সরস্বতী পূজায় আয়োজিত অনুষ্ঠান দেখতে যাওয়ার মূহুর্ত
নমস্কার বন্ধুরা, সকলে কেমন আছেন? আশা করছি সকলেই ভালো আছেন ।আজকে নতুন একটা পোস্ট নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের মাঝে।
এর আগে পরপর দুটো পোস্টে আমি সরস্বতী ঠাকুর দেখার মুহূর্ত আপনাদের মাঝে শেয়ার করেছি। আজকে শেয়ার করব মাঝরাতে সরস্বতী পূজার অনুষ্ঠান দেখতে যাবার মুহূর্ত। রাতের বেলায় ঠাকুর দেখতে যাওয়া নতুন কিছু নয়। তবে সরস্বতী ঠাকুর কোন দিন বেশী রাতে দেখা হয় না।দ্বিতীয় দিন সরস্বতী ঠাকুর দেখে খুব তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে এসেছিলাম। সমস্ত কিছু আগের পোস্টে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করে নিয়েছি। দ্বিতীয় দিন ঠাকুর দেখতে গিয়ে একটু অসুস্থতা বোধ করছিলাম। তাই বাড়িতে এসে ফ্রেশ হয়ে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। কিন্তু ওই যে আমার বরের রাত না হলে কোথাও বেরোতে ইচ্ছে করে না। না গেলে আবার রাগারাগি করে। কৃষ্ণনগরে সরস্বতী ঠাকুর এখন জগদ্ধাত্রী ঠাকুরের সমান হয়ে গেছে। জগদ্ধাত্রী ঠাকুরের থেকেও অধিক পরিমাণে বেশি সরস্বতী পূজা হয়। এবছরে আমার বর দুই থেকে তিনটে বারোয়ারী তে পুজো নিয়ে মাতামাতি করেছিল।
আমাদের বাড়ি থেকে খানিকটা দূরে সেখানকার ছোট ছোট ছেলেরা সরস্বতী পূজা করেছিল। ছোট বলতে আমার বরের থেকে বয়সে ছোট হবে। সেখানে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল ।সেখান থেকেই সকলের ফোন করছিল আমার বরকে অনুষ্ঠান দেখতে আসার জন্য। তখন বাজে রাত সাড়ে এগারোটা। আমার তো একদম যেতে ইচ্ছে করছিল না। কিন্তু উনি রেডি হয়ে আমার কানের কাছে বকবক করতে শুরু করে দিল। শেষে অনিচ্ছা সত্ত্বেও বাধ্য হয়ে কোনো রকমে রেডি হয়ে গিয়েছিলাম অনুষ্ঠান দেখার জন্য। রাস্তাতে তো কোন মানুষ নেই। শুধু পাড়ার মোড়ে মোড়ে কুকুর ,বিড়াল, এছাড়াও রাতের বেলায় ষাঁড়, গরু এই সবই ঘুরে বেড়াচ্ছে।
কিন্তু যেখানে অনুষ্ঠান হচ্ছে সেই ক্লাবে পৌঁছানোর সাথে সাথে দেখলাম অনেক মানুষের জমজমাট। সেখানে বাইরে থেকে গানের শিল্পী এনে অনুষ্ঠান চলছে। একজন মহিলা গান গাইছে আর পাড়ার ছেলেরা, মেয়ে, বউ সকলেই নাচানাচি করছে। আমি যাবার সময় মামার বাড়ি থেকে বোনকে ঘুম থেকে তুলে সাথে নিয়ে গিয়েছিলাম। বোন কোনরকমে রেডি হয়ে গিয়েছিল। বোন ও একদম যেতে চাইছিল না। জোর করে আমি নিয়ে গিয়েছিলাম।রাতের বেলায় বাইরে ভালোই ঠান্ডা ছিল। ঘরে থেকে ঠান্ডা বোঝাই যায় না। তিনজনে মিলে গিয়ে বেশ খানিকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে অনুষ্ঠান উপভোগ করছিলাম। আমার ও ইচ্ছা হচ্ছিল নিজেদের পাড়ায় যদি এরকম অনুষ্ঠান হতো আমরাও একটু মাতামাতি করতে পারতাম। ছোট ছোট ছেলেদের এত আয়োজন দেখে খুব ভালো লাগছিল।পূজো তে প্রচুর টাকা খরচ করেছে। খুব সুন্দর লাইটিং করেছিল।
কিন্তু এত কিছু করে মন্ডপে ঠাকুর একা একা পড়ে রয়েছে ।সবাই আনন্দ করতেই ব্যস্ত। সেখান থেকে চলে গিয়েছিলাম পাশের আরেক জায়গায় ঠাকুর দেখতে ।সেখানে তো পুরো জনমানবহীন কোন মানুষ নেই। রাস্তার ধারে মন্ডপে শুধুমাত্র ঠাকুর পড়ে রয়েছে। রাস্তার পাশ দিয়ে বড় বড় গাড়ি যাচ্ছে দমকা হাওয়াতে মনে হচ্ছে প্যান্ডেল কেঁপে উঠছে। রাস্তাতে বড় বড় গাড়ি ছাড়া আর কোন কিছুই ছিল না। দূরে থেকে মনে হচ্ছে হালকা কুয়াশায় সবকিছু ঢেকে গেছে। সেখানেও খানিকক্ষণ সময় কাটানোর পর আবারো তিনজন মিলে বাড়ি ফিরে এসেছিলাম ।বাড়ি ফেরার পথে মামার বাড়ির সামনে যে পূজো হয় সেখানে খানিকক্ষণ সকলের নাচানাচি দেখছিলাম।ওখান থেকে বোনকে মামার বাড়িতে রেখে নিজেরা রাত ১ টা নাগাদ বাড়ি ফিরেছিলাম।
আজ এইখানেই শেষ করছি। আবার নতুন কোন পোস্ট নিয়ে হাজির হব আপনাদের মাঝে।
প্রতিটা আনন্দকে ঘিরেই আমরা চেষ্টা করি একটু অন্যরকম ভাবে কাটিয়ে তুলতে নিজেদের সময়টাকে তাই আপনাদের পাড়ার ছোট ছোট ছেলেরা এই আনন্দটাকে ধরে রাখার জন্য নিজের একটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে যেখানে আপনারা গিয়েছেন এবং সরস্বতী পূজার উপলক্ষে তারা কি কি আয়োজন করেছে সেটা দেখার চেষ্টা করেছেন বেশ ভালই লাগে। আপনার বোনসহ আপনি আনন্দ উপভোগ করেছেন দেখে ভালো লাগলো অসংখ্য ধন্যবাদ ভাল থাকবেন।
আপনার অভিজ্ঞতা পড়তে বেশ ভালো লাগলো। সরস্বতী পূজা রাতের এই আয়োজনে যে মুহূর্তগুলো কাটিয়েছেন, তা সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। মাঝরাতে বেরোনোর অনীহা থাকা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত গিয়ে পরিবেশ উপভোগ করাটা বেশ মজার লেগেছে আমার কাছে। তবে ঠাকুর একা পড়ে থাকার বিষয়টি একটু ভাবনার, কারণ মূল উদ্দেশ্যটা যেন হারিয়ে যাচ্ছে। আপনার পোস্টটা বেশ সুন্দর ছিল শুভকামনা রইল।