ঘেট কুল পাতা ভর্তা রেসিপি
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন?আশা করি সকলেই ভালো আছেন।আজকে আবারও নতুন একটা রেসিপি নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে । আশা করি সকলেরই ভালো লাগবে।
আজকে আপনাদের মাঝে শেয়ার করব ঘেট কুল পাতা ভর্তা রেসিপি। এটি এক রকমের কচুর শাক। এই কচু পাতাগুলি দেখতে অনেকটা তিনকোনা আকৃতির হয়। মাঝখান দিয়ে পাতা চেরা থাকে। এই পাতার রং গারো সবুজ আর ডাটিটা অনেকটা খয়রি রঙের হয়। লাল রংয়ের ফুল হয় ।ফুল দেখতে অনেকটা লেখার কলমের মতো। এই গাছগুলো বাড়ির আশেপাশে, জঙ্গলে ঝোপে ঝাড়ে সব জায়গাতেই দেখা যায়। বিশেষ করে এই বর্ষার আগে আগে গাছগুলো জন্মাতে দেখতে পাওয়া যায়। এই পাতাকে একেক জায়গায় অনেকে একেক নামে চেনে ।যেমন -খার খোল, ঘাটকোল, ঘ্যাটকুল,ঘেট কুল। আমি ছোট থেকেই এই পাতাকে ঘেটকুল নামে চিনে এসেছি ।তাই আমি এখানে ঘেট কুলপাতা বলেই উল্লেখ করছি।
এই পাতার প্রচুর গুন রয়েছে। এই পাতা খেলে শরীরে অনেক রোগ সেরে যায়। এই পাতাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন সি ইত্যাদি। অনেকের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থাকলে এই পাতা খেলে তাদের এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এই পাতা ত্বকের পক্ষে খুবই উপকারী। এই পাতা চাষ করা হয় না আপনা আপনি জন্মায়। সুন্দর করে রান্না করলে খেতেও খুব সুস্বাদু লাগে। প্রত্যেক বছর আমার বাড়ির বাগানে ঘেটকুলপাতা জন্মায়। বেশ অনেকগুলো করে ঘেট কুল গাছ আপনা আপনি বের হয়। তাই আমরা বাড়ির বাগান থেকেই তুলে তুলে খাই ।একবার গোড়া থেকে কেটে নিলে আবারো সেখান থেকে নতুন গাছ জন্মায়। এ বছরে ভেবেছিলাম শ্বশুরবাড়িতে রান্না করে খাব । শ্বশুর বাড়িতে লোকেরা কোনদিন গেটকুল পাতা সেভাবে খায়নি। আমি বাড়িতে না থাকার কারণে শাশুড়ি মা বাগানে জঙ্গল হচ্ছে দেখে। গাছগুলো কেটে মামার বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছিল। আমি মামার বাড়িতে রয়েছি তাই।তাই এবার মামার বাড়িতে রেসিপি টি তৈরী করেছিলাম। ছোট থেকেই দিদার হাতে তৈরি ঘেট কুল পাতা,ডাটি সমস্ত কিছু খেয়েছি। আমার খেতে খুব ভালো লাগে।যাইহোক চলুন তাহলে শুরু করি গেট গোল পাতা ভর্তা রেসিপি।
| নং | সামগ্রী | পরিমাণ |
|---|---|---|
| ১ | ঘেট কুল পাতা | পরিমাণ মতো |
| ২ | কাঁচা লঙ্কা | পরিমাণ মতো |
| ৩ | রসুন | পরিমাণ মতো |
| ৪ | কালোজিরা | সামান্য |
| ৫ | সাদা তেল | পরিমাণ মতো |
প্রথম ধাপ
প্রথমে পরিমাণ মতো ঘেটকুল পাতা নিয়ে নিয়েছি। পাতাগুলো যেহেতু বাগানে ঝোপে ঝাড়ে হয় ।তাই ডাঁটি থেকে পাতাগুলো কেটে খুব ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে।
দ্বিতীয় ধাপ
এরপরে পাতাগুলো জল ঝরিয়ে নিয়ে শাকের মতো করে টুকরো টুকরো করে কেটে নিতে হবে।
তৃতীয় ধাপ
এরপরে গ্যাস অন করে একটা কড়াই বসিয়ে দিয়েছি। কড়াইতে কেটে রাখা ঘেট কুল পাতাগুলো দিয়ে একটু সিদ্ধ করে নিতে হবে। সিদ্ধ করবার জন্য কোন কিছুই ব্যবহার করিনি। এখানে পাতা থেকেই জল বের হবে। ঢাকা দিয়ে সিদ্ধ করতে হবে।
চতুর্থ ধাপ
জল শুকিয়ে আসলে কড়াই থেকে একটা পাত্রে নামিয়ে নিতে হবে। এবারে পরিমাণ মতো রসুন আর লঙ্কা অ্যাড করতে হবে।
পঞ্চম ধাপ
এবারে সমস্ত কিছু মিক্সচার মেশিনের মধ্যে দিয়ে দিয়েছি, এর সাথে খানিকটা লবন অ্যাড করে দিয়েছি দিয়ে ভালো করে পেস্ট করে নিতে হবে। এখানে সামান্য পরিমাণে জল এড করতে হবে।
ষষ্ঠ ধাপ
খুব ভালো করে মিহি করে পেস্ট করতে হবে। পেস্ট হয়ে গেলে গ্যাস অন করে আবারও একটা কড়াই বসিয়ে দিয়েছি। কড়াইতে দিয়ে দিয়েছি সামান্য সাদা তেল আর সামান্য পরিমাণে কালোজিরা। আপনারা চাইলে সরষের তেল ব্যবহার করতে পারেন।
সপ্তম ধাপ
এরপর পেস্ট করে রাখা ঘেট কুল পাতা কড়াইতে দিয়ে নাড়াচাড়া করতে হবে।
অষ্টম ধাপ
যতক্ষণ না পাতার রস শুকিয়ে আসছে ততক্ষণ কড়াইতে নাড়াচাড়া করতে হবে।
তৈরী
ঘেট কুল পাতা বাটা যখন শুকনো হয়ে আসবে তখন কড়াই থেকে নামিয়ে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে ঘেট কুল পাতা ভর্তা রেসিপি।
এই রেসিপিটি খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু লাগে। অল্প একটুখানি পাতা বাটা নিয়ে এক থালা ভাত খাওয়া হয়ে যায়। রেসিপিটি তৈরি করতে তেমন কোন উপকরন লাগে না। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই রেসিপিটি তৈরি হয়ে যায়। তবে আপনারা চাইলে শিলনোড়া দিয়ে বেটে নিতে পারেন ।খেতে আরও স্বাদ লাগবে। যখন খুব রোদ হয়। তখন এই পাতা,ডাটি দুটোই তুলে খেতে হয়। যখন দেখবেন প্রচন্ড বৃষ্টি হচ্ছে বৃষ্টির মধ্যে তুলে খেলে অনেক সময় গলা ধরে। গলা ধরলে আপনারা পাতি লেবু ব্যবহার করতে পারেন। লেবু খেলে গলা ধরা সেরে যায়। আমি আমাদের বাগানে যতটুকুনি ঘেট কুল পাতা হয়েছিল সেইটুকুই ব্যবহার করেছি ।তাই কোন কিছুরই পরিমাণ আমি উপকরণে লিখিনি। শুধুমাত্র কি কি লেগেছে এই উপকরণ গুলো আপনাদের মাঝে শেয়ার করলাম। কাঁচা লঙ্কা, রসুন, তেল সবকিছু একটু পরিমাণ মতো দিতে হবে। একটু ঝাল হলে খেতে আরো ভালো লাগে।
আজ এই পর্যন্তই। আবার নতুন কোন রেসিপি নিয়ে হাজির হব আপনাদের মাঝে।
আমরা এই পাতাকে খারকোন পাতা বলে থাকি। তবে অন্য অঞ্চলে কি বলে সেটা অবশ্য আমি জানি না। আমার মা জীবিত থাকতে এই পাতার ভর্তা শেষ খেয়েছি আমি। খুব প্রিয় একটা ভর্তা আমার। চমৎকার এই রেসিপি শেয়ার করার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
থানকুনির পাতার ভর্তাটা আসলেই অনেক চমৎকার লাগে খেতে এই পাতার ভর্তাটাতে কাঁঠালের বিচি ও কালোজিরে দিয়ে ভর্তা বানালে খেতে অনেক মজা লাগে আমাদের গ্রাম অঞ্চলে এ পাতাগুলো অনেক দেখা যায়। হেতে যেমন মজা ভর্তা বানাতেও ঠিক তেমনি কঠিন এই সুন্দর ভর্তার রেসিপি টি আমাদের মাঝে শেয়ার করবার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে
এই পাতা কে আমাদের এখানে খারকোন পাতা বলা হয়ে থাকে এই পাতার ভর্তা কিন্তু খেতে অনেক বেশি মজা তবে আমাদের এখানে শিল পাটার মধ্যে মাছ দিয়ে এই পাতার ভর্তা তৈরি করা হয়ে থাকে মাছ দিয়ে যখন তৈরি করা হয় তখন কিন্তু খেতে অসাধারণ লাগে বিশেষ করে মশারী ডাল আরেকটু ভর্তা হলে খাবার একেবারেই শেষ অসংখ্য ধন্যবাদ চমৎকার ভর্তা তৈরি করার পদ্ধতি আমাদের সাথে তুলে ধরার জন্য ভালো থাকবেন।