অসম্পূর্ণ কাজ
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন ?আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে আশা করছি সকলের ভালো লাগবে।
আজ শ্রাবণ মাসে দ্বিতীয় সোমবার। আমি ছোট থেকেই মহাদেবের ভক্ত ।ছোটবেলায় প্রত্যেকদিন স্নান করে মহাদেবের মাথায় জল ঢালতাম। এ বছরে প্রথম সোমবার আমি করতে পারিনি। ইচ্ছে ছিল একেবারে শেষ সোমবার টা ভালোভাবে পালন করবো। আজকে উঠেছি সকাল ছয়টা নাগাদ। সকাল বেলায় ঘুম থেকে উঠে বাইরে পরিবেশটা ভীষণ ভালো লাগছিল । এই সৌভাগ্য আমার কোনদিনই হয় না। কারণ আমি সকাল নটার আগে ঘুম থেকে একদম উঠতেই পারি না। আজকে সকাল থেকে মেঘলা মেঘলা আবহাওয়া ছিল । এইরকম ঠান্ডা ঠান্ডা আবহাওয়ায় যে কোন কাজ করতে খুব ভালো লাগে। সকাল সকাল উঠে বাড়ির সমস্ত কাজকর্ম সেরে নিয়েছিলাম। যেহেতু বেশ কয়েকদিন ধরে শাশুড়ি মা বাড়িতে নেই ।তাই সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠতে হচ্ছে, সকাল বেলায় শ্বশুর মশাই অফিসে যাবে। তাই সমস্ত রান্নাবান্না করাও কমপ্লিট হয়ে গিয়েছিল। এরপর আজকে সকাল বেলাতেই শাশুড়ি মা বাড়ি ফিরে এসেছে। হঠাৎ করে ঈশা বলল বৌদি চলো আজকে মহাদেবের মাথায় জল ঢেলে আসি। আমি কোনমতেই রাজি হচ্ছিলাম না। ও একা একা যাবে বলে আমাকে জোর করছিল।
সকাল থেকে আমি আমার বর কে বলছিলাম শিবের মাথায় জল ঢালতে যাওয়ার জন্য। কিন্তু ও কিছুতেই রাজি হচ্ছিল না। বারবার বলছিল মনের ভক্তি আসল ভক্তি। মন থেকে ভক্তি করলেই সবকিছু ভালো হয়। যাই হোক ওকে রাজি করাতে পারলাম না । শশুর মশাই অফিসে বেরিয়ে যাওয়ার পর আমি ঈশার জন্য খানিকক্ষণ অপেক্ষা করলাম। এরপর ঈশা রেডি হয়ে নিয়েছিল শিবের মাথায় জল ঢালতে যাওয়ার জন্য। আমিও ভেবেছিলাম ঈশা যতক্ষন জোর করছে আমিও যাই গিয়ে একটু জল ঢেলে আসি । কারণ সকাল থেকে আমি না খেয়ে ছিলাম।যাই হোক ও বাড়ি থেকে আমার জন্য সমস্ত কিছু আলাদা আলাদা করে নিয়ে নিয়েছিল। কারণ আমি আগে থেকে প্রস্তুত ছিলাম না বলে কোন কিছু আনা হয়নি পুজোর জন্য।
এরপর দুজনে মিলে চলে গিয়েছিলাম শিবের মন্দিরে। মন্দিরটি আমার মামার বাড়ির সামনে। মন্দিরে গিয়ে দেখি মন্দিরে ভালোই ভিড় রয়েছে। আসলে আগেকার দিনে এত ভিড় হতে কোনদিন দেখিনি। ছোটবেলায় এই শ্রাবণ মাসের দিনগুলোতে প্রত্যেক সোমবারে মন্দিরে কাটিয়ে দিতাম। পাড়ার যত সমবয়সী ছেলেমেয়ে আছে সকলে স্কুল থেকে আসার পর নেওয়া খাওয়া বন্ধ করে মন্দিরেই বসে থাকতাম। সে যেন এক অন্যরকম আনন্দ।যত দিন যাচ্ছে মানুষের পুজোর প্রতি আগ্রহ আরো বেড়ে চলেছে। ছোট থেকে বড় সকলেই লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছে ।আমিও ঈশার সাথে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। এরপর হঠাৎ মনে হল অনেক ভিড় রয়েছে তাই গিয়েছিলাম দিদার সাথে একটু দেখা করতে। গিয়ে দেখি দিদা সবজি কাটছিল। সবজি কাটতে কাটতে হঠাৎই কিভাবে মাথা ঘুরে বটির ওপর পড়ে গেছে। ছোট মামা আর বড়ো মামি মিলে দিদাকে নিয়ে ব্যস্ত ।ওই দেখে তো আমারও মাথায় হাত। যাইহোক তেমন কোন ক্ষতি হয়নি ।শুধু হাতের আঙুলটা অনেকটা কেটে গেছে। বেশ কয়েকদিন ধরেই দিদার শরীরটা একদম ভালো যাচ্ছে না।
এইরকম অবস্থা দেখে আর পুজো দিতে একদমই মন চাইলো না। তাই ঈশা একা একাই পুজো দিয়েছিল। আসলে আসলে ভাগ্যে না থাকলে কোন কাজ সম্ভব নয়। ভগবান চাইনি তাই আমি ওনার কাছ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারিনি। যাইহোক আজকে ভীষণ মন খারাপ নিয়ে দিনটি কাটিয়েছি। নিজের প্রিয় মানুষের সাথে কোন বিপদ ঘটলে সারাদিন একদমই ভালো লাগে না। বিকেল বেলায় গিয়েছিলাম মহাদেবের দর্শনের জন্য। বিকেল বেলায় খানিকক্ষণ দাঁড়িয়ে সন্ধ্যা আরতি দেখে এরপর চলে এসেছিলাম বাড়িতে। এই প্রথমবার পূজো দিতে গিয়ে আমি মন্দিরের প্রাঙ্গণ থেকে ঘুরে এসেছি। আজকের পুজো দেওয়া অসম্পূর্ণ থেকে গেল। ইচ্ছে আছে সে সোমবার পালন করব।
আজ এইখানেই শেষ করছি। আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হব আপনাদের মাঝে। সকলে ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।
SPOT-LIGHT TEAM: Your post has been voted from the steemcurator07 account.