খিচুড়ি রেসিপি
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা রেসিপি নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে। আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
কিছুদিন ধরে মানুষ গরমে প্রচন্ড কষ্ট পাচ্ছিল। কিন্তু গত তিনদিন ধরে প্রায় প্রত্যেকটা জেলাতেই কমবেশি বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে। বলতে গেলে আষাঢ় মাস পড়তেই বর্ষা শুরু হয়ে গেছে। সকলে গরমের হাত থেকে খানিকটা হলেও স্বস্তি পেয়েছে। কিন্তু বৃষ্টি সকলের জন্য আবার ভালো নাও হতে পারে। কারণ যারা বাইরে কাজকর্ম করে তাদের পক্ষে ভীষণ অসুবিধা। এখন সারাদিন রাত ধরে বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির দিনগুলোতে কাজকর্ম করতে একদমই ইচ্ছে করে না। সবসময় ঘরে বসে থাকতেই মন চায়। আমি খিচুড়ি খেতে ভীষণ পছন্দ করি। যেমন বৃষ্টি পছন্দ করি। ঠিক তেমনি খিচুড়ি আমার ভীষণ প্রিয়। বৃষ্টির দিনে খিচুড়ি খেতে বেশি মন চায়। সেটা যে কোন চাল দিয়েই তৈরি হোক না কেন। আমি সব রকম খেতেই অভ্যস্ত। বাড়িতে সবসময়ই ঘরোয়া তৈরি রান্না বান্না খেতে আমি বেশি পছন্দ করি। নিজেও সব সময় ঘরোয়া ভাবেই সবকিছু তৈরি করার চেষ্টা করি। আজকে বৃষ্টির দিনে বাড়িতে বসে খিচুড়ি খেতে ভীষণ মন চাইছিল।
বর ঘুম থেকে উঠেই বলছিল আজকে ঝটপট খিচুড়ি বানানোর জন্য। কারণ বৃষ্টির দিনে বাজারে যেতে একদমই মন চায় না।বাড়িতে শশুর শাশুড়ি কেউ নেই। আমরা দুজনেই রয়েছি। তাই বাড়িতে থাকা ঘরোয়া জিনিস দিয়ে তৈরি করেছিলাম খিচুড়ি। তবে আজকের খিচুড়িটা বেশ কিছুদিন আগে তৈরি করেছিলাম । সেদিন ও প্রচন্ড বৃষ্টি হচ্ছিল।সেটাই আজকে আপনাদের মাঝে শেয়ার করব। ভেবেছিলাম খিচুড়ি রেসিপিটা কোন এক বৃষ্টির দিনে শেয়ার করে নেব। সকাল থেকেই সারাদিন ধরেই বৃষ্টি চলছে। তাই আজকে শেয়ার করছি বাড়িতে তৈরি খিচুড়ি রেসিপি।
| নং | সামগ্রী | পরিমাণ |
|---|---|---|
| ১ | চাল | ৫০০ গ্ৰাম |
| ২ | মুসুর ডাল | ২৫০ গ্ৰাম |
| ৩ | লবণ | পরিমাণ মতো |
| ৪ | হলুদ | পরিমাণ মতো |
| ৫ | আলু | ২ টো |
| ৬ | পেঁয়াজ | ৩ টে |
| ৭ | কাঁচা লঙ্কা | ২০ টা |
| ৮ | সরিষার তেল | ৫০ গ্ৰাম |
| ৯ | গোটা জিরে | ১ চামচ |
| ১০ | শুকনো লঙ্কা | ২ টো |
| ১১ | ঘি | ১ চামচ |
প্রথম ধাপ
প্রথমেই পরিমাণ মতো চাল আর পরিমাণ মতো মুসুরির ডাল নিয়ে নিয়েছে।
দ্বিতীয় ধাপ
ডাল আর চাল দুটোই ভালো করে ধুয়ে প্রেসার কুকারের মধ্যে নিয়ে নিয়েছিলাম। প্রেসার কুকারে পরিমাণ মতো জল দিয়ে দিয়েছি।
তৃতীয় ধাপ
জল দেওয়ার পর পরিমাণ মত লবণ ,হলুদ, সরিষার তেল দিয়ে প্রেসার কুকার গ্যাস অন করে বসিয়ে দিয়েছি। দুই থেকে তিনটে সিটি মেরে দিলেই প্রেসার কুকার নামিয়ে রাখতে হবে।
চতুর্থ ধাপ
এদিকে খিচুড়ি তে দেওয়ার জন্য সমস্ত কিছু রেডি করে নিয়েছি। আলু, পেঁয়াজ ,কাঁচালঙ্কা ,শুকনো লঙ্কা, গোটা জিরে সমস্ত কিছু রেডি করে নিয়েছিলাম। আপনারা চাইলে আপনাদের প্রয়োজন মত সবজি অ্যাড করতে পারেন।
পঞ্চম ধাপ
এরপর গ্যাস অন করে একটা কড়াই বসিয়ে দিয়েছি। কড়াইতে পরিমাণ মতো সরিষার তেল দিয়ে দিয়েছি। তেল গরম হলে তেলের মধ্যে শুকনো লঙ্কা আর গোটা জিরে দিয়ে দিয়েছি।
ষষ্ঠ ধাপ
এরপর তেলের মধ্যে কেটে রাখা আলু দিয়ে দিয়েছি। আলো গুলো ভালো করে ভেজে নিতে হবে ।ভাজার সময় আমি পরিমাণ মতো লবণ ,হলুদ অ্যাড করে দিয়েছিলাম।
সপ্তম ধাপ
এবারে কড়াইতে কাঁচা লঙ্কা, পেঁয়াজ কুচি সমস্ত কিছু আলুর মধ্যে দিয়ে ভালো করে ভেজে নিতে হবে।
অষ্টম ধাপ
সমস্ত কিছু ভাজা হয়ে গেলে প্রেসার কুকারে তৈরি করা খিচুড়ি কড়াইতে দিয়ে ভালো করে নাড়াচাড়া করতে হবে।
নবম ধাপ
এইভাবে বেশ খানিকক্ষণ ফুটিয়ে নিতে হবে।
তৈরী
ফুটিয়ে নেওয়ার পর শেষে সামান্য ঘি দিয়ে নাড়াচাড়া করে একটা পাত্রে নামিয়ে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে বাড়িতে তৈরি খিচুড়ি।
খুব সহজেই এইভাবে বাড়িতে ঘরোয়া পদ্ধতিতে খিচুড়ি বানানো যায়। এই রকম ভাবে খিচুড়ি বানালে বেশি সময়ও লাগে না। খুব অল্প সময়ের মধ্যে তৈরি করা যায়। ছোট থেকে বড় সকলেই কমবেশি খিচুড়ি খেতে পছন্দ করে। আমাদের বাড়িতে মোটামুটি সকলেই খিচুড়ি খেতে ভীষণ পছন্দ করে। আমি এই ভাবেই খিচুড়ি খেতে বেশি ভালোবাসি। সমস্ত উপকরণ আমার পরিমাণ মতো ব্যবহার করেছি ।আপনারা চাইলে আপনাদের পরিমাণ মতো উপকরণ ব্যবহার করতে পারেন। সবসময় সব রকম সবজি ঘরে থাকে না। বাড়িতে যে সমস্ত সবজি ছিল সেই গুলো ব্যবহার করেছি। তবে এই পদ্ধতিতে খিচুড়ি বানিয়ে খেতে খুবই সুস্বাদু লাগে। খিচুড়ির সাথে বেগুন ভাজা, ডিম ভাজা, পাঁপড় ভাজা হলে পুরো জমে যায়। আমার বৃষ্টির দিনে খিচুড়ি খেতে পছন্দ করে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। আমি বাড়িতে থাকা চাল ও ডাল ব্যবহার করেছি। আপনারা চাইলে অন্য ডাল ব্যবহার করতে পারেন কিংবা অন্য চাল ব্যবহার করতে পারেন।
আজ এই পর্যন্তই। আবার অন্য কোন রেসিপি নিয়ে হাজির হব আপনাদের মাঝে। সকলে ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন।
বৃষ্টির দিনে খিচুড়ি শুধু আপনি না আমরা সবাই খুব পছন্দ করি ।আপনি ঘরে থাকা উপকরণ দিয়ে অল্প সময়ে প্রেশার কুকারে খিচুরি রান্না করেছেন।
আপ্নার রন্ধনপ্রনালী অনুসরন কিরে একদিন রান্না করবো ।
বৃষ্টির সময় খিচুড়ি খেতে ভালোবাসে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া সত্যি অনেক কঠিন হয়ে দাঁড়ায় আমি তো আগে খিচুড়ি খেতাম না তবে বৃষ্টি হলে খিচুড়ি খেতে মন চাই অনেক মাঝেমধ্যে আমরাও খিচুড়ি রান্না করে খাওয়া দাওয়া করি যেগুলো আমি আপনাদের মাঝে শেয়ার করি তবে আজকে আপনি পুরো পদ্ধতিটা অনেক সুন্দর ভাবে আমাদের মাঝে শেয়ার করেছেন যেটা দেখে সত্যিই অনেক বেশি ভালো লাগছে।