গাছের সাথে নতুন প্রজন্মের বন্ধন: ও ভালোবাসা
আসসালামু আলাইকুম। আশাকরছি সবাই ভালো আছেন, আমিও আলহামদুলিল্লাহ্ ভালো আছি। ইন্ডিয়ান বাসী, বাংলাদেশ বাসী,ও ইনক্রিডিবল ইন্ডিয়া কমিউনিটির সবাইকে জানাই, আমার পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও সবার প্রতি আমার ভালবাসা রইল।
আপনারা সবাই জানেন, গাছ আমাদের কতটা প্রয়োজন! জীবনের জন্য গাছের ভূমিকা অপরসিম! যা বলে বোঝানো যাবে না। আজকে সকালবেলা ঘুম থেকে উঠি সকাল ৯ টার দিকে, ওঠার পর ফ্রেশ হলাম নাস্তা খেলাম। এরপর থেকেই আমার ভাগ্নি আর আমার ভাতিজা ওরা দুইজন একসাথে মিলে আমার কাছে এসে মজা চাচ্ছে।
মজার জন্য অনেক কান্নাকাটি করছে! কিন্তু চোখ দিয়ে তো একফোঁটা পানি বের হচ্ছে না! এটা শুধু অভিনয়, আমি ব্যাপারটা বুঝে গেলাম, কিন্তু আমি এটাও বুঝলাম। আমি যদি ওদেরকে মজা না কিনে দেই, তাহলে আমি ঘরে থাকতে পারবো না। পরে আর কি করবো মজা কেনার উদ্দেশ্যে, ওদেরকে নিয়ে বাসার থেকে বের হলাম।
ঢাকা শহরে বেশিরভাগ সময় রাস্তায় ভ্যান গাড়িতে করে ফুল গাছ বিক্রি করে। এই বিষয়টা সচরাচর দেখা যায়। আমার ভাতিজা আর ভাগ্নি এখন রাস্তায় কান্নাকাটি করছে, ওদেরকে ফুল গাছ কিনে দিতে হবে। ওরা মজা খাবে না, ওরা ফুল গাছ কিনবে। আমি বাসায় থেকে তেমন টাকা নিয়ে বের হয়নি। এখন আমার ভাতিজা আর ভাগ্নি ওরা দুইটা ফুল গাছ কিনবে। পরে আমি ওদের দুজনকেই মানিয়ে নিলাম একটি গাছ দিয়ে।
পরে ওদের পছন্দের মত একটি গাধা ফুলের গাছ ৫০ টাকা দিয়ে কিনলাম, কিনার পর বাসায় নিয়ে আসলাম। ওরা দুইজন খুশিতে আত্মহারা এবং গাছ লাগাবে এই বলে আমার ভাগ্নি ওর এক বান্ধবীরে বাসায় নিয়ে আসছে ,
পরে আমি চিন্তা করলাম; গাছটি আমি লাগাবো না,ওদেরকে দিয়ে গাছটা লাগাবো। ওদের স্মৃতি বা ভালোবাসা মাঝেই বেঁচে থাকবে এই গাছটি। কিন্তু মাটি তো ওরা আনতে পারবে না। মাটিটা আমি সংগ্রহ করে দিলাম, অনেক দূর থেকে মাটি আনলাম। মাটি আনার পর ওদেরকে বললাম এই মাটির তলা গুলো ভাঙতে হবে।
প্রথমে বড়-বড় মাটিগুলো দলাগুলো গুর করতে হবে। এই বিষয়টিও লক্ষ্য রাখতে হবে, মাটিতে যেন কোন পলিথিন কোন ময়লা না থাকে। তারা খুশি মনে মাটিগুলো গুর করতাছে! যা দেখে অনেক ভালো লাগলো।
মাটি গুলোর দলা সম্পূর্ণভাবে গুড়ো হয়ে গেলে! তা পানি দিতে হবে। আমার ভাগ্নি আমার ভাতিজা তারাই সর্বপ্রথম মাটির দলা গুর করে পানি দিচ্ছে।
এখন মাটিগুলোর সাথে খুব ভালোভাবে জৈব সার মিশাতে হবে। আমাদের বাসায় কিছু জৈব সার ছিল। তারা যখন এই জৈব সার মাটিতে মিশাচ্ছে! তখন আমি তাদেরকে বললাম, জৈব সারের সম্পর্কে কিছু বললাম। সারগুলি হচ্ছে গাছের জন্য খাদ্য ও শক্তি। যা গাছকে দ্রুত ভাবে বেড়ে
উঠার সাহায্য করে!
মাটি আর সারগুলো একসাথে করে ভালোভাবে মিশিয়ে রৌদ্রে কিছুক্ষণ রেখে দিতে হবে। কেননা অতিরিক্ত কাদা পানি হয়ে গেলে, গাছের সমস্যা হবে।
পঞ্চম ধাপে গাছের নিচে কিছু গুড়ামাটি এবং আরো কিছু জৈব সার দিয়ে দিলাম, এবং সবার হাত দিয়ে গাছটি রোপন করলাম।
আপনারা ছবিতে যে তিনটি বাচ্চা দেখছেন। তাদের জীবনের সর্বপ্রথম একটি গাছ রোপন করছে। তাদের আনন্দ দেখে আমিও অনেক আনন্দে ছিলাম, এবং তাদের স্মৃতি হিসাবে কিছু ছবি তাদের সাথে তুললাম! হয়তো সময়ের পরিবর্তনে যখন তারা বড় হবে, এই ছবিগুলি দেখবে। জীবনের প্রথম গাছ লাগানোর অনুভূতি কেমন ছিল তা বুঝবে!
আমি এই ভাবেই আমার নতুন প্রজন্মকে গাছের প্রতি ভালোবাসা এবং গাছকে কিভাবে পরিচর্যা করতে হয়! গাছকে কি ভাবে রোপন করতে হয়, আমি শিখাইলাম। তাদের এই স্মৃতিগুলো আমার সব সময় মনে থাকবে।
আমার যদি কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকে। সবাই ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন। ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন, আল্লাহ হাফেজ।
আমি বলব আপনার ভাগ্নি ও ভাতিজা দেখতে অনেক কিউট।।। আজকাল ছোট বাচ্চারা অনেক ট্যালেন্টফুল তারা জানে কিভাবে মজা আদায় করতে হয়।।
আর একটা জিনিস দেখে অনেক ভালো লাগলো তারা মাটির নিয়ে খুব সুন্দর ভাবে গুরা করতে ছিল। আবার সেখানে একটা ফুল গাছ লাগিয়েছে দেখে অনেক ভালো লাগলো আর শৈশবের কথাও মনে হল।।
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই। সুন্দর একটি মন্তব্য করার জন্য।
গাছ আমাদের পরিবেশে ভারসাম্য রক্ষায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বর্তমানে আমাদের সবুজ শ্যামলে ভারা দেশ কেমন বিলীন হয়ে যাচ্ছে। মানুষ প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে গাছপালা কাটছে। যার ফলে আমাদের পরিবেশে তার ভারসাম্য হারাচ্ছে। তবে আপনার ভাগ্নি ও ভাতিজার গাছ লাগানো দেখে বেশ ভালো লাগলো। এভাবেই আমাদের স্বাস্থ্য প্রচেষ্টায় পরিবেশ আবারো পুরোনো রুপে ফিরে আসবে।
আপনার কষ্টের পরে দাদা বেশ ভালো লাগলো। ভালো থাকবেন দাদা।
আমার পোস্টটি সম্পূর্ণ পড়ার জন্য, আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ দাদা।
নতুন প্রজন্মকে আপনি মজা না কিনে দিয়ে একটা গাছ কিনে দিয়েছেন এটা হচ্ছে সবচাইতে ভালো সিদ্ধান্ত আসলে বর্তমান সময়ে ছোট ছোট বাচ্চারা মজা কিনে খাওয়ার জন্য অনেক ধরনের বায়না করে আপনার ঘরের সদস্যরাও ঠিক তাই করেছে।
তবে আপনি ভাল একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ফুল গাছ কিনে দিয়েছেন এতে করে তারা যেমন অনেক বেশি আনন্দ করেছে ঠিক তেমনি আবারও একটা অক্সিজেন আপনাদের বাড়িতে চলে আসলো অসংখ্য ধন্যবাদ এত সুন্দর একটা উদ্যোগ নেয়ার জন্য ভালো থাকবেন।
অনেক ধন্যবাদ, এত সুন্দর একটা মন্তব্য করার জন্য, আপু
আপনার এই উদ্যোগটি সত্যিই প্রশংসনীয়। নতুন প্রজন্মকে গাছের প্রতি ভালোবাসা এবং পরিচর্যার গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেওয়া খুবই প্রয়োজনীয়। আপনি যেভাবে শিশুদের সঙ্গে মিলে গাছ রোপণ করেছেন এবং তাদেরকে প্রাকৃতিক পরিবেশের গুরুত্ব বুঝিয়েছেন, তা এক চমৎকার উদাহরণ। এই স্মৃতিগুলি তারা কখনো না কখনো মনে রাখবে এবং তা তাদের জীবনের একটি সুন্দর দিক হয়ে উঠবে। আপনার লেখাটি ও ছবিগুলি দেখে খুব ভালো লাগলো, এবং এটি যে কেবল একটি শিক্ষামূলক কাজই নয়, বরং একটি সুন্দর স্মৃতিও হয়ে থাকবে, সেটি স্পষ্ট। আল্লাহ আপনার সকল কাজকে মঙ্গলময় করুন।