আমার কাটানো একটি সুন্দর দিন।
আসসালামু আলাইকুম আশা করছি সবাই ভালো ও সুস্থ আছেন, আমিও বেশ ভালো আছি আলহামদুলিল্লাহ তবে, বড্ড ব্যস্ত হয়ে পড়ছি দিন দিন,তবুও ভালো লাগে যখন হাজারো ব্যস্ততার মাঝে একটু হলেও আপনাদের সাথে আমার কার্যক্রম গুলো শেয়ার করতে পারি তখন ,,। গত পোস্টে হয়তো বা জেনেছেন আমি বাবার বাড়িতে যাব, হ্যাঁ বাবার বাড়িতে এসেছি আজ দুদিন হয়ে গিয়েছে,,।
অনেক দিন পরে এসেছি তাই সবার সাথে দেখা আনন্দ করে বেশ ভালই লাগছিলো, যদিও একটা শূন্যতা কাজ করছিলো, কারণ হাজব্যান্ড এত কষ্ট করে আমাদের ভালো রাখার জন্য আজ ঈদ উপলক্ষে বাবার বাড়িতে যাচ্ছি সেই পাশে নেই।
তো দুদিন পরে আজ বাবার বাড়ি তিন দিন চলে ঠিক করেছে আগামীকাল বাবার বাড়ি থেকে শ্বশুর বাড়িতে যাবো, বাবার বাড়ি আসলে খাবার দাবার রেস্ট নেওয়ার কোন কিছুর কমতি থাকে না, সকাল বেলায় ভাই আমার আমার পছন্দের কাচ্চি বিরিয়ানি রান্না করলো,এই নিয়ে দ্বিতীয় বার রান্না করেছে, সত্যি কথা বলতে এত বেশি মজা হয়েছিল মনে হয় অনেক দিনের আগের অভিজ্ঞতা,,।
সকাল বললে ভুল হবে তখন প্রায় এগারো টা বাজে তখনই আমরা সবাই খাবার খেয়েছিলাম, আজ এরপরে মেয়ে কে নিয়ে গিয়ে ছিলাম ডাক্তারের কাছে, ভিতরে ভিতরে বেশ চিন্তিত আমি কারণ মেয়ের টনসিল বেড়েছে ঠিক মত কিছু খেতে পারে না এবং কয়েক দিন পর পর জ্বর আসে।
তাই আমি আব্বু আম্মু এবং আমার ভাই বাচ্চাদের কে নিয়ে গিয়েছিলাম ডাক্তার দেখানোর জন্য। এত ছোট বাচ্চা ঠিক মত কিছু খেতেও পারে না, কি একটা টেনশনের মধ্যে আছি যে টা বোঝানো সম্ভব নয়। ডাক্তার বসবে দুইটা বাজে তাই আমরা ওই রকম টাইমে গিয়েছিলাম।
যাওয়ার সময় আমরা কিছু ছবি তুলছিলাম যেগুলো দেখে সত্যি বেশ ভালো লাগছিল, আব্বু আম্মুর সাথে আমার ছেলে মেয়ে, এরপর মেয়েকে ডাক্তার দেখানো শেষ করলাম ওষুধ নিয়ে, মেয়ের জন্য জুতা কিনলাম, আমার মেয়ে এত বেশি জুতার প্রয়োজন হয়,, কি আর বলবো মাঝেমধ্যে মনে হয় আমি একটা জুতার দোকান দেই।
ডাক্তারের কথা শুনে কিছুটা ভালো লাগছিল এবং একটা ভরসা ও তখন পেয়ে ছিলাম , এরপরে আমরা সবাই মিলে বাসায় চলে আসি ,, তখন বিকাল চারটা বাজে।হঠাৎ করেই হাজবেন্ড ফোন দিলো,বলতো তুমি কি আজ বাড়িতে যাবা।আমি একটু অবাক হয়ে বললাম কেন, হঠাৎ এই প্রশ্ন, আমি বললাম না আগামীকাল যাব ভাবতেছি। তবে তুমি বললে আমি আজই যেতে পারি এই বলার সাথে সাথে বললো ফোন রাখছি আমি দশ মিনিট পরে ফোন দিতেছি।
এরপরে আমি,ওখানে বসে চিন্তা করতে লাগলাম হঠাৎ করে এই কথা কেন বললো, মনে হয় দশ মিনিটও পার হয়নি এর মাঝেই আমাদের বাসায় এসে হাজির। তখন সে ছিলো আমাদের বাজারে আর আমাদের বাজার থেকে বাড়িতে আসতে পাঁচ মিনিটের বেশি লাগে না।
হঠাৎ, এভাবে আমি তাকে দেখে সত্যিই একটু অবাক হলাম যে মানুষটা এক সপ্তাহ আগে ছুটি থেকে চাকরি তে গিয়েছে সে কিভাবে এখন আবার বাড়ি আসতে পারে।তবে, মনে মনে কিন্তুু বেশ আনন্দ দিতেই হয়েছিলাম, এত কষ্টের মাঝেও ঈদের পরে হলেও পরিবারের সাথে একটু আনন্দ ভাগ করতে আসতে পেরেছে।।
এরপরে থাকে, খাবার দিলাম খাওয়া-দাওয়া শেষ করলো,খানিক টা সময় কাটানোর পরে বললো চলো বাড়ি যাই যেহেতু তিন দিনের ছুটি। কি আর করার আমিও না করতে পারলাম না, আমার আর একটা দিন বেশি থাকা হলো না, এরপরে হাজবেন্ডের সাথে শ্বশুর বাড়িতে চলে আসি।
বাড়িতে আসার পর শ্বশুর বাড়ির সবাই তো অবাক হঠাৎ করে সে বাড়িতে আসলো কেউকে না বলে এক প্রকারের সারপ্রাইজ , আসতে আসতে প্রায় সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছিলো,সব মিলিয়ে খুব সুন্দর একটা দিন কেটেছে আজ ,, সকাল বেলা আব্বু আম্মুর সাথে একটু ঘুরতে যাওয়া, তারপরে আবার মজার খাবার খাওয়া, এরপরে কাছের মানুষটা কে নিয়ে বাড়ি ফেরা।
সত্যি ভাবি নি আজকের দিনটা এভাবে যাবে খুব ভালো লেগেছে আমার কাছে আলহামদুলিল্লাহ। যাই হোক সবাই ভাল সুস্থ থাকবেন আল্লাহ হাফেজ।।
ঈদের সময় কিংবা পরে মেয়েদের বাবার বাড়িতে যাওয়ার মতো আনন্দের আর কিছু হয় না। আর বাবার বাড়িতে যাওয়া মানেই ইচ্ছেমতো খাওয়া ও বিশ্রাম। এমনকি বাচ্চাদের দায়িত্বও অনেকটাই কমে যায়। আপনাদের সবাইকে অনেক সুন্দর দেখাচ্ছে ছবিতে। আর বাবাটাও অনেকটা বড়ো হয়ে গেছে মাশাল্লাহ।
ভাই আপনাদেরকে ভালোই সারপ্রাইজ দিয়েছেন হঠাৎ করে এসে। খুব ভালো লাগলো আপনার দিনলিপি পড়ে। ভালো থাকবেন ।
মাঝেমধ্যে এরকম সারপ্রাইজ হইতে খুব ভালো লাগে ,,
সংসারের হাজারো চাপ কাজকর্ম বাচ্চা দেখাশোনা করা এরপরে যদি এমন আনন্দ পাওয়া যায় তাহলে কিন্তু মন্দ লাগেনা।। বাবার বাড়িতে ছিলাম তারপরে আবার এত আনন্দ তাই সব মিলিয়ে আমার ওই দিনটা ভীষণ ভালো কেটেছিল। তার বাবার বাড়ি গেলে তো কথাই নেই বাচ্চাদের দেখাশোনা আমার মায়ের করে,,আর ওই দিনগুলো না কেমন যেন খুব দ্রুত চলেও যায়।।