মানসিক অশান্তিতে কেটে যাওয়া একটা দিন
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলেরই ভালো লাগবে।
আজকে সারাদিন প্রচন্ড বৃষ্টিতে বৃষ্টিতে কেটে গেল। তবে সারাদিন মেঘলা মেঘলা ঠান্ডা ঠান্ডা আবহাওয়া ভীষণ ভালো লাগে।আজকে এই বৃষ্টিমুখর সারাদিনের কিছু কথা আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নেব। বেশ কয়েকদিন ধরেই প্রচণ্ড মানসিক অশান্তিকে ভুগছি। মানুষ বেশ কিছু কারণেই মানসিক অশান্তিতে ভুগতে থাকে। তবে পারিবারিক অশান্তি এক রকম প্রতিবেশীর অশান্তি আরেক রকম। পারিবারিক অশান্তিতে নিজেকে কিছুটা হল সান্ত্বনা দেওয়া যায়। খুব সহজেই মিটেও যাই ।কিন্তু প্রতিবেশীর সাথে ঝামেলা যেন প্রতিনিয়ত চলতেই থাকে।বেশ কিছু পোস্টে আপনাদের মাঝে শেয়ার করেছিলাম আমাদের বাড়ি নির্মাণ করার কথা। সেই নির্মাণ কাজ এখনো সম্পন্ন হয়নি। তবে ভালো কিছু পেতে হলে খারাপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবেই। এটা তো সব বিষয়ে কিংবা সব ক্ষেত্রেই হয়। আমাদের ক্ষেত্রেও ঠিক এরকমটাই হয়েছে। তবে পাড়া-প্রতিবেশী থাকলে ঝামেলা অশান্তি লেগেই থাকে ।তবে এই অশান্তি যখন একদম সবকিছু ছাপিয়ে যাই। তখন মানুষ এমনিতেই মানসিক রোগী হয়ে ওঠে।
আমার শশুর শাশুড়ি স্বামী সকলেই ভীষণ ভালো মানুষ ।তবে আমিও ছোট থেকে মানুষকে খারাপ কথা খারাপ ভাষা ব্যবহার করা একেবারেই অপছন্দ করি। ঝগড়া অশান্তি আমি সমস্তটাই এড়িয়ে চলি। একদমই একা একা অন্যরকম ভাবে অন্যরকম জগতে বড় হয়েছিলাম ।এই সবের সাথে একদমই অভ্যস্ত নয়। তবে পরিবেশের সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিয়েছিলাম । সব জায়গাতে যেমন খারাপ মানুষ থাকে তেমনি ভালো মানুষও থাকে।কিন্তু নিজের নামে যদি কেউ মিথ্যা কথা কিংবা উল্টোপাল্টা ভাষা ব্যবহার করে তাহলে সেইগুলো প্রচন্ড আঘাত লাগে। এই কথাবার্তা নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরে প্রচন্ড মানসিক অশান্তির মধ্যে দিয়েই যাচ্ছি। এখনো কোন সমস্যার সমাধান করা হয়নি। আজকে সকাল বেলায় ঘুম থেকে উঠেই আকাশ মেঘলা মেঘলা ছিল। বাড়িতে মিস্ত্রির কাজ চলছিল ।তখনো বৃষ্টি আসেনি।
সকাল বেলায় ঘুম থেকে উঠেই বেরিয়ে পড়েছিলাম বাড়ির জন্য গ্রিল তৈরি করতে দেওয়া ছিল সেগুলোই আনতে। কারণ আজকেই বাড়িতে গ্রিল গুলো লাগানোর কথা ছিল। বর তখনো ঘুম থেকে ওঠেনি, তাই ওকে আর জোড়াজড়ি করিনি। আমি একাই চলে গিয়েছিলাম। যখন গিয়েছিলাম তখন হালকা রোদ্দুর উঠেছিল। কিন্তু ফেরার পথে শুরু হল ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি। কোথায় দাঁড়াবো ঠিক করে উঠতে পারছিলাম না। তাই একটা দোকানের নিচে দাঁড়িয়ে ছিলাম। খানিকক্ষণ দাঁড়ানোর পর বৃষ্টি থামার নাম নেই। তাই শ্বশুরমশাই কে ফোন করেছিলাম ছাতা নিয়ে যাতে আমাকে একটু এগিয়ে নিয়ে যায়। উনি আস্তে আস্তে এদিকে বৃষ্টি থেমে গিয়েছে। আমিও বাড়ি অব্দি পৌঁছে গিয়েছিলাম।
এদিকে প্রতিবেশীর সাথে যেমন ঝামেলা হয়েছিল সেটার সঠিক বিচারের জন্য দুপুরবেলায় আমি আর শাশুড়ি মা চলে গিয়েছিলাম আমাদের কৃষ্ণনগর মিউনিসিপ্যাল টিতে। আসলে আমি ছোট থেকেই মিথ্যে অপবাদ খারাপ ভাষা একেবারেই সহ্য করতে পারি না। এইসব ভাষা শুনে আমার মাথায় প্রচন্ড যন্ত্রণা শুরু হয়ে গিয়েছিল। মনে হচ্ছিল এই বুঝি এখনই আমার হঠাৎ করেই কিছু হয়ে যাবে। এইরকমই প্রচন্ড অশান্তির মধ্যে দিয়ে আমি যাচ্ছিলাম ।তারই আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আজকে চলে গিয়েছিলাম কৃষ্ণনগর পৌরসভাতে। কিন্তু দুঃখের বিষয় শাশুড়ি মা সমস্ত কাগজপত্র নিয়ে যায়নি ।তাই ওখান থেকে আবার ফিরে আসতে হয়েছিল। এদিকে এত পরিমাণে বৃষ্টি হয়েছে যে পৌরসভার ভিতরে এক হাঁটু করে জল জমে গিয়েছিল।
আমি বৃষ্টি পছন্দ করি। কিন্তু এইভাবে জল জমে গেলে সেই জলের মধ্যে দিয়ে কিংবা বৃষ্টিতে ভিজে উপভোগ করতে আমার একদমই ভালো লাগেনা। ঘরের ভিতর থেকে বৃষ্টি দেখতে ভালোই লাগে। আজকে এই বৃষ্টির দিনটি এই ভাবেই ছুটোছুটি করে কেটে গিয়েছিল। এই ঠান্ডা ঠান্ডা ওয়েদারে কিছুটা হলেও মানসিক শান্তি পেয়েছিলাম। জানিনা কতটা এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাবো। তবে মানুষের কথার আঘাতে একটা মানুষকে মানসিক রোগী বানাতে বেশিক্ষণ সময় লাগে না। মানুষ যখন কথা বলে তখন ভেবে চিন্তে কোন কিছুই বলে না। যাইহোক বাড়ির কাজ যথারীতি চলছে। আশা করি আমি যদি কোন অন্যায় না করে থাকি তাহলে অবশ্যই আমি সুবিচার পাব। আমি আমার মানসিক অশান্তির কিছু কথা আপনাদের মাঝে শেয়ার করে নিলাম।
আজ এইখানেই শেষ করছি। আবারো নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আগামীকাল ।সকলে ভালো থাকুন ,সুস্থ থাকুন।
Thank you 🙏