আজ সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত, কাটানো আমার কিছুটা সময়।

in Incredible India2 years ago

Monochrome Modern Fashion Photo Collage.png
Photo edited by canva

আজকের দিনটা যে আমার এভাবে কাটবে এটার জন্য তা আমি একদমই প্রস্তুুত ছিলাম না।চলুন কি হয়েছে বিস্তারিত শেয়ার করছি আপনাদের সাথে।

সকাল বেলায় আমি সুস্থ মানুষ টা ঘুম থেকে উঠেছি, উঠে হাতমুখ ধুয়ে অজু করে সৃষ্টিকর্তার নাম স্মরণ করলাম,এরপরে আপনারা দেখতে পাচ্ছেন এক মগ কফি নিয়ে বসেছি। কফির সাথে আপনারা কি রুটি খান? কিন্তুু আমি খাই, সকালের নাস্তা শেষ করলাম হাজবেন্ড অফিসে চলে গেল এবং যাওয়ার আগে তার সাথে কথা হলো আজ আমি একটু ডাক্তারের কাছে যাবো।

সে বললো, আমাদের বাসার পাশেই মাতৃমঙ্গল আছে ওখানে গিয়ে ডাক্তার দেখানোর জন্য,যেহেতু বড় কোন সমস্যা না তাই আর হসপিটালে যাওয়ার দরকার নেই। ইদানিং ঠান্ডা আমাকে চেপে ধরেছে এক সপ্তাহের বেশি হয়ে যাচ্ছে তবু ও ভালো হচ্ছে না। ঠিকমত কথা বলা, খাবার খাওয়া,এমন কি শ্বাস টা ও ঠিক মতো নিতে পারি না।

হাজব্যান্ড যাওয়ার পরে, আমি দুপুরের রান্নাটা ঝটপট করে নিয়েছিলাম, যেহেতু ডাক্তারের কাছে যাবো আসতে আসতে হয়তো বারোটার বেশি বেজে যাবে , তখন এসে আর রান্না করতে ইচ্ছা করবে না, সেই কথা চিন্তা করে দুপুরের জন্য মুরগির মাংস এবং লাউয়ের পাতা ভর্তা করে রাখলাম।

এরপরে মেয়েকে নিয়ে রেডি হয়ে চলে গেলাম,আমাদের বাসার পাশের ক্লিনি কে সেখানে গাইনি ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বসে,আমি ডাক্তারের চেম্বারে গিয়ে বললাম আমার সমস্যা টা,ডাক্তার আমাকে বলল হসপিটালে ভর্তি হওয়ার জন্য কারণ, আমি ঠান্ডায় ভুগছি প্রায় ১০ দিনের মত।

আমি নাক দিয়ে শ্বাস নিতে এবং ছাড়তে কোনটাই পাচ্ছিলাম না, এবং ডাক্তার সাথে সাথে পিলখানার যে গাইনি ওয়ার্ড আছে,ওখানে ভর্তি হওয়ার জন্য বললো,ও ফোন করলো ওনারা সাথে সাথেই একটা এম্বুলেন্স পাঠিয়ে দিল দুই মিনিটের মধ্যে।

আমি তো অবাক, কি হইতাছে আমার সাথে সুস্থ মানুষ টা হেঁটে আসলাম।আবার এটাও মনে করলাম ডাক্তার তো আর কিছু না বুঝে আমাকে ভর্তি হওয়ার কথা বলেননি। হাজবেন্ড এর কাছে সবকিছু ফোন দিয়ে বললাম, যেহেতু সে ওই হসপিটালে আছে, এরপরে এক মহিলা সৈনিকের সাথে আমি এম্বুলেন্সে করে চলে গেলাম।

ওখানে যাওয়ার পরে আমাকে প্রথমে অক্সিজেন দেওয়া হলো সেই সাথে কিছু ওষুধ দিলো,এবং অক্সিজেন দেওয়ার পরে আমার খুবই ভালো লাগছিলো,এবং নিজেকে অনেক হালকা মনে হচ্ছিলো খুব সুন্দর ভাবে শ্বাস ও নিতে পারছিলাম এই প্রথম আমি অক্সিজেন নিচ্ছি।

এর মাঝে আমার হাজব্যান্ড আসলো, সে আসার পরে আমি তাকে বললাম ডাক্তারের সাথে কথা বলে আমাকে বাসায় নিয়ে যাওয়ার জন্য কারণ, হসপিটালে থাকলে আমি আরো অসুস্থ হয়ে পড়বো, যে একটা গন্ধ যদিও খুবই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ছিলো তবুও আমার নাকে লাগছিলো।

এরপরে, তিনি ম্যাডামের সাথে কথা বললে এবং আমার সব রিপোর্ট দেখিয়ে, আমাকে নিয়ে বাসায় চলে আসলো। আমরা মাঝে মাঝে ভাবি এক হয়ে যায় আর এক। আমি তো কখনো কল্পনাই করতে পারিনি আমার এই অসুস্থতা দেখে ডাক্তার আমাকে ভর্তি দিবে এবং আমাকে অক্সিজেন দেওয়ার পরে আমি বেশ সুস্থতা বোধ করতে ছিলাম।

আমরা এত বেশি সংসার, সন্তান, স্বামী তাদের কাজে দায়িত্ব শীল হয়ে পড়ি। যে নিজের খেয়াল নিতেই ভুলে যাই , যদিও আমি একটু অলস টাইপের নিজের রোগ নিয়ে বেশ আলতা করি সব সময়,, তবে এমনটা করা কখনোই ভালো না এতে অনেক খারাপ দিকে যেতে পারে,,,।

আপনারা সব সময় খুবই সতর্কতার সাথে নিজেকে সুস্থ রাখবেন কারণ নিজেকে সুস্থ রাখাটা সবচেয়ে বেশি জরুরী।কখনো রোগকে ছোট করে দেখতে নেই ছোট রোগ থেকেই রোগ ধীরে ধীরে বড় হয়। যেমন টা আমার বেলা হয়েছে, হয়তো আমার এই ঠান্ডা সমস্যা তিন, চারদিনে এর মধ্যে ভালো হয়ে যেতে পারতো, তবে এতদিন হয়েছে শুধু নিজের অলসতার কারণে।

সে যাই হোক তবে এখন সুস্থ আছি এটাই অনেক শুকরিয়া।বাসায় আসতে আসতে প্রায় তিন টা, বলা যায় দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়ে এসেছে প্রায়। এরপরে,গোসল শেষ করে দুপুরের খাবার খেয়ে নিয়ে বেশ কিছুটা সময় রেস্ট নিয়ে ছিলাম।

এবং রেস্ট নিতে নিতে কিছুটা পোস্ট লিখছিলাম, তো আজ এখানে বিদায় নিব সবাই ভালো থাকবেন,, আল্লাহ হাফেজ।।।

Sort:  
Loading...
 2 years ago 

আপনার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কাজকর্ম তুলে ধরার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। সকালবেলা থেকে আপনি সুস্থই ছিলেন হঠাৎ করে নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। আসলে শ্বাসকষ্টের সমস্যা থাকলে এরকমটা হয় আমার শ্বশুরমশাই ও মাঝে মাঝে শ্বাসকষ্টের সমস্যা দেখা দেয় আবার গ্যাস নিলেই ঠিক হয়ে যায়। যাইহোক আপনি ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন এই কামনাই করি।

Coin Marketplace

STEEM 0.04
TRX 0.33
JST 0.102
BTC 63940.29
ETH 1801.37
USDT 1.00
SBD 0.39