মা ষষ্ঠী হিসেবে পুজো করা হয়। অনেক জায়গায় আবার মা ষষ্ঠীর মূর্তি ও পূজা করা হয়। প্রত্যেকবারই মতো এবারও দিদা বাঁশের পাতা, দূর্বা, খেজুর ,জাম, মাদার ফল আরো অনেক কিছু নিয়ে গিয়েছিল পুজো দিতে। পুজো দিতে গিয়ে ষষ্ঠী গাছ তলার পাশে এক বিরাট কৃষ্ণচূড়া গাছ ছিল।গাছ ভরে লাল রঙের কৃষ্ণচূড়া ফুটে ছিল। রাস্তায় অনেক কৃষ্ণচূড়া পড়ে ছিল। সকাল সকাল কৃষ্ণচূড়া ফুল দেখে মনটা ভরে উঠেছিল।সকাল সকাল পুজো দেওয়া তাড়াতাড়ি শেষ করে ফেলে ছিলাম ।নয়তো দুপুর বেলায় দিকে ভিড় হয়। দিদা যেহেতু অসুস্থ তাই সকাল বেলায় পুজো দিয়ে এসে তাড়াতাড়ি দিদা খেয়ে নিয়েছিল। এ বছরে বড় মামা, মেজ মামা ,মা তিনজনেই জামাইষষ্ঠীর নেমন্তন্ন করেছিল। গরমে আর মায়ের কাছে যেতে ইচ্ছে করল না ।তাই বড় মামার কাছে ষষ্ঠীর নিমন্তন্ন এ বছর সেরে ছিলাম।

IMG_20250612_211219.jpg
পাশের ছবি টা দিদার

পুজো দেওয়ার পর আমি সারাদিন মামার বাড়িতেই ছিলাম। তারপর আমার বর সমস্ত কাজকর্ম সেরে বিকেল বেলায় চলে গিয়েছিল খাওয়া দাওয়া করতে। দিদা অসুস্থ তাই বিশেষ কিছু রান্না করতে পারেনি। সেই দিন বড়মামা নিজের হাতে সমস্ত রান্নাবান্না করেছিল। এ বছরে যেহেতু একা একা তাই তেমন কোন মজা হয়নি ।আসলে সব বোন এক জায়গায় হলে আরো বেশি মজা হতো। আমি যাইনি বলে মা খুবই কষ্ট পেয়েছে। কিন্তু এই গরমে গিয়ে নিজেরাও কষ্ট পেতে চাইনি আর মাকেও কষ্ট দিতে চাইনি।এই বছরের জামাইষষ্ঠী এইভাবেই কাটিয়ে ছিলাম।

IMG20250601100659.jpg

কৃষ্ণচূড়া ফুল


আজ এই পর্যন্তই। আবারো নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল।

Sort:  
Loading...

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.090
BTC 62143.12
ETH 1744.45
USDT 1.00
SBD 0.38