জন্মদিনে দুপুরবেলায় আয়োজন
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন ?আশা করছি সকলেই ভালো আছেন। আজকে আবারো নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে। আশা করছি সকলেই ভালো লাগবে।
গত কালকের পোস্টে বরকে জন্মদিনের সারপ্রাইজ দেওয়ার সমস্ত মুহূর্ত টাই আপনাদের মাঝে শেয়ার করেছি। আজকে শেয়ার করব জন্মদিনে দুপুরবেলায় আয়োজন। প্রত্যেক বছর শাশুড়ি মা বরের জন্মদিনের দিনে বাবা লোকনাথের মন্দিরে পুজো দিতে যান। প্রতিবছরের মতো এ বছরেও ছেলের নামে চলে গিয়েছিলেন মন্দিরে পুজো দিতে। এরপরে সমস্ত আয়োজন উনি নিজের হাতেই করেন। যত টুকুনি পারেন সেই টুকুনি চেষ্টা করেন। আমি কোন বছরেই সেভাবে কিছু করি না। তবে এ বছরে একটু ইচ্ছে ছিল কয়েকজনকে বলার। কিন্তু যাদের বলব তারাও সকলে ব্যস্ত ছিল। তাই সেভাবে পালন করার একদমই ইচ্ছে হয়নি। তবে শাশুড়ি মায়ের হাতে হাতে সমস্ত কাজে আমি আর আমার বোন দুজন মিলে সাহায্য করেছিলাম। আমার শাশুড়ির মতো সব ছেলের মায়েরাই হয়তো ছেলের জন্মদিন নিয়ে একটু বেশি মাতামাতি করে।
এবছরের জন্মদিন পড়েছিল শনিবার দিন। আমরা শনিবার দিন নিরামিষ খায়।তাই নিরামিষ এর দিনে বিভিন্ন পদ রান্নাবান্না করেছিলাম। তবে আমিষ এর দিনে পড়লে সুবিধা হয়। বেশি পদ রান্না করতে হয় না। আমার যেমন জন্মদিনের দিন ভীষণ আনন্দ হয়। অনেক প্ল্যান থাকে ।আমার বরের তেমন কোন কিছুই থাকে না। তবুও তাকে খুশি করার জন্যই আমাদের ছোট্ট আয়োজন ছিল। আমার বোনকে আটকে রেখেছিলাম জন্মদিনের নিমন্ত্রণ খাওয়ার জন্য। আমার বোন আর মামার মেয়ে এই দুইজনকে নিমন্তন্ন করা হয়েছিল। সকাল থেকেই রান্নাবান্না শুরু হয়ে গিয়েছিল রান্নাবান্না শেষ করার পর যখন খেতে দেওয়া হবে তখন আমার বরের বায়না তার সেজ কাকার ছেলেকে নিয়ে আসার জন্য।
আমাদের বাড়ি থেকে খানিকটা দূরে ওরা থাকে। ও নিজেই চলে গিয়েছিল ওর কাকার ছেলেকে আনার জন্য। সেও রীতিমতো রেডি হয়ে দেখছি চলে এসেছে। সে জানতো না যে সেদিন তার দাদার জন্মদিন। আমাদের বাড়িতে এসে যখন জানতে পারলো তখন খুব রাগারাগি করছিল। দাদা যেমন ভাইকে ভালোবাসে তেমনি ভাই ও দাদাকে ভীষণ ভালোবাসে। সব দাদা ভাই কিংবা বোন সকলের সম্পর্ক যেন এই রকমই। আমার অনেক দিনের ইচ্ছে ছিল জন্মদিন কিংবা আইবুড়ো ভাত কাউকে যখন খাওয়াবো খুব সুন্দর করে সাজিয়ে গুজিয়ে খাব। কিন্তু এবার আমার বরের জন্মদিনে খুব সুন্দর করে ফুল দিয়ে আমি সাজিয়েছিলাম। আমারও অনেক দিনের ইচ্ছে পূরণ হল।
তবে আমি খুব ভালো পারি না, যত টুকুনই পেরেছি চেষ্টা করেছিলাম। আমার সমস্ত আয়োজন দেখে শাশুড়ি মা ভীষণ খুশি হয়েছিল ।শ্বশুরমশাই মজা করে তো বলেই ফেলল আমার জন্মদিনে তো কেউ এইরকম করে সাজিয়ে দেয় না। দুপুরবেলায় মেনুতে ছিল সাদা ভাত, ভেজ ডাল, আলুভাজা, শিম ভাজা ,কুমড়ো ভাজা, শাক ভাজা, পাপড় ভাজা, ফুলকপি ভাজা, এছাড়াও রাইস ,পনিরের তরকারি, আলুর দম ,চাটনি, মিষ্টি ,দই , পায়েস ,স্যালাড এই ছিল আমাদের আয়োজন। শাশুড়ি মাকে একটা জিনিস দেখেছি শাশুড়ি মা ছেলেকে জন্মদিনের দিন কোনদিন আশীর্বাদ করেন না ।আমার দিদাকে দেখতাম যখন মামাদের জন্মদিনের দিন খেতে দিত মামাদের ধান, দূর্বা দিয়ে আশীর্বাদ করতো।
তবে জন্মদিনের দিনের ছিল বাংলাদেশের সাথে ইন্ডিয়ার ম্যাচ বর খাওয়ার সময় খাবার থেকেও ভারত আর বাংলাদেশের ম্যাচ দেখতেই ব্যস্ত ছিল। যাইহোক সকলে মিলে বরের জন্মদিনের দিন টা খুব ভালোভাবেই কাটিয়েছিলাম। এই ছোট ছোট মুহূর্ত গুলোই আমাদের স্মৃতি হয়ে থাকবে।
আজ এইখানেই শেষ করছি।আবার নতুন কোন গল্প নিয়ে হাজির হব আপনাদের মাঝে।
আগের দিনকে রাতে আপনারা সবাই চমকে দিয়ে আপনার হাসবেন্ডের জন্মদিন পালন করেছেন পরের দিন দুপুরে আবার তার জন্য খাবারের আয়োজন করেছেন যেহেতু আপনার শনিবারে নিরামিষ খেয়ে থাকেন তাই সবার জন্যই নিরামিষ তৈরি করেছেন। যাদেরকে নিমন্ত্রণ করেছেন তারা অনেক বেশি ব্যস্ত তাই কেউই আসতে পারেনি তবে আপনার শ্বশুর মজা করতে গিয়ে আপনাদেরকে একটা কথা কিন্তু বলে দিয়েছে অবশ্যই উনার জন্মদিনে উনাকে একটু জামাই আদর করা চেষ্টা করবেন অসংখ্য ধন্যবাদ জন্মদিনের দুপুরে আয়োজন করার মুহূর্তটা আমাদের সাথে উপস্থাপন করার জন্য ভালো থাকবেন।