নববর্ষের দিন বিকেল বেলায় কাটানো মুহূর্ত
নমস্কার বন্ধুরা,সকলে কেমন আছেন?আশা করি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারও নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে।
আজকে আপনাদের মাঝে শেয়ার করব নববর্ষের দিন বিকেল বেলার কাটানো মুহূর্ত। নববর্ষ বাংলা ক্যালেন্ডার বৈশাখ মাসের প্রথম দিনকেই ধরা হয়। প্রত্যেক বছর ইংরেজি মাসের ১৪ই এপ্রিল বা ১৫ এপ্রিল তারিখে পরে। ইতিহাসের পাতায় পড়েছিলাম পয়লা বৈশাখের ইতিহাস ষোড়শ শতাব্দী থেকে মোগল সম্রাট আকবরের আমল থেকেই নববর্ষের হালখাতা বিষয়টা চলে আসছে। কারণ মোগল সম্রাট আকবর ফসল কাঁটার ওপর কর ভিত্তি ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। তিনি চৈত্র মাসের শেষ দিনের মধ্যে সমস্ত কর দেওয়া, খাজনা দেওয়া সবকিছুই সাধারণ মানুষকে শোধ করতে হতো। এর পরের দিন জমিদাররা সকলকে মিষ্টি খাওয়াতো। এছাড়াও জমিদাররা প্রজাদের খুব আপ্যায়ন করতেন। এই দিন পুরনো খাতা সরিয়ে নতুন খাতায় সারা বছরের হিসেব-নিকাশ করা হয়। এই সময় থেকেই এই হালখাতার রীতি চলে আসছে।
তবে পহেলা বৈশাখ নিয়ে আরো নানা মত রয়েছে। আমরা সারা বছর ধরে জামা কাপড় কেনাকাটা করে থাকি। এছাড়াও চৈত্র সেলের সময়তে ও প্রচুর কেনাকাটা করেছিলাম। সেই জন্য প্রায় কয়েকটা দোকানে নববর্ষের দিন আমাকে যেতে বলেছিল। কিন্তু যাওয়ার জন্য কোন সঙ্গী খুঁজে পাচ্ছিলাম না। শেষে আমার বড় মামিকে রাজি করিয়ে সাথে নিয়ে গিয়েছিলাম ।আমাদের সাথে মামার মেয়েও গিয়েছিল। এই প্রথমবার আমি হালখাতা করতে গিয়েছিলাম। ছোটবেলায় মনে পড়ে দিদার হাত ধরে বেশ কয়েকবার হালখাতা করতে গিয়েছিলাম। তখন নববর্ষের দিনটা আসলেই মনে মনে আনন্দ উত্তেজনা কাজ করত। মনে হতো বিভিন্ন দোকান থেকে বিভিন্ন রকমের মিষ্টান্ন দেওয়া হবে। আর সেগুলো বেশ কয়েকদিন ধরে আনন্দ করে খাওয়া দাওয়া করব। তখনকার অনুভুতি একদমই অন্যরকম। সেটা হয়তো বলে বোঝানো যাবে না। ছোট বেলার সাথে এখন কার কোন মিল খুঁজে পাওয়া যাবে না।সব কিছুই স্মৃতির পাতায়।
কিন্তু এ বছরে দিদার হাত ধরে নয় আমি নিজেই গিয়েছিলাম প্রথম বার হালখাতা করতে। তবে ছোট বেলায় দিদার হাত ধরে যে আনন্দ অনুভব করতাম সেই অনূভূতি পায়নি।আমি যেহেতু সমস্ত দোকানে দেখে অবাক হয়ে গিয়েছিলাম এত সুন্দর করে ফুল দিয়ে সাজিয়ে তোলা হয়েছিল দোকানগুলো।তাও আবার আমার প্রিয় জুঁই ফুল আর বেলী ফুল।দেখতে অপূর্ব লাগছিল। দিদার সাথে ছোটবেলায় বাড়ির কাছাকাছি বাজারে যেতাম নববর্ষের হালখাতা করতে। কিন্তু যেখানে জামা কাপড় কেনাকাটা করি সেই সব দিকে কোনদিনই হালখাতা করতে যায়নি। এত সুন্দর করে সাজিয়ে তোলে প্রত্যেকটা দোকান আমার জানা ছিল না। এরপরে প্রত্যেকটা দোকানে যাওয়া মাত্রই হাতে একটা করে মিষ্টির প্যাকেট ধরিয়ে দিয়েছিল। আমি সারা বছর যেখানে শাড়ি কেনাকাটা করি সেই দোকানেও প্রচন্ড ভিড়। ঢুকেই দেখি একটা গণেশের মূর্তি বসানো। গণেশ মূর্তিটাকে সুন্দর করে ফুল দিয়ে সাজিয়ে রাখা হয়েছে।
দোকানে ঢোকা মাত্রই হাতে একটা করে আইসক্রিম ধরিয়ে দিয়েছিল ।এরপর একটা মিষ্টির প্যাকেট নিয়ে সেই দোকান থেকে বেরিয়ে পড়েছিলাম অন্য দোকানে যাবার উদ্দেশ্যে। এইভাবেই বেশ কয়েকটা দোকানে থেকে হালখাতা করে চলে গিয়েছিলাম আমাদের কাছে জাগ্রত মা কালী মন্দির রয়েছে সেখানে মায়ের দর্শন এর জন্য। সকাল থেকেই ভাবছিলাম মায়ের দর্শন নিয়ে বছরের প্রথম দিন শুরু করব। এখানে গিয়েও দেখি প্রচন্ড ভিড় ।ভেতরে ঢোকার একদম রাস্তা নেই। দূর থেকেই মাকে দর্শন করেছিলাম। এরপরে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলাম ।তবে নববর্ষের দিন রাস্তাতে এত ভিড় যে হেটে আসার উপায় নেই। তবুও কোন রকমে রাস্তার এক পাশ দিয়ে গাড়ি ঘোড়া মধ্যে দিয়ে চলে এসেছিলাম।
নববর্ষের দিন বিকেল বেলায় এই প্রথমবার ভীষণ মজা আনন্দ করে দিন কাটিয়েছিলাম। বছরের প্রথম দিন সমস্ত মনোস্কামনা পূর্ণ হয়েছিলো।তবে বাড়িতে এসে মিষ্টির প্যাকেট গুলো দেখে রংবেরঙের মিষ্টি দেখে লোভে পড়ে গিয়েছিলাম। কারণ মিষ্টি খেতে আমি ভীষণ পছন্দ করি ।এছাড়াও সবথেকে পছন্দের জিনিস হল বিভিন্ন রকমের ক্যালেন্ডার সেগুলো তো আরো ভালো লাগে। নতুন বছরের প্রথম দিন ঘরের রংবেরঙের ক্যালেন্ডার টাঙাতে আমার তো খুব ভালো লাগে। আজকে এই পর্যন্তই ছিল আমার নববর্ষের বিকেলে কাটানো মুহূর্ত ।
এখানেই শেষ করছি। আবার নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল।