রথযাত্রা উপলক্ষে ছোটবেলার স্মৃতিচারণ

in Incredible India5 hours ago

নমস্কার বন্ধুরা ,সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।

IMG_20260717_221957.jpg

গতকাল ছিল জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা। এই রথকে আমরা সোজা রথ বলেই জানি। জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা সম্পর্কে অনেক পৌরাণিক কাহিনী রয়েছে। কমবেশি সকলেই এই কাহিনী সম্পর্কে জেনে থাকবেন। কথিত আছে সোজা রথের দিন জগন্নাথ দেব তার দুই ভাই বোনকে নিয়ে মাসির বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। তাই আমরা সকলেই এই যাত্রাকে সোজা রথ বলেই জেনে এসেছি। সকলকে রথযাত্রার শুভেচ্ছা জানিয়ে আমার পোস্ট লেখা শুরু করছি। ছোটবেলায় রথ আসার আগে থেকে যেমন আনন্দ উত্তেজনা থাকতো এখন তেমনটা নেই। তবে আমাদের মতো উত্তেজনা এখনকার বাচ্চাদের মধ্যেও দেখা যায় না। তখনকার দিনে পাড়ার একটা মাত্র রথ টানতে যেত। তাতে আনন্দ ছিল অনেক বেশি। আমরা কি মজাই না পেতাম দিন গুলোতে।কিন্তু এখন সমস্ত বাচ্চাদের ঘরে ঘরে তার মায়েরা সাজিয়ে দেয় রথ ঘোরাবার জন্য। তাই আমার মনে হয় রথে এখনকার বাচ্চাদের সেই উত্তেজনাটা আর দেখা যায় না।

IMG20260716201339.jpg

আমাদের ছোটবেলাতে দিদা, মামা ,দাদু দশ টাকা পাঁচ টাকা কেউ আবার কুড়ি টাকা এইভাবে পয়সা দিত রথ দেখার জন্য। রথ উপলক্ষে বেশ কয়েক টা টাকা জমে যেত। আমাদের সমবয়সী সকলে মিলে বাড়িতে থেকেই হিসেব করতাম কি কি খাব ।আসলে তখনকার দিনে জিনিসপত্রের দাম অনেকটাই কম ছিল। তবুও যেন একটা দামী জিনিস কিনতে গেলে আমরা আটকে যেতাম। কারণ ছোট থেকেই অভাব কষ্ট কি জিনিস সেটা দেখেই বড় হয়েছি। যেটা এখনকার বাচ্চাদের মধ্যে দেখা যায় না। এখন সমস্ত কিছুই পেরিয়ে এসেছি। তাই রথ দেখার কিংবা দেখতে যাবার ইচ্ছে হয় না। বাড়িতে থাকাকালীন পাড়ার সমস্ত বাচ্চারা দেখছিলাম একটা করে রথ নিয়ে বেরিয়েছে। এক পাড়া থেকে অন্য পাড়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছিল।

IMG20260716201126.jpg

পাড়ার যতগুলো বাচ্চা রয়েছে প্রত্যেকেই একটা করে রথ টেনে নিয়ে বেড়াচ্ছিল। আমাদের সময় সন্ধ্যা হলেই সমবয়সী বেশ কয়েকজন একজোট হয়ে রথ দেখতে বেরিয়ে পড়তাম। তবে নিজেদের মধ্যে রথ টেনে নিয়ে বেড়ানো কোন ব্যাপার ছিল না। মেলাতে গিয়ে প্রথমে রথের দড়ি ধরে টানতাম। এতেই ছিল অনেক আনন্দ। যাইহোক মামার মেয়ে আগে থেকেই বায়না করে রেখেছিল তাকে নিয়ে রথ দেখতে যাবার জন্য। ছোট থেকেই আমি আমাদের বাড়ির মোড়ের মাথায় যে রথ হয় সেখানে দেখে অভ্যস্ত ।কৃষ্ণনগরে থাকলেও সেই ছোট থেকেই প্ল্যান করি যে আমাদের বাড়ি থেকে আরো খানিকটা দূরে সেখানে রথ দেখতে যাওয়ার। কিন্তু কোনদিনই আমার প্ল্যান সাক্সেসফুল হয়নি। কৃষ্ণনগরে প্রচুর জায়গাতে রথ হয়। ঠিক যেমন অলিতে গলিতে পুজো হয়। রথ ও অনেক জায়গাতেই হয়। গতকালকে বৃষ্টি হবার কথা ছিল কিন্তু গুঁড়িগুঁড়ি কয়েক ফোঁটা বৃষ্টি হওয়ার পর সেভাবে বৃষ্টি হয়নি। কালকের আবহাওয়া বেশ ভালোই গিয়েছিল। ছোটবেলায় রথ মানেই ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি। ছোটবেলাতে আমার মামারা মাটির পুতুল বিক্রি করতে যেত প্রত্যেক বছরই বৃষ্টি হতো। কোন বছর বাদ যেত না।

এ বছরে আকাশে মেঘ থাকলেও এক ফোঁটাও বৃষ্টি হয়নি, গতকাল সন্ধ্যাবেলায় আমি আর বোন দুজনের রেডি হয়ে বেরিয়ে পড়েছিলাম পোস্ট অফিসের মোড়ে রথ দেখতে যাব বলে। কয়েক ফোঁটা বৃষ্টি পড়ছিল। তবুও দুই বোন মিলেই চলে গিয়েছিলাম। আমি কোনদিন এর আগে কখনো পোস্ট অফিসের মোড়ে রথ দেখতে যাইনি। এই প্রথমবার বোনের বায়না মেটাতে যাওয়া। যাবার সময় দুই বোন মিলে হেঁটে হেঁটে চলে গিয়েছিলাম। সঠিক কোন জায়গাতে হয় আমি সেটাও জানতাম না। শুধু জানতাম পোস্ট অফিসের মোড়ে রথ হয়। যাইহোক হাঁটতে হাঁটতে গিয়ে দেখি সে তো প্রচুর ভিড় রথের সামনে যাওয়ার একেবারেই উপায়। এছাড়াও ছোট ছোট বাচ্চারা তাদের সমস্ত রথ নিয়ে হাজির হয়েছিল। পোস্ট অফিসের মোড়ে। যাই হোক এর পরে মুহূর্ত পরের পোস্টে শেয়ার করে নেব।


আজ এইখানে শেষ করছি। আবারো নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল। সকলে ভালো থাকুন ,সুস্থ থাকুন।

Sort:  
Loading...
 3 hours ago 

Thank you 🙏

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.32
JST 0.098
BTC 64091.33
ETH 1842.93
USDT 1.00
SBD 0.38