জগদ্ধাত্রী প্রতিমা প্রথম বিসর্জন
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো জগদ্ধাত্রী পূজার প্রথম প্রতিমা বিসর্জনের পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে।
আমাদের কৃষ্ণনগরের রাজরানী (বুড়িমা) |
|---|
জগদ্ধাত্রী পুজো কেটে গেছে বেশ এক সপ্তাহ হয়ে গেছে। এখন আমাদের কৃষ্ণনগর বলতে গেলে পুরো অন্ধকার। এই বছর জগদ্ধাত্রী পূজার প্রথম বিসর্জন দেখতে বেরিয়েছিলাম রাত সাড়ে তিনটে নাগাদ। সারাদিনে প্রচুর ঠাকুর দেখেছিলাম সেগুলো সবই আপনাদের মাঝে শেয়ার করেছি। এছাড়াও সন্ধ্যা থেকে নিজেদের পূজা মন্ডপে সময় কাটিয়েছিলাম। আমাদের প্রতিমা যখন মণ্ডপ থেকে নামানো হয় প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সবকিছুই দেখছিলাম। শুধু এ বছরই বলেই নয়, প্রত্যেক বছরে জগদ্ধাত্রী পুজোর পরের দিনটা এরকম ভাবেই কেটে যায়। প্রত্যেক ক্লাব, বারোয়ারি ঠাকুর একটা টাইম দেওয়া থাকে। সেই টাইমের মধ্যে ঠাকুর নিয়ে প্রথমে রাজবাড়ি যাওয়া হয়। আবার রাজবাড়ী থেকে আমাদের কৃষ্ণনগর কদমতলা ঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া হয়। একই নিয়মে প্রত্যেক প্রতিমা নিয়ে যাওয়া হয়।
ভিডিও থেকে স্ক্রিনশট নেওয়া |
|---|
প্রথম দিন প্রত্যেকটা ঠাকুর সাঙ অর্থাৎ ঘাড়ে করে ঠাকুর নিয়ে যাওয়ার কথা প্রচলিত আছে। প্রথম দিন খুব অল্প সংখ্যক প্রতিমা নিয়ে যাওয়া হয়। প্রথম দিন বেশ অনেকটা সময়ের ব্যবধান দিয়ে তবে ঠাকুর নিয়ে যাওয়া হয়। আমি প্রত্যেক বছরই আমাদের পাড়ার প্রতিমা পিছন পিছন যায়। কারণ প্রতিমা কাঁধে করে নিয়ে প্রত্যেকে দৌড়াই। তাই আমাদের পিছন পিছন আস্তে আস্তে যেতে হয়। এ বছরও আমাদের প্রতিমা সাথে গিয়েছিলাম বিসর্জনের শোভাযাত্রায়। কিন্তু আমাদের প্রতিমা যখন রাজবাড়ীতে নিয়ে যাওয়া হয় তখন আমরা দুজনে অন্য এক জায়গায় দাঁড়িয়ে ছিলাম অন্য প্রতিমা গুলি দর্শন করার জন্য।
ভিডিও থেকে স্ক্রিনশট নেওয়া শর্ট ভিডিও |
|---|
যেতে যেতে দেখছিলাম প্রায় সব প্রতিমা গুলোই মন্ডপ থেকে নামানো হয়ে গেছে বাধার কাজ চলছে। আর সমস্ত মণ্ডল গুলো পুরো হাহা করছে। আমাদের কৃষ্ণনগরে সমস্ত ঠাকুর চলে যাওয়ার পর আমাদের কৃষ্ণনগরের রাজ রানী বুড়িমা কে সবার শেষে নিয়ে যাওয়া হয়। বুড়িমা বলতে আমাদের এখানে বিখ্যাত জগদ্ধাত্রী প্রতিমা। প্রত্যেক বারের মতো এবারেও সবার শেষে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু এ বছরে নিয়ে যেতে অনেকটাই দেরি হয়ে গিয়েছিল। রাজবাড়ী নিয়ে যাওয়ার পথে বুড়িমার সাঙের বাঁশ ভেঙে গিয়েছিল। সবকিছু ঠিকঠাক করে বুড়ি মাকে নিয়ে যেতে প্রায়ই এগারোটা বেজে গিয়েছিল। আমরা ভোর সাড়ে তিনটের সময় ঠাকুর দেখতে গিয়ে পরের দিন সকাল ১১ টার পর বাড়ি ফিরেছিলাম।
বুড়িমার প্রায় ১০ কেজি গয়না তাই সেগুলো খুলতে প্রায় অনেকটা সময় লাগবে। তাই নদী পর্যন্ত আর যায়নি। বুড়িমা বিসর্জন হতে হতে প্রায় বেলা দুটো বেজে গিয়েছিল। বুড়িমা বিসর্জন দেখার জন্য বহু ভক্তের ভিড় জমে ।সকল ভক্তরাই বুড়িমা ঠাকুরের পিছনে পিছনে যায়। প্রথম বিসর্জনের ভিডিও লিংক দেওয়া থাকবে আপনারা চাইলে লিংক এর মাধ্যমে প্রথম বিসর্জন দেখতে পারেন। তবে আমার প্রথম বিসর্জন দেখতে ভীষণ ভালো লাগে। এ বছরে খুব ভালোভাবেই প্রথম বিসর্জনের জন্য দেখতে পেয়েছিলাম ।কারণ কোন বছরেই আমরা বসার জায়গা পাই না ।এ বছরে খুব ভালো হবে বসে আনন্দ সহকারে প্রথম বিসর্জনের প্রতিমা দর্শন করেছিলাম। সারা রাত্রি জেগে থাকো দেখা শরীর প্রচন্ড খারাপ হয়ে গিয়েছিল। বিসর্জনের অনেক ভিডিও রয়েছে কিন্তু সব ভিডিও দেওয়া সম্ভব নয়।
আজ এখানেই শেষ করছি, আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে ।পরবর্তী আবার নতুন কোন গল্প নিয়ে হাজির হব আপনাদের মাঝে।