খাট ও ডিপ ফ্রিজ কিনার কিছু মুহূর্ত।
আসসালামু আলাইকুম,
আলহামদুলিল্লাহ, শুরু করার আগেই সৃষ্টিকর্তার কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। বেশ ভালো সুস্থ আছি, প্রতিদিনের তুলনায় আজ অন্যরকম একটা পোষ্ট শেয়ার করবো। বলা যায় কিছু আনন্দ কিছু স্বপ্ন কিছু শখ এক সাথ করে আমার আজকের পোস্টটা লিখেছি।
আলহামদুলিল্লাহ, সংসারে প্রত্যেকটা জিনিসই রয়েছে কোন কিছুরই কম নেই, কিন্তুু একটা বাস্তব সত্যি কথা বলি, আমাদের মেয়েদের সংসারের যত কিছুই থাকুক না কেন তাদের প্রয়োজনে শেষ নেই।আর তাদের মধ্যে আমার শাশুড়ি আম্মা একজন। তিনি বেশ কিছুদিন ধরে একটা ডিপ ফ্রিজ কেনার জন্য। বেশ বলছিলো যদিও বাসায় ফ্রিজ রয়েছে একটা ডিপ ফ্রিজের প্রয়োজন ছিলো।
সেই সাথে আমি ও বায়না ধরেছি আমার পুরনো খাটটা কে বাদ দিয়ে নতুন একটা কেনার জন্য।শুধু একটা খারাপ কিনা হবে না আমাদের বাসায় বারান্দার জন্য আর একটা খাট প্রয়োজন।কিনতেই হবে। ছয় মাস ধরে ডিপ ফ্রিজ আর খাট কেনার কথা বলছিলাম।
কিন্তু আমার জানা মতে এ ব্যাপারে পুরুষরা একটু বেশি কিপটামি করে। হাজবেন্ডের কানের ভিতর অনেক দিন যাবত এই কথা বলে যাচ্ছিলাম।তবে কে শুনি কার কথা তার কথা হচ্ছে এগুলোর দরকার নেই ,,।আর দরকার নেই এটা বলার পিছনে একটা কারণ ও আছে, কারন আমার বর্তমান খাটের পিছনে রয়েছে অনেক বড় একটা ইতিহাস ,,বর্তমানে আমি যে খাটে ঘুমাই এটা এক সময়ের পালং ছিলো,আমার দাদি শাশুড়িকে তার শ্বশুর তৈরি করে দিয়েছিলো, বিশাল বড় একটা খাট কারু কাজের নকশায় ভরা ছিলো একটা সময়, এত বড় ছিলো যে সিঁড়ি দিয়ে উঠতে হতো, এই খাট কত বছর আগে যে তৈরি করা হয়েছে তা আমি নিজেও জানিনা আমার শাশুড়ি ও ঠিকমতো বলতে পারবেনা।
আমার দাদি শাশুড়ির শ্বশুর তৈরি করে দিয়েছিল তাকে, তার বিয়ের সময় এরপরে আমার শাশুড়ি থেকেছে তারপরে আমি ,,।আমার দাদা শ্বশুর ছিলো একজন সুতার ব্যবসায়ী আর এই খাটের নিচে ছিল তার গোপন জায়গা। এরপর আমার দাদি শাশুড়ি খাটে ছিলো,এরপর আমার শাশুড়ি তারপরে আমি।
এর মাঝে দীর্ঘ একটা সময় কেটেছে আমার বিয়ের বয়সও বেশ কয়েক বছর হয়ে গিয়েছে তবে, দেখলে মনে হবে খাট তবে আগের মত অত সুন্দর এবং মজবুত নেই।আর কত বছরই বা ভাল থাকবে, তাই চিন্তা করছি নতুন করে একটা খাট কেনার জন্য, যদিও আমাদের বিশাল বড় বড় গাছ আছে তবে এগুলো কেটে দোকানে নিয়ে গিয়ে তৈরি করতে দেওয়া অনেক সময় সাপেক্ষ এবং লোকের ব্যাপার, যেহেতু আমি এবং আমার শাশুড়ি বাসায় একাই তাই চেষ্টা করছি কিনে নেওয়া।
এরপর হাজব্যান্ড কে ভালোভাবে বুঝিয়ে রাজি করলাম, আর রাজি হওয়ার পরেই আজ আমরা চলে গিয়েছিলাম এগুলো কেনাকাটা করার জন্য যেহেতু আর কিছুদিন পরে কোরবানির ঈদ তাই এর আগেই ডিপ ফ্রিজটা কেনার ইচ্ছা, এরপরে আজকে বিকালে বাজারে গিয়েছিলাম সেখানে গিয়ে কয়েক টা দোকান দেখে প্রথমে খাট কিনলাম।তারপর ওয়ালটন শোরুমে গেলাম সেখান থেকে পছন্দ মত একটা ছোট খাটোর মধ্যে ডিপ ফ্রিজ কিনলাম। ১৪৫ লিটার ডিপ ফ্রিজের দাম পড়েছিলো ২৬ হাজার টাকা , ২০০০ টাকার মতো উনটা ডিসকাউন্ট দিয়েছিলো।।
এরপরে আমরা সবকিছু নিয়ে বাসায় চলে আসি, সবকিছু মিলিয়ে প্রায় ৫০০০০ হাজার টাকার মত কেনাকাটা করেছি মাত্র ২ ঘন্টার ব্যবধানে এতগুলো টাকা শেষ,, এই টাকা গুলো ম্যানেজ করতে সময় লেগেছে, কিন্তু ভেঙ্গে ফেলতে দুই মিনিট লাগে না,, কি আজব ব্যাপার তাই না..
এরপরে কি আনন্দের সাথে বাসায় চলে আসি, যাইহোক এত দিনের পরিকল্পনা টা আজ সত্যিতে রূপান্তিত করতে পেরেছি তাতে ভালো লাগছে। তাই তো ভালো লাগে আর কিছু মুহূর্ত আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম।।
সবাই ভালো সুস্থ থাকবেন আল্লাহ হাফেজ।।।
আপনার অনেক দিনের ইচ্ছে ছিল বাড়িতে খাট ও ফ্রিজ কেনার। সংসারে আমাদের নিত্য নতুন জিনিসের প্রয়োজন লেগেই থাকে তবে আমি সংসারে যদি কোন নতুন জিনিস কিনি তাহলে খুব আনন্দ হয় আপনারও নিশ্চয়ই নতুন জিনিস কিনতে পেরে খুব আনন্দ হয়েছিল। দুটো জিনিস কিনতে আপনাদের প্রায় ৫০০০০ হাজার টাকা বেরিয়ে গেছে। জিনিস কেনার সুন্দর মূহুর্ত শেয়ার করার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।